kalerkantho


নূতনের কেতন

এশিয়াটিক থেকে ওয়ার্নার ব্রাদার্সে

হলিউডে কাজ করার ইচ্ছা তাঁর ছোটবেলা থেকেই। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার ছোট্ট একটি দেশে থেকে হলিউডে গিয়ে কাজ করার বিশ্বাসটা যে একটু বাড়াবাড়ি, তা ভালো করেই জানতেন ইশতিয়াক আহমেদ অনিক। তাঁকে নিয়ে লিখেছেন আনিকা জীনাত

২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



এশিয়াটিক থেকে

ওয়ার্নার ব্রাদার্সে

মাত্র তিন বছর বয়সেই বাবাকে হারিয়েছেন। মা আর তিন ভাইকে নিয়ে বেড়ে উঠেছেন ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকায়। সিনেমা বানানোর আগ্রহ নিয়ে ভর্তি হলেন আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এআইইউবি) মিডিয়া ও মাস কমিউনিকেশন বিভাগে। সেখানে পড়তে গিয়ে ক্লাস প্রজেক্টের জন্য কিছু তথ্যচিত্র আর স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি তৈরি করেন। তখন থেকেই সিনেমা বানানোর হাতেখড়ি। ক্যামেরা হাতে বড় কিছু করার স্বপ্নে ছেদ পড়ে চাকরিজীবনে প্রবেশ করার পর। এশিয়াটিকে অ্যাকাউন্ট সার্ভিস এক্সিকিউটিভ হিসেবে এক বছর কাজ করার পর ২০১৪ সালে পাড়ি জমান কানাডার টরন্টো শহরে।

টিকে থাকার যুদ্ধে সেখানে গিয়ে তাঁকে কাজ করতে হয়েছে দোকানেও। কোনোমতে দিন পার করাটাই যেখানে কঠিন, সেখানে সিনেমা বানানোর স্বপ্ন দেখাটা অনেকটা দিবাস্বপ্নের মতো। তবে টরন্টো থেকে যখন ভ্যাংকুভারে বেড়াতে গেলেন, তখনই দেখতে পেলেন সম্ভাবনার হাতছানি। প্রায় সময়ই দেখতেন সেখানে শুটিং চলছে।

শুটিং সেটের আশপাশে ঘোরাঘুরি করতে লাগলেন। একদিন সাহস নিয়ে দাঁড়ালেন শুটিং টিমের সদস্যদের সামনে। তাদের সঙ্গে কাজ করার সুপ্ত বাসনার কথা মুখ ফুটে বলে ফেললেন প্রডাকশন ম্যানেজারকে। ঘুরে গেল জীবনের মোড়। সেলসের চাকরি ছেড়ে তল্পিতল্পা গুটিয়ে চলে এলেন ভ্যাংকভার। প্রডাকশন অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে যোগ দিলেন লাইট ক্যামেরা   অ্যাকশনের দুনিয়ায়।

একটা সময় ছিল, যখন প্রায়ই গুগলে সার্চ দিয়ে বুঝতে চেষ্টা করতেন কিভাবে হলিউডের বিখ্যাত কম্পানি ওয়ার্নার ব্রাদার্সের হয়ে কাজ করা যায়। এখন সেই ওয়ার্নার ব্রাদার্সেরই স্টুডিও লায়নসগেটে গিয়ে চুক্তিপত্রে সই করে ছোটবেলার স্বপ্ন ছুঁয়ে ফেললেন অনিক। যুক্ত হয়েছেন ওয়ার্নার ব্রাদার্সের ব্যানারে নির্মিত টিভি সিরিজ ‘ফ্ল্যাশ’-এর সঙ্গে।

কঠোর পরিশ্রম ও প্রবল ইচ্ছাশক্তির জোরে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই পদোন্নতি পেয়ে হয়ে যান চিফ প্রডাকশন অ্যাসিস্ট্যান্ট। পরিচালকের নির্দেশনায় অভিনয়শিল্পীদের সব কিছু পরিচালনা ও তত্ত্বাবধান করাটাই তাঁর মূল কাজ। স্বপ্নের এই জগিট প্রতিনিয়তই তাঁকে নতুন নতুন অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। শুটিং থাকলে ঘুম থেকে উঠতে হয় ভোর ৪টায়। টানা ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা কাজ করার পর অবসর বলে আর কিছু থাকে না। পরিশ্রমের মাত্রা আরো বেড়ে যায়, যখন ঝোড়ো বাতাস, বৃষ্টি ও বরফের মধ্যেও কাজ করতে হয়। তবু স্বপ্নের জগতে কাজ করার আনন্দে  ডুবে থাকেন প্রতিটি মুহূর্ত।

মাসখানেক আগে দেশে এসেছেন ছুটি কাটাতে। শিগগিরই কানাডায় ফিরে যোগ দেবেন ‘ডেডপুল টু’ ছবির শুটিংয়ে। হাতে আছে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি টিভি শোতে কাজ করার প্রস্তাব। অনিকের স্বপ্ন পূর্ণাঙ্গ পরিচালক হওয়ার। জানেন, স্বপ্ন পূরণ করতে হলে তাঁকে পাড়ি দিতে হবে আরো অনেকটা পথ। সে পথেই হেঁটে চলেছেন।


মন্তব্য