kalerkantho


পায়েলের পথচলা

‘কাবিল’ ছবিতে পায়েল দেবের গাওয়া ‘হাসিনো কা দিওয়ানা’ গানটি এখন বেশ আলোচিত। ভারতীয় এই গায়িকাকে নিয়ে লিখেছেন সাজ্জাদ হোসেন

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পায়েলের পথচলা

‘হাসিনো কা দিওয়ানা’ ইউটিউবে ছাড়া হয়েছিল মাসখানেক আগে। অথচ এরই মধ্যে প্রায় ছয় কোটি ভিউয়ার হয়ে গেছে।

গানটি দিয়ে এখন বেশ আলোচিত এ গায়িকা। আশির দশকের শুরুতে ঝড় তুলেছিল ‘ইয়ারানা’ ছবিতে কিশোর কুমারের গাওয়া ‘সারা জামানা হাসিনো কা দিওয়ানা’। সেই গানের সঙ্গে অমিতাভ বচ্চনের পারফরম্যান্স ছিল দেখার মতো! ৩৬ বছর পর আবারও সেই গান ঝড় তুলল বলিউডে, নতুনভাবে নতুন রূপে। সংগীতায়োজনে ভিন্নতা এনে গানটি ব্যবহার করা হয় গত মাসে মুক্তি পাওয়া ‘কাবিল’ ছবিতে। কিশোর কুমারের জায়গায় কণ্ঠ দিয়েছেন তরুণ পায়েল দেব। আর অমিতাভের জায়গায় পর্দা কাঁপান উর্বশী রাউটেলা। অবশ্য সংগীত পরিচালকের কোনো পরিবর্তন হয়নি। ১৯৮১ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটির সংগীত পরিচালক ছিলেন রাজেশ রোশান। ‘কাবিল’-এর সংগীতও তাঁরই। ‘সারা জামানা’টুকু বাদ দিয়ে গানটির নাম করা হয়েছে ‘হাসিনো কা দিওয়ানা। ‘ গানেও সামান্য পরিবর্তন এনেছেন রাজেশ। তবে সেটা সংগীতে। গানটি গেয়ে দারুণ প্রশংসা কুড়িয়েছেন পায়েল দেব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বেশ কথা হচ্ছে তাঁকে নিয়ে। অভিনন্দন যেমন পাচ্ছেন তেমন সমালোচনাও শুনতে হচ্ছে। অনেকে মনে করছেন, ‘বলিউডের সংগীতকারদের ভাণ্ডার ফুরিয়ে গেছে! তাই তারা পুরনো গানগুলোকে এভাবে ব্যবহার করছেন। ’ একই সঙ্গে তাদের অভিযোগ, ‘এতে করে পুরনো গানকে বিকৃত করা হচ্ছে। ‘ কিন্তু এসব আমলে না নিয়ে পায়েলের গাওয়া গানটি ইউটিউবে শ্রোতারা উপভোগই করে যাচ্ছেন।

মায়ের কাছেই হাতেখড়ি পায়েলের। ক্ল্যাসিক গাইতেন তাঁর মা। মায়ের সঙ্গে গাইতে গাইতে পায়েলও বুনে যান স্বপ্নের জাল। ২০০৬ সালে পায়েল যখন মুম্বাই আসেন তখন বয়স মাত্র ১৭ বছর। উদ্দেশ্য গায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া। শুরু করেন বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেল দিয়ে। এরপর কণ্ঠ দেন বিভিন্ন ডকুমেন্টারির গানে।

অবশেষে স্বপ্নপূরণ, ২০১৩ সালে। প্রথমবারের মতো কণ্ঠ দেন বলিউডের ছবি ‘গ্র্যান্ড মাস্তি’তে। সে বছরই রাম গোপাল ভার্মার ছবি ‘সত্য-২’-এর দুটি গানে কণ্ঠ দেন। এরপর একে একে গেয়েছেন ‘ফ্রিকি আলী’, ‘গ্রেট গ্র্যান্ড মাস্তি’, ‘১৯২০ লন্ডন’, ‘তুম বিন-২’ প্রভৃতি ছবিতে। ২০১৫ সালে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সুযোগটি আসে পায়েলের। সঞ্জয় লীলা বানসালির ছবি ‘বাজিরাও মাস্তানি’তে গান গাওয়ার সুযোগ পান। ছবিতে ‘আব তো যানে না দোঙ্গি’ গানটি গেয়ে নিজের পরিচিতিটা বাড়িয়ে নেন ব্যাপক আকারে। এটাকে তাঁর ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্টও বলা যায়। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছেন এবার ‘কাবিল’ ছবির ‘হাসিনো কা দিওয়ানা’র জন্য। পায়েল সর্বশেষ কাজ করেছেন ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’ নামের কর্মসূচিতে। সেখানে সচেতনতামূলক একটি গানে কণ্ঠ দেন। ভারতকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেয়া কর্মসূচি এটি। এমন একটি সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে জড়াতে পেরে দারুণ খুশি পায়েল। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কাজ করে যাওয়ার ইচ্ছা তাঁর। এগিয়ে যেতে চান সংগীতের পথেও।


মন্তব্য