kalerkantho


কসাইখানার প্রেমকাব্য

৬৭তম বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের সেরা পুরস্কার ‘স্বর্ণভল্লুক’ জিতেছে ‘অন বডি অ্যান্ড সৌল’। হাঙ্গেরির এই রোমান্টিক ছবি নিয়ে লিখেছেন লতিফুল হক

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



কসাইখানার প্রেমকাব্য

চরিত্ররা সব ধীর-স্থির। শান্ত মেজাজে এগিয়ে চলে গল্প। কোনো তাড়াহুড়ো নেই। ছবির সঙ্গে একাত্ম হয়ে দর্শকরাও ডুবে যান গল্পে। ইলডিকো এনিডির ছবির সঙ্গে যাঁদের পরিচয় তাঁরা জানেন তাঁর কাজের ধরন। অনেকের কাছে যেটা খানিক বিরক্তিকরও বটে। তবে যার কাছে যেমনই হোক পরিচালক নিজেকে বদলাননি। ‘টেস্ট’-মেজাজেই বলে যান গল্প। ঠিক যেমনটা করেছিলেন ‘মাই টোয়েটিথ সেঞ্চুরি’-তে। ১৯৮৯ সালে এনিডির এই ছবি কান চলচ্চিত্র উৎসবেই প্রথম ছবির সেরা পুরস্কার ক্যামেরা ডি’অর জেতে। এবার বাজিমাত করল ‘অন বডি অ্যান্ড সোল’।

বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে সবচেয়ে মর্যাদার ‘স্বর্ণ ভল্লুক’ জেতে। পরিচালকের কাছে আরো বেশি আনন্দের কারণ দেশটা জার্মানি বলে। হাঙ্গেরির পাশাপাশি জার্মানিতেও থাকেন পরিচালক।

‘অন বডি অ্যান্ড সোল’ এনিডির ষষ্ঠ ছবি। পুরস্কারপ্রাপ্তি ছাড়াও এই ছবি বিশেষ কিছু কারণে পাক্কা আঠারো বছর পর পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি বানিয়েছেন তিনি! সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ব্যস্ত ছিলেন ‘এইচবিও’-র টিভি সিরিজ নির্মাণে। ফেরা যাক ছবির গল্পে। বুদাপেস্টের নির্জন এক কসাইখানায় কাজ করতে আসে এক তরুণী মারিয়া। প্রতি রাতেই স্বপ্ন দেখে সে। কিছুদিনের মধ্যেই জানা যায় মারিয়া ও তাঁর বস প্রতি রাতে একই স্বপ্ন দেখে! দুজনের মধ্যে প্রেম হয়। ভালোবাসার গল্প হলেও আপাতদৃষ্টে ‘গতিহীন’ ও অন্য রকম প্রেমের গল্প খুব বেশি মানুষ পছন্দ করবে ভাবেননি পরিচালক। তাঁর মতে, এই ছবি নির্মাণই একটা অ্যাডভেঞ্চার ছিল। কিন্তু এনিডির গল্প ভাবনা ছুঁয়ে গেছে বার্লিনের বিচারকদের। উৎসবের প্রধান জুরি ডাচ চলচ্চিত্রকার পল ভারহোভেন ‘অন বডি অ্যান্ড সোল’-এর ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘ছবির আবেগ সবাই স্পর্শ করেছে’। ছবিতে মারিয়া চরিত্র করা আলেকজান্দ্রা বরবেলি নতুন অভিনেত্রী। আগে তিনটি ছবি করলেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র এই প্রথম।

এনিডির ছবি বরাবরই সিনেমাটোগ্রাফির জন্য প্রশংসিত। এবারেরটিও ব্যতিক্রম নয়। পরিচালকের ছবির আরেক বৈশিষ্ট্য—অল্প কয়েকজন পাত্রপাত্রী নিয়েই তিনি কাজ চালিয়ে নেন। ‘অন বডি অ্যান্ড সোল’-এও আছে সে নমুনা। কয়েক বছর ধরেই হাঙ্গেরির ছবি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসিত হচ্ছে। বার্লিনে সেরার পুরস্কার জিতে এনিডির ছবি তাতে নতুন মাত্রা যোগ করল।


মন্তব্য