kalerkantho

এক দুই তিন

এ বছর গ্র্যামিতে সাতটি ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পেয়েছিলেন, তিনটি ক্যাটাগরিতে জিতেছেন চ্যান্স দ্য র‍্যাপার! মাত্র ২৩ বছর বয়সেই সংগীতের এমন মর্যাদাপূর্ণ আসরে তিনটি পুরস্কার হাতে তোলা চাট্টিখানি কথা নয়! লিখেছেন সাজ্জাদ হোসেন

২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



এক দুই তিন

আসল নাম চ্যান্সেলর জোনাথন বেনেট। এই নামে অবশ্য তাঁকে অনেকেই চিনবেন না। কারণ তিনি পরিচিত ‘চ্যান্স দ্য র‍্যাপার’ নামে। বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা উদীয়মান র‍্যাপার। তাঁর নেপথ্য গুরু কেনি ওয়েস্ট। ২০০৪ সালে বের হওয়া কেনির প্রথম অ্যালবাম ‘দ্য কলেজ ড্রপ আউট’ কিনে সবগুলো গানই উল্টেপাল্টে শুনেছিলেন চ্যান্স। ব্যস, র‍্যাপসংগীতের প্রেমে পড়ে গেলেন। নিজেকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেললেন র‍্যাপের সঙ্গে। স্বীকৃতি হিসেবে মাত্র ২৩ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো গ্র্যামি জিতলেন। তা-ও আবার একটি-দুটি নয়, তিন-তিনটি ক্যাটাগরিতে—‘বেস্ট নিউ আর্টিস্ট’, ‘বেস্ট র‍্যাপ পারফরম্যান্স’ ও ‘বেস্ট র‍্যাপ অ্যালবাম’-এর পুরস্কার। এবারই প্রথম বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে অ্যালবামের জন্য গ্র্যামি দেওয়া হলো।

এই তিনটিসহ মোট সাতটি ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পেয়েছিলেন।

২০১১ সালে চ্যান্স রেকর্ড করেন নিজের প্রথম র‍্যাপগান ‘টেন ডেজ’। কিছুদিন আগেই কলেজে গাঁজাসহ ধরা পড়ায় ১০ দিনের জন্য বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। তখনই গানটি তৈরি করেছিলেন বলে নাম ‘টেন ডেজ’। সে বছরের শেষ দিকে ‘উইন্ডোজ’ নামে একটি গান করেন, যে গান দিয়ে নিজ শহর শিকাগোর র‍্যাপারদের নজর কাড়েন।

২০১২ সালে প্রকাশ করেন প্রথম একক অ্যালবাম। চ্যান্স অবশ্য অ্যালবাম বলেন না, বলেন মিক্স টেপ। প্রথম গানের নামানুসারে নাম দিলেন ‘টেন ডেজ’। গান ডাউনলোড করার ওয়েবসাইট ‘ডাটপিফ’ থেকে অ্যালবামটি ডাউনলোড হয় চার লাখ বারেরও বেশি। পরের বছর বের করেন নিজের সবচেয়ে আলোচিত অ্যালবাম ‘এসিড র‍্যাপ’। ডাউনলোড হয় ১০ লাখ বারেরও বেশি। গান শোনার ওয়েবসাইট সাউন্ড ক্লাউডে এই অ্যালবামের সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্র্যাক ছিল ‘ফেভারিট সং’, যেখানে চ্যান্সের সঙ্গে ছিলেন আরেক জনপ্রিয় র‍্যাপার চাইল্ডিশ গাম্বিনো।

শুধু র‍্যাপ নিয়েই পড়ে থাকতে চাননি চ্যান্স। ২০১৫ সালে তাই যোগ দেন ‘ডোনি ট্রাম্পপেট অ্যান্ড দ্য সোশ্যাল এক্সপেরিমেন্ট’ নামে শিকাগোভিত্তিক একটি গানের দলে। বের করেন ‘সার্ফ’ নামের একটি অ্যালবামও। চ্যান্স র‍্যাপার হিসেবে ভোকাল দিলেও অ্যালবামটি ছিল জ্যাজ। তার আগের বছর ছেলেবেলার নায়ক কেনি ওয়েস্টের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান! ‘দ্য লাইফ অব পাবলো’ শিরোনামের অ্যালবামটি আলোর মুখ দেখে ২০১৬ সালে, যে বছর চ্যান্স ঝড় তোলেন তাঁর ‘কালারিং বুক’ অ্যালবাম দিয়ে। এই অ্যালবামের ‘নো প্রবলেম’ গানটির মাধ্যমে রেকর্ড লেবেলের প্রতি উগরে দিয়েছেন নিজের সব রাগ-ক্ষোভ! আগের অ্যালবাম দুটির মতো এটিও ছেড়েছেন ইন্টারনেটে। এটি গত বছরের অন্যতম সেরা অ্যালবাম। চমক দেখিয়েছে গ্র্যামিতেও। ড্রেক, কেনি ওয়েস্ট, ডিজে খালেদ, ডি লা সউলদের মতো নামকরা সব র‍্যাপারকে পেছনে ফেলে এটি জিতে নিয়েছে ‘বেস্ট র‍্যাপ অ্যালবাম’-এর পুরস্কার।

অবাধে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের তীব্র বিরোধী এই শিল্পী। নিজ শহর শিকাগোতে আগ্নেয়াস্ত্রবিরোধী নানা ক্যাম্পেইন করে চলেছেন। ২০১৪ সালে ‘সেভ শিকাগো’ নামের একটি ক্যাম্পেইন গড়ে তোলেন, যার উদ্যোগে টানা ৪২ ঘণ্টা শিকাগোতে একটি গুলির ঘটনাও ঘটেনি। সে বছরই চ্যান্সকে শিকাগোর ‘আউটস্ট্যান্ডিং ইয়ুথ অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করেন শহরটির মেয়র রাম এমানুয়েল।


মন্তব্য