kalerkantho


তাঁরা যখন লেখক

কেবল আত্মজীবনীই নয়, গল্প-উপন্যাসও নিয়মিত লিখছেন অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। বিক্রিবাট্টা তো ভালোই, মিলছে সমালোচকদের প্রশংসাও। লেখক-অভিনেতাদের নিয়ে লিখেছেন নাসরিন হক

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



তাঁরা যখন লেখক

টুইঙ্কল খান্না

সেই কবে অভিনয় ছেড়েছেন! মানুষ ভুলেই গিয়েছিল টুইঙ্কল খান্নার নাম। হঠাৎই ২০১৫ সালে আলোচনায় তিনি।

না, নতুন করে অভিনয় শুরু করেননি। শুরু করেছেন লেখালেখি। ২০১৫ সালের আগস্টে বাজারে আসে ‘মিসেস ফানিবোনস’। করণ জোহর, আমির খান, জয়া বচ্চনসহ বিখ্যাত তারকারা ছিলেন প্রকাশনা অনুষ্ঠানে।   সমালোচকদের কাছে বেশ প্রশংসিত হয় টুইঙ্কলের লেখা। বিক্রিও হয় দারুণ, প্রায় দেড় লাখ কপি! ২০১৫ সালের বেস্ট সেলিং লেখিকার তকমাও পান। ২০১৬ সালের শেষদিকে বাজারে এসেছে তাঁর নতুন বই ‘দ্য লিজেন্ড অব লক্ষ্মী প্রসাদ’। এটি ছোট গল্পের সংকলন। এখন পর্যন্ত বিক্রিও ভালো। নিজের লেখালেখি প্রসঙ্গে ‘মেলা’ অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি সেই আঠারো থেকেই লিখছি। অনেক কিছুই লিখতাম। তখন প্রকাশ করার ইচ্ছা হয়নি। আসলে লেখাটা আমার হৃদয়ের খুব কাছের। কখনো ছাড়তে পারিনি। ’ বই ছাড়াও সংবাদপত্রে নিয়মিত কলামও লিখেছেন টুইঙ্কল।

 

শিল্পা শেঠি

তিনি যোগব্যায়ামে পটু। বাড়িতে অর্গানিক সবজি বাগানও আছে। সব মিলিয়ে স্বাস্থ্যসচেতন শিল্পা শেঠি বরাবরই ‘ফিট’। নিজের ফিটনেস রহস্য সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতেই কলম হাতে নেন। ২০১৫ সালে প্রকাশ পায় তাঁর লেখা ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান ডায়েট’। বইটি ভালো বিক্রি হয়। টুইঙ্কলের মতো ছোটবেলা থেকে নয় বরং খানিকটা হঠাৎ করেই লেখালেখি শুরু শিল্পার। ‘আমি যোগব্যায়াম আর সঠিক ডায়েটের মাধ্যমে চার মাসে ত্রিশ কেজিরও বেশি ওজন কমাই। আমার ডায়েটের প্রায় সবই ভারতীয় খাবার, যা আমাকে নতুন করে বাঁচতে শিখিয়েছে। ভারতীয় খাবার নিয়ে মানুষের মধ্যে অনেক ভুল ধারণা, যা ভাঙতেই এই বই। শুরুর দিকে একটু জড়তা ছিল। কিন্তু কিছুটা লেখার পর আর সমস্যা হয়নি,’ বলেন শিল্পা।

 

নন্দনা সেন

বাবা অমর্ত্য সেন, মা নবনীতা দেবসেন। তাই নন্দনা সেনের যে একটু লেখালেখির অভ্যাস থাকবে এ আর আশ্চর্য কী! নন্দনা মূলত বাচ্চাদের জন্য লেখেন। ‘মামবি অ্যান্ড দ্য ফরেস্ট ফায়ার’, ‘ক্যাঙ্গারু কিসেস’ তাঁর জনপ্রিয় বই। ‘আমি এমন একটা পরিবারে বড় হয়েছি যেখানে প্রায় সবাই লেখালেখি করে। সবারই হাতে বই থাকে। আমার পড়ালেখাও সাহিত্য নিয়ে। সব সময়ই লেখাটা ধরে রাখতে চেয়েছি,’ নিজের লেখালেখি নিয়ে নন্দনা বলেন। এ পর্যন্ত তাঁর সব লেখাই শিশুদের নিয়ে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওদের জন্য লিখতেই বেশি ভালো লাগে। এখন বাচ্চারা সিনেমা থেকে অনেক বেশি প্রভাবিত। যার অনেক নেতিবাচক দিকও আছে। বই এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিতে পারে। ’

 

সানি লিওন

কিছুদিন আগেই ‘সুইট ড্রিমস’ প্রকাশ করে চমকে দেন সানি লিওন, যা বারোটি ইরোটিক গল্পের সংকলন। লেখালেখির অভ্যাস সানির পুরনো, কৈশোরে নিয়মিত ডায়রিও লিখতেন। তবে প্রথমবার বই লেখাটা বেশ কঠিন ছিল তাঁর জন্য জানিয়েছেন সেটাও, ‘বই প্রকাশের ইচ্ছা ছিল না। মাঝেমধ্যে নানা আইডিয়া মাথায় আসে কিন্তু লেখার মতো কিছু না। একদিন কিছু বিষয় নিয়ে ভাবছিলাম। পরে মনে হলো লিখে ফেললেই তো হয়। এভাবেই বই। তবে অল্প কথায় গল্প লেখা খুব কঠিন। ’

 

জেমস ফ্রাঙ্কো

গোল্ডেন গ্লোবজয়ী অভিনেতা জেমস ফ্রাঙ্কো একজন নিয়মিত লেখকও বটে! ‘পালো আলটো’, ‘স্ট্রেইট জেমস’সহ তাঁর বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে। নানা ধরনের লেখা লিখলেও ফ্রাঙ্কোর ছোট গল্পই এ পর্যন্ত বেশি সমাদৃত হয়েছে।

 

ইথান হক

‘বিফোর সানরাইজ’ তারকা ইথান হকও নিয়মিত লেখালেখি করেন। তাঁর অভিষেক উপন্যাস ‘দ্য হটেস্ট স্টেট’ বেশ আলোচিত হয়। পরে ২০০৬ সালে এটি নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন তিনি। তাঁর লেখা আরো কয়েকটি বই ‘অ্যাশ ওয়েনসডে’, ‘রুলস ফর আ নাইট’ ইত্যাদি।

 

মেগ টিলি

গোল্ডেন গ্লোবজয়ী কানাডিয়ান-আমেরিকান অভিনেত্রী মেগ টিলি এখন লেখালেখিতেই বেশি মনোযোগী। এ পর্যন্ত তাঁর ছয়টি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে। সবই প্রশংসিত হয়েছে। তাঁর লেখা সর্বশেষ বই ‘বিহাইন্ড দ্য সিনস’ প্রকাশিত হয় ২০১৪ সালে। বিষয় বৈচিত্র্যের জন্যও তাঁর লেখা ভক্তদের কাছে সমাদৃত।


মন্তব্য