kalerkantho


ছোট ছবির বড় তারকা

পেশাদার অভিনয়শিল্পীরা আগে স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবিতে অভিনয় করতে চাইতেন না। পরিস্থিতি বদলেছে। জনপ্রিয় তারকারা এখন হরহামেশাই অভিনয় করছেন কম বাজেটের এই সব ছবিতে। ঘটনা কী?

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ছোট ছবির বড় তারকা

জ্যোতিকা জ্যোতি

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই শর্ট ফিল্মের সঙ্গে আছি। এখন যে ট্রেন্ড চালু হয়েছে, সবাই শর্ট ফিল্মে অভিনয় করছে।

এই হুজুগে আমি নেই। আমার শর্ট ফিল্মের প্রচুর প্রদর্শনী হয়েছে দেশে-বিদেশে। প্রশংসা, পুরস্কারও পেয়েছে। এখনকার বেশির ভাগ শর্ট ফিল্ম নির্মিত হয় ইউটিউব বা অনলাইনে প্রদর্শনের জন্য। আমরা যখন শুরু করেছি তখন শর্ট ফিল্ম নির্মিত হতো বিভিন্ন উৎসবে প্রদর্শনের জন্য। ‘গর্ত—ট্রেঞ্চ অব ফিয়ার’, ‘ফাঁকি’, ‘ব্রেকআপ’, ‘কাঠগোলাপ’সহ বেশ কিছু শর্ট ফিল্ম করেছি, সামনেও করব।

 

তাহসান রহমান খান

এ বছরই প্রথম শর্ট ফিল্ম করলাম, একসঙ্গে দুটি—‘বরষা’ ও ‘দূরবীন’। প্রথমটার পরিচালক অনিমেষ আইচ। তাঁর কাজের প্রতি আমার ভরসা আছে।

অনেক আয়োজন করেই তিনি শর্ট ফিল্মটি করেছেন। সহশিল্পী ভাবনা। অভিনয়ের জায়গাটাও দেখেছি। দৈর্ঘ্য কত বা কোথায় দেখানো হবে ভাবিনি। আর দ্বিতীয়টার পরিচালক ভিকি জাহিদ। তাঁর আগের শর্ট ফিল্মগুলো দেখেছি। বেশ গোছানো কাজ। এখন তো শর্ট ফিল্মের ট্রেন্ড চলছে। নির্মিত হচ্ছে নানা বিষয় নিয়ে। দর্শক পছন্দও করছে। তাহলে কেন করব না? দুটি শর্ট ফিল্ম করেই আমি তৃপ্ত।

 

আশনা হাবিব ভাবনা

আমি তো অভিনয়শিল্পী, চরিত্র পছন্দ হলে করতে কোনো সমস্যা দেখছি না। অনেকেই হয়তো ভাবছে, দু-এক বছর ধরে শর্ট ফিল্ম হচ্ছে। এটা বহু পুরনো ট্রেন্ড। বাংলাদেশে শর্ট ফিল্ম ফোরামও আছে। আমার বাবাও সদস্য ছিলেন। নতুন করে যে উন্মাদনাটা শুরু হয়েছে, সেটারও কারণ আছে। আমরা অনলাইনে অনেক বেশি সক্রিয়। আজকাল তো নিউজও অনেক বেশি হচ্ছে। একটা কাজ হলেই কাভারেজ পাওয়া যায়। আমরা যারা টেলিভিশনে বা সিনেমায় অভিনয় করি, তারা শর্ট ফিল্মে অভিনয় করলে দর্শকের আগ্রহও বাড়ে। সম্প্রতি অনিমেষ আইচের শর্ট ফিল্ম ‘বরষা’য় অভিনয় করেছি। ইউটিউবে প্রকাশ পেয়েছে। দর্শক গ্রহণ করেছে। আমি এই জয়যাত্রাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি।

 

মৌসুমী হামিদ

সারা বিশ্বেই শর্ট ফিল্ম বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। আমাদের দেশে আগে ছিল না, ইদানীং বেশ কিছু ভালো শর্ট ফিল্ম চোখে পড়েছে। সেগুলো দেখেই অনুপ্রাণিত হই। সব যে অখ্যাত নির্মাতারা নির্মাণ করছেন, তা কিন্তু নয়। নামি নির্মাতারাও করছেন। আমার শর্ট ফিল্ম রেদওয়ান রনির ‘ইতি হৃদয়’। তিনি তো চলচ্চিত্র নির্মাতা। তিনি যখন এখানে হাত দিয়েছেন, বুঝতে হবে ভালো কিছুই করবেন। নতুনরাও ভালো করছেন। ফিচার ফিল্ম নির্মাণের স্বপ্ন থেকেই শর্ট ফিল্ম নির্মাণ করছেন। আমার দ্বিতীয় শর্ট ফিল্ম ‘শেষ দেখা’র শুটিং হয়েছে বাগেরহাটের যৌনপল্লীতে। অনেক সময় নাটকেই আমরা এত আয়োজন করে শুট করতে পারি না। সেখানে শর্ট ফিল্মের জন্য এত কিছু! আজকাল তো দর্শক নাটকও দেখে ইউটিউবে, সেখানে যদি ফিল্মি স্বাদের একটা ফিকশন দিতে পারি, দর্শক তো পছন্দ করবেই। সেটাই হচ্ছে।

