kalerkantho


আসছে ভুবন মাঝি

কাল সারা দেশে মুক্তি পাবে ফাখরুল আরেফীন খানের ‘ভুবন মাঝি’। নহির বাউলের এই বায়োপিকের প্রধান তিনটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, অপর্ণা ঘোষ ও মাজনুন মিজান। ছবিটি নিয়ে লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



আসছে ভুবন মাঝি

ছবির একটি দৃশ্যে সহশিল্পীদের সঙ্গে পরমব্রত ও মাজনুন মিজান

কথা ছিল ছবির প্রধান তিন অভিনয়শিল্পীকে নিয়ে আড্ডা হবে। কিন্তু পরমব্রত সময়মতো বাংলাদেশে আসতে পারলেন না।

এই লেখা যখন প্রকাশিত হবে, তখন হয়তো তিনি ঢাকায় থাকবেন। কারণ ১ মার্চ তাঁর আসার কথা। সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও অপর্ণা আর মিজানের কল্যাণে আড্ডায় ছিলেন পরমও।

‘ভুবন মাঝি’র পটভূমি ১৯৭০ সাল। বিদ্রোহ, মানবিকতা, প্রেম, ইতিহাস, সংগ্রাম, সংস্কৃতি—এসবই ছবির বিষয়বস্তু। নহির বাউলের জীবনের সঙ্গে যাঁরা জড়িয়ে ছিলেন, সেই ফরিদা, মিজান, সোহেল, শিপ্রা, আসলাম—সবাই আছেন ছবিতে। নহির বাউলের ধ্যান-জ্ঞান ছিল থিয়েটার আর চাচাতো বোনের বন্ধু ফরিদা। এই ফরিদার কল্যাণেই স্বাধীনতাসংগ্রাম আর বাংলাদেশের জন্মের ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে যায় নহির। সত্তরের সাধারণ নির্বাচনের আগে আগে কুষ্টিয়ায় ডিগ্রি পরীক্ষা দিতে আসে নহির।

নির্বাচন বা স্বাধীনতা আন্দোলন কোনোটাই তখন তাকে বিচলিত করতে পারেনি। পেরেছে একমাত্র ফরিদাই।

ছবিতে নহির হয়েছেন পরমব্রত, আর ফরিদা হয়েছেন অপর্ণা। শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা বলেন অপর্ণা, ‘প্রায় দেড় মাস কুষ্টিয়া শহরে শুটিং করেছি। এর মধ্যে খুব কমই মনে হতো আমি অপর্ণা, নিজেকে ফরিদাই মনে হতো। আমরা ফরিদার বাড়িতে শুটিং করেছি। তাঁর মতো শাড়ি পড়েছি, হেঁটেছি, কথা বলেছি। মনে হলে এখনো নস্টালজিক হয়ে পড়ি। এটা তো শুধু সিনেমা নয়, এটা ইতিহাসের এক টুকরা। ’

এমন গল্প নিয়ে সিনেমা করার জন্য পরিচালকের গুণ গাইলেন মিজান চরিত্রের অভিনেতা মাজনুন মিজান—“এটা ফাখরুলের দ্বিতীয় ফিচার ফিল্ম। তিনি মূলত তথ্যচিত্রের জন্য বিখ্যাত। তাঁর তথ্যচিত্র ‘আল-বদর’ জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছে। ‘হক-এর ঘর’ ও ‘দ্য স্পিচ’ তাঁর আরো দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। সব সময় মুক্তিযুদ্ধ নিয়েই ক্যামেরার পেছনে দাঁড়াতে চান। তারই ধারাবাহিকতায় ‘ভুবন মাঝি’। ”

পরিচালকের প্রশংসা অপর্ণার কণ্ঠেও—‘একটা প্রপার টিমের সঙ্গে কাজটা করতে পেরেছি। সিনেমার টিম এমনই হওয়া উচিত। পরিচালক খেয়াল রাখতেন আমি কোন ঘড়িটা পরব, কোন পাড়ের শাড়িটা পরব। এটা তো পিরিয়ড ফিল্ম, একটুও হেরফের হওয়ার সুযোগ নেই। অনেক দিন ধরে তিনি এই ছবির গল্প সংগ্রহ এবং চর্চা করেছেন। ’

