kalerkantho


নতুন করে দেশের গান

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নতুন করে দেশের গান

‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে’র রি-অ্যারেঞ্জের রেকর্ডিংয়ে বাঁ থেকে : মনোয়ার হোসেন, শিল্পী মহলানবীশ, শীলা ভদ্র, ফকির আলমগীর, তিমির নন্দী, হূদয় খান, মো. রফিকুল আলম, সাউন্ড রেকর্ডিস্ট অনিক ও বুলবুল মহলানবীশ

পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে

গানবাংলা টেলিভিশনের গেল জন্মদিন সামনে রেখে গোবিন্দ হালদারের লেখা, সমর দাসের সুর করা ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে’ গানটি রি-অ্যারেঞ্জ করেন হূদয় খান। কণ্ঠ দেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রেরই শিল্পীরা—মনোয়ার হোসেন, সুপ্তি মহলানবীশ, শীলা ভদ্র, ফকির আলমগীর, তিমির নন্দী, মো. রফিকুল আলম, বুলবুল মহলানবীশ, অনুপ ভট্টাচার্য, জয়ন্তী লালা, এম এ মান্নান, কামাল উদ্দিন আহমেদ, উমা খান ও ডালিয়া নওশীন।

গানটি শ্রোতারা বেশ পছন্দও করেন। হূদয় খান বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে এ গানগুলো শুনে আসছি। আমাদের প্রজন্মের শ্রোতাদের কথা মাথায় রেখেই গানটির সংগীতায়োজন করি। ওই সময় যাঁরা গানটি গেয়েছিলেন তাঁরাই আবার নতুন করে গেয়েছেন। অনেকেই গানটি শুনে ভালো লাগার কথা জানিয়েছেন। এ ধরনের গান শুনলে দেশের প্রতি ভালোবাসা বাড়ে, সম্মান জাগে। ’

কাছাকাছি সময়ে কণ্ঠ, মুখ এবং আঙুলকে যন্ত্র বানিয়ে  গানটি রি-অ্যারেঞ্জ করেন অদিত। যাতে কণ্ঠ দেন বাম্মী, শেহতাজ, তনিমা, প্রীতম, সৌভিক, হূদি, সৌমিক, শামীম, শুভ্র, দোলা, হাসিব, ইরিনা, নাবিল, নিলয়, নাঈম, মুনিম, নাহিদ, শোয়েব ও অদিত নিজে। ভিডিও নির্মাণ করেন বাম্মী।

এটিও শ্রোতাদের কাছে সমাদৃত হয়। ইউটিউবের পাশাপাশি বিভিন্ন টিভি চ্যানেলেও গানটি দেখা যায়।

 

ধনধান্য পুষ্পভরা

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের লেখা ও সুর করা এই গানটি বিভিন্ন সময় অনেকেই গেয়েছেন। ২০১৪ সালে গানটি রি-অ্যারেঞ্জ করেন বাপ্পা মজুমদার। কণ্ঠ দেন সাবিনা ইয়াসমিন, নকীব খান, পিলু খান, পার্থ বড়ুয়া, ফাহমিদা নবী, সামিনা চৌধুরী, চাঁদনী, ফুয়াদ আল মুক্তাদির, এলিটা করিম, পারভেজ সাজ্জাদ, জয় শাহিরয়ার, কোনাল, এমিল, জোহাদ এবং বাপ্পা নিজে। সব শিল্পীর অংশগ্রহণে বড় পরিসরে গানটি ভিডিও নির্মাণ করেন তানভীর খান। প্রযোজনা ও প্রকাশনায় জিরোনা বাংলাদেশ। ভিডিওটি এখনো বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে দেখা যায়। বাপ্পা মজুমদার বলেন, ‘এ গানগুলো এতটাই শক্তিশালী যে এগুলোর আবেদন দিন দিন আরো বাড়ছে। নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছানোর জন্য, নতুনত্ব আনার জন্য গানগুলোর রি-অ্যারেঞ্জম্যান্টের পক্ষে আমি। তবে যেনতেনভাবে করলে হবে না। মূল ভাবনা এবং বিষয়বস্তু যাতে ঠিক থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ’

 

চল চল চল

কাজী নজরুল ইসলামের ‘চল চল চল’ গানটিও অনেকবার রি-অ্যারেঞ্জ হয়েছে। এর মধ্যে ‘জবাব দাও’ অ্যালবামে আসিফ আকবরের গাওয়া ভার্সনটি নতুন প্রজন্মের শ্রোতারা ভালোভাবেই গ্রহণ করেন। সংগীতায়োজনে ছিলেন ইবরার টিপু। আসিফ আকবর বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমি এ গানটির ভক্ত। আমাদের প্রজন্মের শ্রোতাদের কথা চিন্তা করেই গানটি করি। ভালো রেসপন্স পাওয়ায় আমি আনন্দিত! সামনে এ ধরনের কাজ আরো করার ইচ্ছা আছে। ’