 

তৌসিফ মাহবুব

শর্ট ফিল্মের সংজ্ঞা পাল্টে গেছে। এখন যা হচ্ছে, এগুলোকে আমি শর্ট ফিল্ম বলতে নারাজ, ‘শর্টকাট ফিল্ম’ বলা যায়। বাইরের দেশে শর্ট ফিল্ম হয় কোনো একটা নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর। আমাদের এখানে গান থেকে শুরু করে অনেক কিছুই থাকছে। দৈর্ঘ্য বেড়ে ৩২ মিনিটও হয়ে যাচ্ছে। আগে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য শর্ট ফিল্ম বানানো হতো। মিলত পুরস্কার বা প্রশংসা। অর্থনৈতিক ভাবনাটা খুব বেশি ছিল না। এখন ভালো বাজেট পাওয়া যাচ্ছে। তাহসান ভাইয়ের মতো বড় তারকারাও ঝুঁকছেন। সব মিলিয়ে ভালো কিছুই হচ্ছে। আমার প্রথম শর্ট ফিল্ম ‘দেয়াল’, মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের কাহিনি। এটা প্রচারিত হওয়ার পর অনেক সিনিয়র বলছেন, তুই তো করলি, ভালো অফার পেলে আমরাও করতে চাই। ’

 

সিয়াম আহমেদ

আমাকে যখন ‘বখাটে’ শর্ট ফিল্মে অভিনয়ের জন্য বলা হলো, খুশিই হয়েছি। নতুন কিছু পেলাম, সঙ্গে টয়াও ছিল। কোন ফরম্যাটে আর কত দৈর্ঘ্যের হবে, এসব ভাবিনি। প্রকাশের পর তো প্রচুর রেসপন্স পেলাম। আমার জানা মতে বাংলাদেশের শর্ট ফিল্মের ইতিহাসে এটার দর্শক সবচেয়ে বেশি। আমরা একটা জরিপ করে দেখলাম, শুধু শহরেরই নয়, গ্রামের দর্শকও দেখেছে। তখনই বুঝেছি, শর্ট ফিল্মে অভিনয়ের সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল না। নির্মাণের ব্যাপারে একটা কথা বলতে চাই, অনেকেই শর্ট ফিল্ম না, ‘শর্ট নাটক’ বানাচ্ছেন। এমন হওয়া উচিত নয়। শর্ট ফিল্ম হলেও প্রকৃত ফিল্মের স্বাদ যেন থাকে।

 

ফারহান আহমেদ জোভান

আমি যখন ‘মোমেন্ট’ করি, তখন আসলে বড় তারকারা শর্ট ফিল্মে অভিনয় শুরু করেননি, করলেও আমি জানি না। দেখলাম, গল্পের ভাবনাটা আলাদা। কোথায় প্রচারিত হবে, সেসব নিয়ে ভাবিনি। ‘মোমেন্ট’ করে ভীষণ প্রশংসিত হয়েছি। সবে অভিনয় শিখছি, এই সময়ে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের গল্প আর নির্মাণ-ভাবনা পেলে তো লুফে নেবই। এখন বড় অনেক তারকা শর্ট ফিল্মে অভিনয় করছেন, তাহসান ভাইয়ার কথাই বলা যায়। সামনেই আমার শর্ট ফিল্ম ‘অক্ষর’ মুক্তি পাবে।

 

এ ছাড়া শর্ট ফিল্মে অভিনয় করেছেন নায়িকা মৌসুমী [‘সুজয়ের চিঠি’], জয়া আহসান [‘ভালোবাসার শহর’], মিশু সাব্বির, টয়া, আজমেরি আশা, পিয়া বিপাশা, নাদিয়া, অ্যালেন শুভ্র, নাদিয়া নদী, নাঈম, শবনম ফারিয়া, সাফা কবিরের মতো তারকারা।

 

অনুলিখন : ইসমাত মুমু


মন্তব্য