kalerkantho


ভালোবাসায় বন্দি মেহজাবিন

রোমান্টিকতা তাঁর পছন্দ। তাইতো ভালোবাসার নাটকে তিনি বরাবরই প্রেমিকা হন। দর্শকও তাঁকে লুফে নেয়। মেহজাবিন চৌধুরীকে নিয়ে লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ভালোবাসায় বন্দি মেহজাবিন

বছর শেষে হিসাবের খাতা নিয়ে বসেছিলেন মেহজাবিন। যোগ-বিয়োগ করে বেশ কিছু ভালো ও মনের মতো নাটক-টেলিফিল্মের তালিকা করলেন। সংখ্যাটা নাকি বেশ লম্বা। হিসাবটা অবশ্য দিলেন না। দৃষ্টি দিলেন নতুন বছরে। বছরের শুরুতেই প্রচারিত হয়েছে নাটক ‘ওয়ান ওয়ে রোড’, সহশিল্পী জোভান। তারপর ফাল্গুন আর ভালোবাসা দিবসের নাটক।

এবারের ভালোবাসা দিবসে দুটি নাটকে অভিনয় করেছেন—সাইদুর রহমান রাসেলের ‘জেনিফারের চিঠি’ এবং আরবি প্রীতমের ‘কেউ জানে না’। প্রথমটিতে তাঁর সহশিল্পী তৌসিফ মাহবুব। দ্বিতীয়টি ক্লোজআপ কাছে আসার অফলাইন গল্পের, এখানে মেহজাবিনের সহশিল্পী জোভান। নাটক দুটি প্রচারের আগে ভীষণ টেনশনে ছিলেন।

দর্শক কিভাবে নেবে তা ভেবে। প্রচারের পর তো রীতিমতো প্রশংসার জোয়ারে ভেসেছেন। তবু অনলাইনে এখানে-সেখানে ঘুরে দেখছেন কে কী বলছে তাঁকে নিয়ে, তাঁর অভিনয় নিয়ে। ‘অনেকেই পোস্ট দিয়েছেন। আমি সবার মন্তব্য পড়ার চেষ্টা করেছি, যাতে দর্শকের সমলোচনাটা বুঝতে পারি। আমি জানি না কতটা ভালো করতে পেরছি। তবে চেষ্টা করেছি, এটাই বড় কথা। অভিনয়ে এখন আমি অনেক সিরিয়াস। নিজের ভেতর যে একটা পরিবর্তন এসেছে, সেটা নিজেই বুঝতে পারছি’—বললেন মেহজাবিন।

এইতো গত বৃহস্পতিবার প্রচারিত হলো নাটক ‘এপিটাফ’, বিপরীতে তৌসিফ। এটিও বেশ প্রশংসিত হয়।

গত বছর প্রথমবার নায়ক রিয়াজের বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন ‘এক যে ছিল রাজকন্যা’য়। নাটকটি এখনো প্রচারিত হয়নি। তার আগেই মাতিয়া বানু শুকুর আরেকটি নাটকে অভিনয় করেছেন তাঁরা—‘কান পেতে রই’।

এ পর্যন্ত যত নাটকের কথা বললেন মেহজাবিন, তার সবই প্রেম-ভালোবাসার নাটক। এই বৃত্ত থেকে বের হওয়া যায় না? নাকি ইচ্ছা নেই? কিছুক্ষণ হাসলেন, তারপর বললেন, “আমার প্রিয় সিনেমা কিন্তু ‘টাইটানিক’...হা হা হা। বুঝতেই পারছেন, রোমান্টিক ঘরানাটা আমার পছন্দের। এবার সিরিয়াস কথাটা বলি, গল্প রোমান্টিক হলেও আমার চরিত্র সব নাটকে কিন্তু একই রকম নয়। গত বছরের ‘ও রাধা ও কৃষ্ণ’র কথা বলতে পারি, নাটকটিতে আমাকে বেশ কয়েকটি রূপে দেখা গেছে। তবে হ্যাঁ, রোমান্টিক নাটকের বাইরে অন্য ঘরানার নাটকেও অভিনয় করতে চাই। ”

এখনকার ব্যস্ততা কী নিয়ে? ‘কী আবার! একক নাটক। ধারাবাহিক নাটক তো করি না’—বললেন মেহজাবিন।

সম্প্রতি ফেসবুকে ভেরিফায়েড হলেন। ফেসবুকে তাঁর অ্যাকাউন্টটিতে নামের পাশে নীল রঙের বৃত্তে সাদা রঙের টিকচিহ্ন দেখাচ্ছে। এই লাক্স তারকার ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি এখন থেকে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে থাকবে। ভেরিফায়েড হওয়ায় মেহজাবিন নামের সব ভুয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে। ভীষণ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মেহজাবিন বলেন, ‘এটা আমার জন্য অনেক আনন্দের সংবাদ। হাজার হাজার ভুয়া অ্যাকাউন্টের কারণে অনেকেই আমাকে ফেসবুকে খুঁজে পেতেন না। এখন আর সেটা হবে না। ফেক আইডিগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে। ’ বাংলাদেশি খুব কম অভিনেত্রীর ফেসবুক অ্যাকাউন্টই ভেরিফায়েড। এই তালিকায় নিজের নাম ঢুকে যাওয়ায় ভীষণ খুশি মেহজাবিন। ফেসবুকে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা এখন তিন লাখ ছাড়িয়ে।

ছোট পর্দায় অভিনয়ের বয়স তো নেহাত কম হলো না। বেশ কয়েকবার বড় পর্দায় অভিনয়ের ঘোষণাও দিয়েছেন। কিন্তু একটা প্রজেক্টও শেষ পর্যন্ত শুটিংয়ে গড়াল না। নতুন কিছু ভাবছেন? ‘সবারই একই কথা, কবে বড় পর্দায় অভিষেক হবে। আমার উত্তরটাও সাদামাটা, বড় পর্দায় অভিনয় করতে চাই। কিন্তু সব কিছু হতে হবে আমার মনের মতো। ’        


মন্তব্য