kalerkantho


‘শিল্পিত আন্দোলন করতে চাই’

প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত ‘অভিনয়শিল্পী সংঘ’র নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন শহীদুল আলম সাচ্চু। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন পৃথ্বী সাহা বাপ্পা

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



‘শিল্পিত আন্দোলন করতে চাই’

অনেক দিন ধরেই শিল্পীরা নিজেদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও অধিকার নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। এ অবস্থায় সভাপতির দায়িত্ব পেয়ে কোনো ধরনের চাপ অনুভব করছেন কি না?

চাপ নেই।

শিল্পীদের অধিকার আদায়ে আমার কিছু পরিকল্পনা রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করব। শিল্পীদের বাঁচার জন্য যা করা দরকার সবই করব। আন্দোলনের প্রয়োজন হলে সেটাও করব। আমার কিশোর বয়স থেকে সংস্কৃতিকর্মী হিসেবে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করে আসছি। দাবি আদায়ের কৌশলে এবার কিছু পরিবর্তন আনতে চাই। আমরা শিল্পিত আন্দোলন করতে চাই। আমাদের অধিকার আদায়ের পথ হবে সৃজনশীল।  

 

সংগঠনের প্রাথমিক কাজগুলো কী হবে?

আগে সংগঠনটি নথিভুক্ত করা প্রয়োজন। আধুনিক গঠনতন্ত্র তৈরি করতে হবে।

শিল্পীদের নিয়ে বসে একটি গঠনতন্ত্র তৈরি করতে চাই, যা দিয়ে বহু দূর পর্যন্ত আমরা দেখতে পারি। এ ছাড়া আমরা বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করব। তাদের মাধ্যমে আমাদের শিল্পীরা যেন দেশের বাইরে কাজ করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব। এতে এ প্রজন্মের কাজের মান আরো উন্নত হবে।

 

চলচ্চিত্র আর টিভি নাটকের অভিনয়শিল্পীদের কি একই প্ল্যাটফর্মে আনা যেত না?

অনেকেই আছেন যাঁরা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন দুই মাধ্যমে কাজ করেন। তাঁদের আমরা শিল্পী সংঘে সম্মানজনকভাবেই অন্তর্ভুক্ত করতে চাই। যেমন চম্পা, মৌসুমী, পূর্ণিমাসহ অনেকেই দুই মাধ্যমে কাজ করে থাকেন। তাঁদের আমরা সংঘে যুক্ত করতে চাই। এতে সংগঠন আরো শক্তিশালী হবে।

 

অভিনয়শিল্পীদের অধিকার রক্ষার সঙ্গে টিভি চ্যানেল জড়িয়ে। তাদের কাছ থেকে কতটুকু সহায়তা পাওয়া যাবে বলে মনে করেন?

আমার মনে হয়, আমাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যা দাবি-দাওয়া আছে, অন্যদের চেয়ে তা আমিই বেশি আনতে পারব। কারণ আমি নিজে একটি টেলিভিশন চ্যানেলে কাজ করি। এখন আমি আমার প্রতিষ্ঠানের কাছেই বলতে পারব, ৭০০ শিল্পী আমাকে নির্বাচিত করেছেন। আগে আমি যেটা একক ব্যক্তি হয়ে চাইতাম, সেটাই এখন অনেকের পক্ষে চাইছি। সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনে বলেছি, শিল্পীদের স্বার্থ রক্ষার্থে যদি এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, প্রয়োজনে আমি চাকরি থেকে ইস্তফা দেব।

 

সৃজনশীল আন্দোলনের কথা বললেন। আশানুরূপ সহায়তা না পেলে...?

দেখুন, আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশন বর্জন করা শিল্পী। সেই আন্দোলনে সিনিয়ররা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, আমরা তরুণ ছিলাম। সেই শিক্ষা তো আমাদের আছেই। তখন দাবি আদায়ের জন্য কিন্তু আমাদের রাস্তা আটকাতে হয়নি। আমরা কাজ করব না বলেছি, করিনি। আমি চাই, এখানেও আমাদের আন্দোলনের শুরু এবং শেষটা যেন শিল্পিতভাবেই হয়। কারণ দর্শক আমাদের আদর্শ মনে করে। আমাদের প্রতি তাদের প্রত্যাশাও অনেক।

 

টেলিভিশনে কাজের পরিবেশ আগের চেয়ে কতটা উন্নত হয়েছে বা আদৌ হয়েছে কি না, একজন সিনিয়র অভিনয়শিল্পী হিসেবে আপনি কী মনে করেন?

বাজেট কমে গেছে, তাই আগের জায়গাটা আর নেই। আমাদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে, নাটকের মূল্য বাড়ানো। বিশেষ করে তরুণ শিল্পীরা অনেকভাবে ঠকেন। সবারই কমবেশি ক্ষতি হয়, কিন্তু সবচেয়ে বেশি ঠকে থাকেন প্রবীণ ও নবীন শিল্পীরা। তাই অর্থমূল্য ও দক্ষতার দিক থেকে যেন নাটকের উন্নতি হয়, এ জন্য চ্যানেলগুলোর সঙ্গে আমরা কথা বলতে চাই।


মন্তব্য