kalerkantho


তাঁদের ড্রিম প্রজেক্ট

অনেক পরিচালকেরই স্বপ্ন থাকে অমুক চরিত্র বা প্লট নিয়ে ছবি বানাবেন। কিন্তু বাজেট বা অন্যান্য সুযোগ সুবিধার কারণে তা সম্ভব হয় না। পাঁচজন পরিচালক বলেছেন তাঁদের ড্রিম প্রজেক্ট নিয়ে

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



তাঁদের ড্রিম প্রজেক্ট

‘পারিনি মাঝি’ বানাতে পারিনি

কাজী হায়াৎ

আমি তো সিনেমা বানাই সামাজিক সমস্যা এবং বাস্তব প্লট নিয়ে। সে ক্ষেত্রে আলাদা করে একটা প্রজেক্টের কথা বলা মুশকিল।

সিনেমা নিয়ে অসংখ্য স্বপ্ন দেখেছি। কিছু করতে পেরেছি, কিছু পারিনি। এ নিয়ে আফসোস আছে, আক্ষেপও আছে। আমার সিনেমার সংখ্যা তো কম হলো না। জাতীয় পুরস্কারও পেলাম বেশ কয়েকবার। কিন্তু যে স্বপ্ন দেখে আমি সিনেমা বানাতে এসেছি, সেটাই পারিনি এখনো। আমার লেখা ছোটগল্প ‘পারিনি মাঝি’, আজও এই গল্প নিয়ে ছবি নির্মাণ করতে পারিনি। প্রথম দিকে ফিল্ম রিলিজ দিতে অনেক কষ্ট হতো। যখন কিছুটা নাম হলো, খুব একটা সমস্যা হয়নি।   কিন্তু ‘পারিনি মাঝি’ আজও নির্মাণ করতে পারিনি। কবে পারব তা-ও জানি না।

 

নো ল্যান্ডস ম্যান

মোস্তফা সরয়ার ফারকী

স্বপ্নে তো শুধু সিনেমা আর সিনেমাই। অন্য কিছু নিয়ে স্বপ্ন দেখি না, দেখতে পারি না। জানি সব স্বপ্ন একজন নির্মাতার পক্ষে পূরণ করা সম্ভব হয় না। নানা বাধা-বিপত্তি এসে যায়। আমার স্বপ্নের ছবি ‘নো ল্যান্ডস ম্যান’। ঘোষণাও দিয়েছিলাম, কিন্তু বাজেট ও অন্যান্য কারণে স্থগিত রাখতে হয়েছে। তবে আমি হাল ছাড়ছি না। এটি শুধু বাংলাদেশি বা বাংলা ভাষার ছবি না। ছবির গল্পে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া থাকলেও এটা সমসাময়িক বিশ্ববাস্তবতার ছবি।

 

এক ছবি দিয়েই রাজনৈতিক বিভেদ দূর করতে চাই

রেদওয়ান রনি

আমার স্বপ্ন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সিনেমা নির্মাণের। একজন নায়কই যে সব পাকিস্তানি সেনা মেরে শেষ করে দিয়েছে, এ রকম গল্প না। মুক্তিযুদ্ধের আগের আন্দোলন থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত—সব একটা গল্পে নিয়ে আসতে চেষ্টা করব। বিশাল বাজেট থাকবে, বড় বড় অভিনেতা থাকবে। গোলাবারুদ থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের আবহ পরিপূর্ণভাবে ফুটিয়ে তুলতে চাই। এই এক ছবিই যেন সব রাজনৈতিক বিভেদ মীমাংসা করতে পারে। নির্মাণে আসার আগে থেকেই স্বপ্নটা দেখি। তারপর তো অনেক টিভি ফিকশন, সিনেমা নির্মাণ করলাম। কিন্তু এই সিনেমাটা নির্মাণ করতে না পারলে পরিপূর্ণ তৃপ্তি আসবে না। সুযোগের অপেক্ষায় আছি।

 

মাইকেল মধুসূদনকে পর্দায় আনতে চাই

অনিমেষ আইচ

ভালো কোনো উপন্যাস পড়লেই সেটা অবলম্বনে সিনেমা নির্মাণের ইচ্ছা হয়। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কবি’ নিয়ে ছবি বানানোর অনেক ইচ্ছা আমার। ‘কবি’র যে প্রধান চরিত্র নিতাই, তার পিতা-পিতামহের পেশা চুরি-ডাকাতি। এই পরিবারে কবিয়ালি এলো কোথা থেকে, তা নিয়ে সবার মধ্যেই বিস্ময়। তার জীবনের একটা জার্নি আছে। মাইকেল মধুসূদন দত্তের বায়োপিক করারও খুব ইচ্ছা, এটা আমার একটা স্বপ্ন।

 

 

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ছবি বানাতে চাই

শিহাব শাহীন

দুটি স্বপ্নের কথা বলতে পারি। প্রথমত. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে ছবি নির্মাণ করতে চাই। ছবিতে উঠে আসবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। একজন বঙ্গবন্ধুকে তো আড়াই ঘণ্টার ছবিতে বেঁধে রাখা অসম্ভব। তবু যতটা পারি তুলে আনার চেষ্টা করব। এর চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আর হতে পারে না। আমি নিতে প্রস্তুত। কিন্তু কবে পারব কে জানে! আরেকজনের বায়োপিক করার খুব ইচ্ছা—গলফার সিদ্দিকুর রহমান। অভাবের মধ্যে বেড়ে উঠেছেন তিনি। আজকে তিনি সারা বিশ্বে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করছেন। তাঁর গল্পটা অনেককেই প্রেরণা জোগাবে।

 

অনুলিখন : ইসমাত মুমু

 


মন্তব্য