kalerkantho


গানওয়ালা মেহেদী হাসান

নিজের নামের আগে ‘গানওয়ালা’ যোগ করে নিয়েছেন ‘সেরাকণ্ঠ’ মেহেদী হাসান। কিন্তু কেন? জানাচ্ছেন রবিউল ইসলাম জীবন

২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০




গানওয়ালা মেহেদী হাসান

“মেহেদী হাসান নামটা অনেক কমন। ‘সেরাকণ্ঠ’ খ্যাত আরেকজন আছে এই নামে। ইউটিউবে গেলে দেখা যায়, একই নামে অনেক শিল্পী! বেশ বিড়ম্বনায় পড়ছিলাম। তাই নিজের নামের আগে ‘গানওয়ালা’ যোগ করেছি। এখন থেকে সবাই আমাকে এই নামেই চিনবেন’—বলছিলেন গানওয়ালা মেহেদী হাসান। ‘গানওয়ালা’ শব্দটি বাছাইয়ের কারণও জানালেন, “গান গাওয়ার কারণে ছোটবেলা থেকেই আত্মীয়-স্বজন আমাকে আদর করে ‘গানওয়ালা’  ডাকত। গত বছর প্রকাশিত আমার প্রথম একক ‘আয় না ফিরে’তে ‘গানওয়ালা’ শিরোনামে একটি গান লিখে দেন আমিরুল স্যার (ছড়াকার আমিরুল ইসলাম)। সেটির প্রথম দুই লাইন—‘পথে পথে পথে ঘুরে ঘুরে গেয়ে যাই গান/আমি এক গানওয়ালা মেহেদী হাসান’। নামটি রাখার ক্ষেত্রে এ বিষয়টিও কাজ করেছে। ”

জন্ম রাজশাহীতে। তৃতীয় শ্রেণিতে থাকতে গান শিখতে ভর্তি হন স্থানীয় শিশু একাডেমিতে।

ষষ্ঠ শ্রেণিতে উঠে রাজশাহী শিল্পকলা একাডেমীতে। একাডেমির ওস্তাদ রবিউল হোসেনের কাছে ক্লাসিক্যাল শেখেন দীর্ঘদিন। এরপর বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় নাম লেখাতে থাকেন। ২০০৪ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত টানা চারবার জাতীয় শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতায় রাজশাহী বিভাগে প্রথম হন নজরুলসংগীত ও আধুনিক গানে। ঘরে তোলেন আরো অনেক পুরস্কার। ‘স্কুলে থাকতে প্রতি বৃহস্পতিবার ছুটির পর আমাকে নিয়ে আলাদা একটি ক্লাস হতো। সেই ক্লাসে সব শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আমার গান শুনত। এলাকায় গানের কোনো অনুষ্ঠান হলেও সবাই আমাকে ডাকত’—বলছিলেন মেহেদী হাসান।

২০০৮ সালে ‘সেরাকণ্ঠ’ প্রতিযোগিতার প্রথম আসরে নাম লেখান এসএসসি পরীক্ষার্থী মেহেদী। সেরা বিশে গিয়ে বাদ পড়ে যান। তবে দমে যাননি। ২০১০ সালে আবার নাম লেখান। সবাইকে চমকে দিয়ে হয়ে যান দ্বিতীয় রানার আপ! তবে প্রথম মৌলিক গান বের করতে চার বছর অপেক্ষা করতে হয়। ‘মাহিয়া’ শিরোনামের তাঁর প্রথম গানটি আসে সিডি চয়েস থেকে, একটি মিক্সড অ্যালবামে। পরের বছর বাসুদেব ঘোষের সুরে বাবাকে নিয়ে একটি গানে কণ্ঠ দেন। গত বছর গানচিল মিউজিক থেকে বের হয় প্রথম একক ‘আয় না ফিরে’। অ্যালবামের টাইটেল এবং ‘দুচোখের খামে’ গানটি ভিডিও আকারেও প্রকাশ করেন।

চলতি সপ্তাহে ধ্রুব মিউজিক স্টেশনের ব্যানারে এসেছে দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ‘আলোড়ন’। গান রয়েছে আটটি। সব গানের সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন নিজেই। বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে গানের সঙ্গে থাকতে থাকতে সুর এবং সংগীত পরিচালনার আইডিয়া মাথায় এসেছে। ভাবলাম নিজেকে দিয়েই শুরু করি। গানগুলো যাঁরা শুনছেন সবাই উৎসাহ দিচ্ছেন। আমার স্বপ্ন গাওয়ার পাশাপাশি সুরকার-সংগীত পরিচালক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হওয়া। ’ এরই মধ্যে ‘আলোড়ন’ গানটির ভিডিও তৈরি করেছেন। তাঁর সঙ্গে মডেল হয়েছেন সায়রা। কয়েক দিনের মধ্যে ভিডিওটি ইউটিউবে প্রকাশ করা হবে, দেখা যাবে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলেও।

প্লেব্যাকও করেছেন। অভিষেক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের হাত ধরে। এরপর ইমন সাহা ও বিনোদ রায়ের সুরে একটি করে গানে কণ্ঠ দেন। চলচ্চিত্রে তাঁর গাওয়া শেষ গানটি রবীন্দ্রনাথের ‘আধেক ঘুমে’। বলেন, ‘যখন বুঝতে শিখেছি, তখন থেকেই স্বপ্ন ছিল চলচ্চিত্রে গাওয়ার। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এই মাধ্যমে নিয়মিত হতে চাই। এ জন্য সুযোগের প্রয়োজন। ’

স্টেজেও গেয়ে চলেছেন বিবিএ করা এই গায়ক। দেশে অনেক অনুষ্ঠানেই শোনা গেছে তাঁর কণ্ঠ। গান করেছেন ফ্রান্স, দুবাই, কাতার ও ভারতে গিয়েও। বলেন, ‘এই অঙ্গনে কেউ কেউ অনেক সহজে সব কিছু পেয়ে যায়, আবার কাউকে টিকে থাকতে হলে অনেক কষ্ট করতে হয়। আমি দ্বিতীয় দলে। স্বপ্নটা ছোঁয়ার জন্য অনেক পরিশ্রম করছি। আমার বিশ্বাস, একদিন সফল হব। ’


মন্তব্য