kalerkantho


গত এক বছরে পড়া প্রিয় বাংলা বই

চলছে ভাষার মাস, বইয়ের মাস ফেব্রুয়ারি। গত এক বছরে শোবিজ তারকাদের কে কোন বইটি পড়েছেন? বাংলা কোন বইটি তাঁদের সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে? বলেছেন তাঁরাই—

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



গত এক বছরে পড়া প্রিয় বাংলা বই

বিদ্যা সিনহা মিম

হাতে আছে ‘সোমেন রচনাবলী’

আবুল হায়াত

এই মুহূর্তে আমার হাতে আছে ‘সোমেন রচনাবলী’। মনে আছে, সোমেন চন্দের গল্প প্রথম পড়েছিলাম ১৯৭০ সালে।

বলতে গেলে আমার অভিনয়জীবনও তখনই শুরু। বাংলা সাহিত্যের এক ব্যতিক্রমী নাম সোমেন। তিনি বেঁচেছিলেন মাত্র ২১ বছর। এই অল্প বয়সেই তাঁর লেখনী অনেক সমৃদ্ধ। বাংলা সাহিত্যে মার্কসবাদী চেতনা রূপায়ণে সোমেন পথিকৃৎ। এই রচনাবলিতে ছাব্বিশটি গল্প, একটি উপন্যাস, দুটি নাটক, তিনটি কবিতা, সাতটি পত্র এবং দুটি অনুবাদ রয়েছে। সবটা পড়া শেষ হয়নি। তবে মজে আছি গল্পগুলোতে। সেই ১৯৭০ সালে মনে হয় এখানকার একটা গল্প পড়েছিলাম।

 

‘প্রণীত জীবন’ মনে দাগ কেটেছে

আফজাল হোসেন

আমি রবীন্দ্রনাথের ফ্যান। তবে গত এক বছরে যে বইগুলো পড়েছি তার মধ্যে সৈয়দ শামসুল হকের আত্মজীবনী ‘প্রণীত জীবন’ মনে দাগ কেটেছে। পড়তে গিয়ে মনে হয়েছে, নির্মেদ আবেগে জীবনকে কেবল একজন আগন্তুকের চোখে লিখতে চেয়েছেন তিনি। অবলীলায় উপন্যাসের আদলেই তুলে ধরেছেন তাঁর বাবা-মায়ের সম্পর্কের বিষয়ে অনেক গোপন সত্য। মনস্তাত্ত্বিকভাবে ব্যাখ্যা করতে চেয়েছেন দাদা, বড় চাচা, বাবা ও মায়ের ভেতরের চরিত্রটাকে। ‘প্রণীত জীবন’ আত্মজীবনী বা সৈয়দ হকের শৈশব-কৈশোরের পারিবারিক গল্প যাই-ই হোক না কেন, এখানে দেখতে পাই একজন দক্ষ কথাসাহিত্যিক তাঁর আশপাশের মানুষ ও নিজেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছেন।

 

আদি বাংলার ইতিহাস

হানিফ সংকেত

এক বছর ধরে একটা বই-ই শেষ করতে পারিনি। বইটির নাম ‘আদি বাংলার ইতিহাস’, লেখক মো. শহীদুর রহমান। অনেক বড় বই। গবেষণামূলক বই, কাজের জন্যই পড়ছি। বইয়ের বিষয়বস্তু বাংলার প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে ১২০৫ সাল পর্যন্ত। বিদগ্ধজনের লিখিত বর্ণনা, বিবৃতি, পুরাতত্ত্ব ও প্রাচীন গ্রন্থাদির সাহায্য নিয়ে বাংলাদেশের আদি চেহারার কিছুটা হলেও কাঠামো দাঁড় করাতে পেরেছেন লেখক।

 

শহীদুল জহিরের ‘পারাপার’

বিপাশা হায়াত

দেশি-বিদেশি অনেক বই-ই পড়ি। গত বছর পড়েছি এ রকম একটা বাংলা বইয়ের নাম বলতে বললে শহীদুল জহিরের ‘পারাপার’-এর নাম বলব। বইটি পড়ে বেশ তৃপ্তি পেয়েছি।

আমরা অনেক কিছু অনুভব করি, কিন্তু মুখে বলতে পারি না, লেখক বইয়ে তা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। দেখা-অদেখা বিচিত্র অনেক চরিত্র তিনি সহজেই তাঁর লেখনীর মাধ্যমে তুলে আনতে পেরেছেন। এখানে গল্প ও চরিত্র দুটোই রিয়ালিস্টিক। বইটিতে পাঁচটি গল্প—মাটি এবং মানুষের রং, তোরাব শেখ, পারাপার, ঘেয়ো রোদের প্রার্থনা নিয়ে ও ভালবাসা। প্রত্যেকটি গল্পে অনুভবের সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম দিক তুলে ধরেছেন। আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহারও সমৃদ্ধ করেছে গল্পগুলোকে। ওনার প্রথমদিককার লেখা, তবু বেশ ভালো লেগেছে।

