kalerkantho


থার্ড অ্যাঙ্গল

ধারাভাষ্যকার যখন মডেল

রবির বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছেন জনপ্রিয় ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার চৌধুরী জাফরউল্লাহ্ শারাফাত। বিজ্ঞাপনটি বানিয়েছেন সাকিব ফাহাদ। লিখেছেন সাইমুম সাদ

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ধারাভাষ্যকার যখন মডেল

‘বিজ্ঞাপনটি এত জনপ্রিয় হবে ঘুণাক্ষরেও ভাবিনি’—কথার শুরুতেই উচ্ছ্বাস ঝরে পড়ল শারাফাতের দরাজ কণ্ঠে। প্রচার শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রশংসায় ভাসছেন।

এক টিভি চ্যানেলের স্পোর্টস এডিটর শারাফাতকে ফোন করে বলেন, ‘আমার কলিগরা তো আপনার ভক্ত হয়ে গেছে। বিজ্ঞাপনে আপনি যে অভিনয়টা দেখালেন না! দেহভঙ্গিমা দুর্দান্ত, সঙ্গে অসাধারণ সংলাপ। দুয়ে মিলে একাকার। ’

বিজ্ঞাপনের সংলাপে নিজের স্টাইলটাই তুলে এনেছেন। বললেন, “‘ধুন্ধুমার উত্তেজনা, আহা!’ ‘বিস্ফোরক দেহভঙ্গিমা’, ‘মায়াবী বাঁক’—এই সংলাপগুলো আমার নিজের। ধারাভাষ্য দেওয়ার সময়ও এসব বলি। অন্যরা যা বলে, তার বিকল্প কিছু শব্দ ব্যবহারের চেষ্টা করি। ওরা যখন স্ক্রিপ্ট দিল তখন বললাম, এগুলো একটাও যাবে না। আমি আমার মতো করে বলব।

” ব্যস! তার পরই শুরু হলো শারাফাতীয় সংলাপ। শুধু সংলাপই নয়, কস্টিউমও তাঁর নিজেরই।

শুটিং হয়েছে অভিনেত্রী আফসানা মিমির উত্তরার বাসায়। ছাদে চলছিল দৃশ্যধারণ। ফুলের টবে পানি দেওয়ার দৃশ্যে অভিনয় করছেন শারাফাত। সকাল ১১টা, রোদে চোখ পোড়াচ্ছে। রোদচশমা পরেই শুটিং করলেন। ডিরেক্টরও না করেননি, বলেছিলেন যেটা আপনি ভালো বোঝেন।

বিজ্ঞাপনের গল্পটা বেশ মজার। শারাফাত উঠতে-বসতে মোবাইলে ভিডিও দেখেন। আর সেই ভিডিওর প্রশংসা করে বলেন, ‘মায়াবী বাঁক’, ‘বিস্ফোরক দেহভঙ্গিমা’। স্ত্রীর মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। মোবাইলে কোনো তরুণীর ভিডিও দেখছে না তো! একসময় ক্ষিপ্ত হয়ে মোবাইল কেড়ে নেন। দেখেন, এটা তো তরুণ উদীয়মান স্পিনারদের বোলিংয়ের ভিডিও।

কী কারণে বিজ্ঞাপনটির সঙ্গে যুক্ত হলেন? ‘আমি খেলার জগতের মানুষ। আর ক্রিকেট নিয়েই বিজ্ঞাপনটি করছে রবি। সে জন্য দায়িত্ববোধ থেকেই কাজটি করেছি। তরুণদের আহ্বান জানিয়েছি, তারা যাতে খেলায় অংশ নেয়। ক্যাম্পেইনে নাম নিবন্ধন করে। এখানে অংশগ্রহণ করে একসময় যাতে তারা সাকিব আল হাসান, মেহেদী হাসান, শেন ওয়ার্ন, মুরালির মতো বিশ্বখ্যাত, বিশ্বনন্দিত তারকা ক্রিকেটার হতে পারে, সে জন্যই আমার বিজ্ঞাপনে আসা। ’

বিজ্ঞাপনটিতে কাজ করার পেছনে আরেকটি কারণ, আইডিয়াটা তাঁর ভালো লেগেছে। ভালো আইডিয়া পেলে সামনে আরো বিজ্ঞাপনে কাজ করতে চান। ‘লিড রোল আমার থাকতে হবে। আমি যা করি, নাম্বার ওয়ান হওয়ার জন্যই করি। সেটা ধারাভাষ্যই হোক আর বিজ্ঞাপন হোক’—বলেন শারাফাত।

এর আগে গ্রামীণফোন, ইউনিলিভারের বিজ্ঞাপনচিত্রেও দেখা গেছে তাঁকে। নিজের প্রফেশনে বিখ্যাত হয়েছেন বলেই তিনি মডেল হয়েছেন। শারাফাত বলেন, ‘ধারাভাষ্যে ক্যারিয়ার শুরু ৩৭ বছর আগে। তখন একমাত্র টিভি চ্যানেল বিটিভি। ওই বয়সে ক্যামেরার সামনে সাহস করে দাঁড়ানো আমার জন্য অনেক কঠিন ব্যাপার ছিল। আত্মবিশ্বাস নিয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতাম। এখনো সেভাবেই বলি। ক্যামেরার সামনে কথা বলার দক্ষতাটা সেখান থেকেই পেয়েছি। ভিন্নধর্মী ধারাভাষ্য দেওয়ার কারণেই আস্তে আস্তে পরিচিতিটা বাড়তে শুরু করে। এর পরই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হওয়ার প্রস্তাব আসতে শুরু করে। ’

অভিনয়ের প্রস্তাবও পেয়েছেন প্রচুর। জাহিদ হাসান, সাজু খাদেম, সাফায়েত মনসুর রানাসহ অনেকেই তাঁকে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন। বেশ কয়েকবার আবদার নিয়ে তাঁর বাসায়ও এসেছিলেন। সংগীতশিল্পী কুমার বিশ্বজিত্ তাঁকে বলেছিলেন, ‘আপনার কণ্ঠটা সুন্দর, গান করেন। ’ তবু করেননি। চেয়েছিলেন, তাঁর একটাই পরিচয় থাকুক। তাহলে বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হলেন কেন? ‘আমি বিজ্ঞাপন করছি, কারণ সমাজে কিছু মানুষ থাকেন, যাঁদের অনুরোধ ফেলা যায় না। যেমন নন্দিত ক্রিকেটার আকরাম খান, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। তাঁদের অনুরোধেই আসলে বিজ্ঞাপনে আসা’—জানালেন চৌধুরী জাফরউল্লাহ্ শারাফাত।

 

ছবি : আবু সুফিয়ান জুয়েল


মন্তব্য