২০১৩ সালে এ গানটি রি-অ্যারেঞ্জ করেন মাইলস ব্যান্ডের লিড গিটারিস্ট ইকবাল আসিফ জুয়েল। কণ্ঠ দেন মিউজিশিয়ান অ্যালিয়েন্সের শিল্পীরা। এর মধ্যে ছিলেন মাকসুদ, তাপস, রাফা, লিংকন, আলিফ আলাউদ্দিন, সাকিব, ফারশিদ, জোহাদ প্রমুখ। প্রকাশ করে হটবক্স এন্টারটেইমেন্ট। অডিওর পাশাপাশি সব শিল্পীর অংশগ্রহণের গানটির ভিডিও বেশ আলোচিত হয়। এখনো বিশেষ দিনগুলোও গানটি শোনা যায়।

 

তীরহারা ঐ ঢেউয়ের সাগর 

২০১০ সালে প্রকাশিত ‘আয় আমন্ত্রণ’ অ্যালবামে গানটি রি-অ্যারেঞ্জ করে গায় ‘দলছুট’। টিভি লাইভ এবং বিভিন্ন স্টেজ শোতেও গানটি পরিবেশন করে তারা। তাদের কণ্ঠে  গানটি শ্রোতারাও বেশ এনজয় করেন।

 

কাণ্ডারী হুঁশিয়ার

‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার হে/লঙ্ঘিত হবে রাত্রি নিশীথে যাত্রীরা হুঁশিয়ার’—কাজী নজরুল ইসলামের লেখা ও সুর করা অনেক শক্তিশালী একটি গান। ২০১১ সালে প্রকাশিত মিক্সড অ্যালবাম ‘রক ৩০৩’তে গানটি রি-অ্যারেঞ্জ করে ব্যান্ড আর্টসেল। এই গানটিও চারদিকে বাজতে শোনা যায় বেশ। ব্যান্ডটির ভোকাল লিংকনের শক্তিশালী ভয়েস গানটিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। সংগীতায়োজনেও আছে নতুনত্ব।

 

কারার ঐ লৌহ কবাট

নজরুলের আরেকটি গান ‘কারার ঐ লৌহ কবাট’ রি-অ্যারেঞ্জ করে গেয়ে শ্রোতাদের প্রশংসা কুড়ায় ব্যান্ড ‘আর্টসেল’। মিক্সড অ্যালবাম ‘রায়োটাস ১৪’-এ প্রকাশ পায় গানটি। বিশেষ অনুষ্ঠানগুলোতে তাঁদের গাওয়া ভার্সনটি বাজতে শোনা যায়। সবচেয়ে বেশি শোনা যায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলার সময় স্টেডিয়ামে।

আর্টসেলের করা গান দুটি প্রসঙ্গে নজরুলসংগীত গবেষক ও শিল্পী খালিদ হোসেন বলেন, ‘রি-অ্যারেঞ্জ করা এ গানগুলো আমার শোনা হয়নি। তবে সুরটা যদি ঠিক থাকে, তাহলে এ গানগুলো নতুন করে হলে আপত্তি নেই। সংগীতায়োজনও করতে হবে গানের চরিত্র বুঝে। অনেক কিছু বাজালাম কিন্তু গানের সঙ্গে যায় না, তাহলে কিন্তু গানটিই নষ্ট হয়ে যাবে। ’

 

ও আমার দেশের মাটি

রবীন্দ্রনাথের ‘ও আমার দেশের মাটি’ গানটি একটি কনসার্টে করে আলোচিত হয় ব্যান্ড ‘শিরোনামহীন’।   ব্যান্ডের গিটারিস্ট জিয়া বলেন, ‘গানটি শুনলে অন্য রকম এক অনুভূতি কাজ করে মনে। ’ এ প্রসঙ্গে রবীন্দ্রসংগীত গবেষক ও শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বলেন, ‘শিরোনামহীনের এ গানটি আমার শোনা হয়নি। এসব দেশের গানের মূল শক্তি কিন্তু বাণী। বাণী আর সুর ঠিক রেখে পরিচ্ছন্ন সংগীতায়োজনের মাধ্যমে এ গানগুলো নতুন করে করা যেতেই পারে। তবে গানের মূল ভাব যাতে নষ্ট না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। ’

 


মন্তব্য