শাহিন আখতারের ‘ময়ূর সিংহাসন’

অমিতাভ রেজা 

আমি বইয়ের পোকা। গত বছর পড়েছি এ রকম পছন্দের বইয়ের তালিকা বলতে বলা হলে ১০টার বেশি নাম বলে দিতে পারব। শাহিন আখতারের ‘ময়ূর সিংহাসন’ বেশ ভালো লেগেছে। আওরঙ্গজেবের ভয়ে শাহ সুজার আরাকান পলায়ন এবং আরাকান রাজার হাতে সপরিবারে করুণ পরিণতি বরণ নিয়ে বইটি। বইয়ে কথক হিসেবে একাধিক চরিত্র আছে যাদের মুখে পুরো উপন্যাসের ঘটনাগুলো শুনি। সেই চরিত্রগুলোর কিছু বাস্তব, কিছু কাল্পনিক। কথকদের সব গল্প সত্যি নয়, ইতিহাসের সঙ্গে গল্প মিশিয়ে পরিবেশিত হয়েছে। শাহাদাত হোসেনের ‘আরশিনগর’ বইটির কথাও বলতে হবে। উনি আমার অসম্ভব পছন্দের একজন লেখক। তাঁর সব বই আমার ভালো লেগেছে।

 

আহমদ ছফার ‘মরণ বিলাস’

অনিমেষ আইচ

আহমদ ছফার ‘মরণ বিলাস’ আগেও পড়েছি, এ বছর আবারও পড়লাম। একজন রাজনীতিবিদের মৃত্যু নিয়ে উপন্যাস। সমসাময়িক চিত্রটা ওই সময়ের লেখায় ফুটে উঠেছে। উপন্যাসটা মাথায় ঘুরছে এখনো। এমনিতেই উনি আমার অনেক পছন্দের লেখক। সাহিত্যের প্রায় সব শাখায় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি।

 

সৈয়দ শামসুল হকের

‘প্রণীত জীবন’

রওনক হাসান

এই মুহূর্তে মাথায় ঘুরছে সৈয়দ শামসুল হকের ‘প্রণীত জীবন’। এ বছর আমার পড়া সেরা বই, অলটাইম ফেভারিটও হতে পারে। বইটি পড়লে সৈয়দ শামসুল হকের চিন্তাজগৎ ও জীবন যাপন সম্পর্কে জানার পাশাপাশি ভাষার জাদুময়তায় বিচিত্র দার্শনিক অনুভূতিতে আচ্ছন্ন হয়ে পড়তে হবে। শুরুতেই লেখক পৃথিবীতে আমাদের জন্মগ্রহণ ও জীবন যাপন সম্পর্কে পাঠককে চিরায়ত কিছু দার্শনিক প্রশ্নের মুখোমুখি করে নিজেই উত্তর সন্ধানে এগিয়ে যান। জানিয়ে দেন জন্ম-মৃত্যু-ধর্ম-যৌনতা কিংবা ঈশ্বর বিশ্বাস বা অবিশ্বাস থেকে শুরু করে লেখক হিসেবে শিল্প বিষয়ে নিজস্ব বিশ্লেষণ। একসময় তিনি উপন্যাসের মতো করে একে একে হাজির করেন তাঁর পরিবারের বিভিন্ন চরিত্র, যাদের কর্মকাণ্ড চলচ্চিত্র দেখার মতো করেই পাঠক দেখতে পাবে।

 

সমরেশ মজুমদারের ‘গর্ভধারিণী’

বিদ্যা সিনহা মিম

আমি প্রচুর উপন্যাস পড়ি। সমরেশ মজুমদারের ‘গর্ভধারিণী’ কেন যেন পড়া হচ্ছিল না। গত বছর পড়লাম। সমাজ-রাষ্ট্র পরিবর্তনের ইচ্ছে চার তরুণ-তরুণীর। তারা একটা একটা করে মিশন সম্পন্ন করে। পড়তে গেলে পাঠকের মধ্যে উত্তেজনা কাজ করে। আমার মনে হচ্ছিল, তারা যে কাজটা করতে চায়, তা যথার্থ সেটাই ভালো! কিন্তু যতই সামনে এগোই, ততই তাদের পরিকল্পনার ফাঁকফোকর বের হতে থাকে। বইটা পড়ে কয়েকটা বিষয় মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল। আসলেই কি আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে, মধ্যবিত্ত মানসিকতার এই জীবনে বিপ্লব কার্যকরী? এটা স্পষ্টত দৃশ্যমান, লেখক সমাজতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণায় বিশ্বাসী। উনি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যে কমই বিশ্বাস করেন, তা তাঁর ‘কালবেলা-কালপুরুষ-উত্তরাধিকার’ উপন্যাসেও লক্ষণীয়।

অনুলিখন : ইসমাত মুমু

 


মন্তব্য