kalerkantho


রেঙ্গুনে ভালোবাসা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের ভালোবাসার গল্প ‘রেঙ্গুন’ নিয়ে হাজির হচ্ছেন বিশাল ভরদ্বাজ। তারকাবহুল ছবিটি নিয়ে লিখেছেন হাসনাইন মাহমুদ

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



রেঙ্গুনে ভালোবাসা

১৯৪৪ সাল। চারদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা।

বার্মায় জাপানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে প্রাণপণ লড়ে যাচ্ছে ব্রিটিশ বাহিনী। তাদের সঙ্গে অনেক ভারতীয় সেনাও। আবার জাপানিদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ছে সুভাসচন্দ্র বসুর আজাদ হিন্দ ফৌজ। যুদ্ধের এই ডামাডোলের মধ্যেই ব্রিটিশ সেনাদের উৎসাহ দিতে রেঙ্গুনে আসেন জনপ্রিয় এক অভিনেত্রী [কঙ্গনা রানাওয়াত]। সাধারণ এক সেনার [শহিদ কাপুর] সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন প্রণয়ে। এদিকে পার্সি এক চিত্রপ্রযোজকও [সাইফ আলী খান] পছন্দ করেন অভিনেত্রীকে। প্রেম, শ্রেণিবিভেদ, অহংকার, প্রতিশোধ, যুদ্ধ—এ নিয়েই ‘রেঙ্গুন’। ২০১৪ মুক্তি পাওয়া তাঁর সর্বশেষ ছবি ‘হায়দার’-এর ব্যাপক সাফল্যের পর বিশাল ভরদ্বাজ  আসছেন পাক্কা তিন বছর পর। ‘কামিনে’, ‘হায়দার’-এর পর আবারও শহিদ কাপুর-বিশাল ভরদ্বাজ জুটি। ওদিকে ‘ওমকারা’-র   পর বিশালের সঙ্গে কাজ করেছেন সাইফ আলী খান। তিনি আছেন নেতিবাচক চরিত্রে। তবে আকর্ষণের কেন্দ্রে কঙ্গনা রানাওয়াত। তাঁর চরিত্রটি তৈরি হয়েছে ত্রিশের দশকে হিন্দি ছবির জনপ্রিয় অভিনেত্রী ফিয়ারলেস নাদিয়ার অনুপ্রেরণায়। কঙ্গনার কাছে এ পর্যন্ত করা সবচেয়ে কঠিন ছবি এটাই। ‘ফিয়ারলেস নাদিয়া’ হয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জের বাইরে ‘রেঙ্গুন’ অভিনেত্রীর শারীরিক সামর্থ্যের পরীক্ষাও নিয়েছে দারুণভাবে। কারণ ছবির প্রায় পুরোটাই শুটিং হয়েছে ভারতের অরুণাচল প্রদেশের দুর্গম অঞ্চলে। ‘এমন জায়গায় কাজ করেছি যেখানে হয়তো খুব বেশি মানুষের পা পড়েনি। মোবাইল নেটওয়ার্ক তো দূরের কথা সাধারণ কোনো নাগরিকসুবিধাও নেই। পোশাক পরিবর্তনের জায়গা নেই, ছিল না বাথরুমও। সবই সারতে হয়েছে পাথরের আড়ালে। ’ 

ছবির অন্য দুই চরিত্র শহিদ কাপুর ও সাইফ আলী খানও একমত—এটাই ক্যারিয়ারের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ছবি ছিল। একই সঙ্গে এটা যে সবচেয়ে ‘নায়কোচিত’ চরিত্র সেটাও বলছেন।

২০১৭ সালে মুক্তি পেলেও পরিচালক ছবিটি নিয়ে কাজ করছেন আট বছর আগে থেকে। কিন্তু প্রযোজকের অভাবে এত দিন কাজ শুরু করতে পারেননি। পরিচালক এটাকে দেখছেন ‘কাসাব্লাঙ্কা’-র মতো চলচ্চিত্র হিসেবে যেটা কালোত্তীর্ণ হয়ে থাকবে। বিশাল বাজেট ছাড়াও নানা কারণেই ‘বড়’ এই ছবি। পরিচালকের মতে তাঁর আগের আটটি ছবি একসঙ্গে করলেই কেবল ‘রেঙ্গুন’-এর বিশালত্ব পরিমাপ করা যাবে। যুদ্ধের ছবি হওয়ায় এই ছবিতে অভিনয় করেছেন প্রচুরসংখ্যক অভিনয় শিল্পী। অরুণাচলের মতো দুর্গম জায়গায় সেট ফেলে এত মানুষ নিয়ে ঠিকভাবে কাজ শেষ করতে পারাকেও বড় সাফল্য মনে করছেন পরিচালক।

‘রেঙ্গুন’-এ না থেকেও ভালোভাবেই আছেন কারিনা কাপুর খান। কারণ ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন তাঁর বর্তমান স্বামী [সাইফ আলী খান] ও সাবেক প্রেমিক [শহিদ কাপুর]। এ প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেলেও ছবিটি মুক্তির প্রথম দিনই যে দেখবেন সেটা আগেই ঘোষণা দিয়েছেন কারিনা।

 

ফিয়ারলেস নাদিয়া

ত্রিশের দশকে নির্বাক যুগের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ফিয়ারলেস নাদিয়া। ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসের প্রথম স্টান্টওম্যান নাদিয়ার আসল নাম ছিল মেরি অ্যান ইভান্স। অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া মেরি ছোটবেলায় মা-বাবার  সঙ্গে পাড়ি জমান এ উপমহাদেশে। তাঁর বাবা ছিলেন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সদস্য। জীবিকার প্রয়োজনে সার্কাসে কাজ শুরু করেন। জামশেদ ওয়াদিয়া নামের এক প্রযোজকের হাত ধরে বলিউডে প্রবেশ। শুরুতে স্টান্টওম্যান হিসেবে কাজ করলেও পরে সুযোগ পান চলচ্চিত্রে অভিনয়ের। তাও প্রধান চরিত্রে। ‘হন্টারওয়ালী’ চলচ্চিত্রটি মুক্তির পর মেরি হয়ে যান ‘ফিয়ারলেস নাদিয়া’, চাবুক হাতে তাঁর ছুটে চলা হয়ে ওঠে সাহসী নারীর প্রতীক। নাদিয়ার আদলে নিজেকে প্রস্তুত করতে নিউ ইয়র্ক এবং মেক্সিকোতে গিয়ে বেশ কিছুদিন নিজেকে জনবিচ্ছিন্ন রাখেন কঙ্গনা।


মন্তব্য