মিজানের সঙ্গে পরিচালকের পরিচয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই। ছিলেন ব্যাচমেট, মিজান ভূগোলের ছাত্র আর ফাখরুল ইতিহাসের। অনেক আড্ডা দিয়েছেন ক্যাম্পাসে। মাঝখানে অনেক দিন দেখা-সাক্ষাৎ ছিল না। হঠাৎ একদিন মিজানের সঙ্গে দেখা করে ফাখরুল জানালেন, একটা সিনেমা বানাব, আপনার একটা চরিত্র আছে। মিজান বলেন, ‘এই যে আমি এত এত অভিনয় করছি, কয়টা কাজ বেঁচে থাকবে? এমন একটা কিছু করতে চাইছিলাম, যেটা বেঁচে থাকবে অনেক দিন। এই ছবিটা আসলে তেমনই একটা সিনেমা। ’

পরিচালকের পর আড্ডার বিষয় এবার পরমব্রত। শুরু করলেন অপর্ণা, ‘তিনি এত জনপ্রিয় অভিনেতা, কিন্তু কাছ থেকে খুবই সাধারণ। এই যেমন স্থানীয় খাবার খেতে খুব পছন্দ করতেন। যেখানে-সেখানে বসে আড্ডা দিয়েছেন। যত ক্লান্তিই ভর করুক, সবার সঙ্গে কথা বলেছেন মুখে হাসি মেখে। পরিচালক আমাকে যখন এই ছবি অফার করলেন তখন পরমের কথা শুনে ভীষণ এক্সাইটেড ছিলাম। শুটিংয়ের ফাঁকে অনেক কথা হয়েছে আমাদের, জেনেছি অনেক কিছুই। প্রতিদিন শুটিং শেষে সন্ধ্যার পর আড্ডা দিতাম। আর তিনিই হতেন আড্ডার মধ্যমণি। তাঁর গান শুনতে শুনতে কখন যে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত গড়িয়ে যেত, টেরই পেতাম না। অনেক ভালো গাইতে পারেন। এই ছবিতেও তাঁর কণ্ঠে গান আছে। ’ মিজানও গাইলেন পরমব্রতর গুণগান—‘মানুষ যত বড় হয় তত বিনয়ী হয়, তাঁর সঙ্গে চলে নতুনভাবে তা জানলাম। তিনি যত বড় অভিনেতা, তার চেয়েও বেশি বিনয়ী। তাঁর সঙ্গে আমার বেশ কিছু দৃশ্য আছে ছবিতে। কলকাতার রাস্তায় ওই সময়কার পোশাক পরে হেঁটেছি। আমরা গঙ্গায় শুট করছিলাম। দুজনই নৌকায় ছিলাম, কিভাবে যেন নৌকাটা ঘুরে গেল। একটুর জন্য বড় কোনো বিপদ হলো না। নৌকা উল্টে যাওয়ার আশঙ্কাও ছিল। ’ কুষ্টিয়ার শুটিংয়েও খুব মজা হয়েছে। ছুটির দিনে স্থানীয়দের সঙ্গে ক্রিকেট খেলত ইউনিটের সদস্যরা। পরমব্রত আর মিজান দুই দলের অধিনায়ক হতেন। হার-জিত নিয়েও চলত বাজি।

ছবি মুক্তির আগে জোরেশোরে চালাচ্ছেন প্রচারণা। অনলাইন থেকে শুরু করে ছোট-বড় শহর ঘুরছেন কলাকুশলীরা। একটা আক্ষেপের কথা বললেন অপর্ণা, ‘মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নিয়মিত চলচ্চিত্র হচ্ছে, এটা ভালো ব্যাপার; কিন্তু ছবিগুলো দেখতে তরুণরা হলে যাচ্ছে না। আমার মনে হয়, প্রচারের অভাবে মুক্তিযুদ্ধের গল্পের ছবিগুলো পিছিয়ে পড়ে। এমন চিন্তা থেকেই আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণদের কাছে যাচ্ছি। ’


মন্তব্য