kalerkantho

ঐশীভাবনা

ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে প্রকাশ পেয়েছে তাঁর সাতটি গান। গান আর পড়াশোনা নিয়ে আছেন দারুণ ব্যস্ততায়। ফাতেমাতুজ জোহরা ঐশীকে নিয়ে লিখেছেন মীর রাকিব হাসান। ছবি তুলেছেন সুমন ইসলাম আকাশ

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ঐশীভাবনা

ঘুম থেকে ওঠার পর নাশতাটাও ঠিকমতো হলো না, ছুটে গেলেন শমরিতা মেডিক্যাল কলেজে। সেখানেই পড়ছেন ঐশী।

ক্লাস টেস্ট আছে তিনটা, আগের দিন রাত জেগে নিয়েছেন তাঁর প্রস্তুতি। ক্লাস শেষে সরাসরি বাসায় গিয়ে বিশ্রাম নেবেন, সেই সুযোগও হলো না। এক অফিসে যেতে হলো। সেখানে কনসার্টের চুক্তি করতে হবে। সেখান থেকে আবার স্টুডিওতে, ভয়েস দিতে হবে। এত এত ব্যস্ততা সত্ত্বেও হাঁপিয়ে ওঠেননি ঐশী বরং উপভোগ করছেন সময়টা। এসব এখন গা-সওয়া হয়ে গেছে। ‘আজকে তাও অনেকটা কম ব্যস্ততা। যেদিন ঢাকার বাইরে কনসার্ট থাকে সেদিন ভীষণ বিপদে পড়তে হয়। ক্লাস তো আর ফাঁকি দেওয়া চলবে না। দুটোই করতে হয়। চিকিৎসক হওয়া আমার স্বপ্ন আর গান আমার নেশা হয়ে গেছে’, বললেন ঐশী।

৩০ ডিসেম্বর ঘটল মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনা। সেদিন কাপাসিয়ার তারাগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে কনসার্ট ছিল ঐশীর। এই কনসার্টে অংশ নিতে দূর-দূরান্ত থেকে শ্রোতারা আসছিল। এ সময় ট্রলার দিয়ে নদী পার হওয়ার সময় মারা গেল পাঁচজন! ঐশী বলেন, ‘দুর্ঘটনাটা যখন হলো তখন আমি স্টেজে গাইছিলাম। স্টেজ থেকে নামার পর সংবাদটা শুনি, ভীষণ কষ্ট পেয়েছি। ওই কনসার্টে আমি মিলা আপুসহ আরো অনেকেই ছিলাম। ’

ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে প্রকাশ পেল ঐশীর সাতটি গান। এর মধ্যে ডিজে রাহাতের সংগীতেই গেয়েছেন তিনটি। পংকজ, আরফিন রুমি, তানজীব সরোয়ার ও বিবেকের সংগীতে আরো চারটি গান। কেমন হলো গানগুলো? ‘সব গানই আমার পছন্দের। ডিজে রাহাতের গানে রক, সফট মেলোডি আছে। আরফিন রুমি ভাইয়ের গানটি আগে একটা অনুষ্ঠানে গেয়েছিলাম আমরা। গানের কথা খুবই সহজ, ওই অনুষ্ঠানেই সবার মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল। সবাই আমাদের সঙ্গে গেয়েছে। তানজীবের গানটিও বেশ ভালো। আসলে সবার টেস্ট আলাদা, কেউ রক করে, কেউ সফট করে । আমার সবই পছন্দের। যেমন পঙ্কজ চাচ্চুর গানটি কোনো ধাঁচেই পড়ে না, ডিফারেন্ট একটা ফ্লেভার। দর্শক শুনে কিন্তু মজা পাবে’, বললেন ঐশী।

গেল বছরেই প্লেব্যাকে অভিষেক হলো তাঁর। এরই মধ্যে গেয়েছেন ১৮টি চলচ্চিত্রে। সম্প্রতি গাইলেন ‘গহিন বালুচর’, ‘পাষাণ’, ‘দাগ’, ‘অন্তরজ্বালা’, ‘ভ্রমর’, ‘কত স্বপ্ন কত আশা’, ‘হারজিৎ’ ও ‘জেদি’ ছবিতে।

“সিনেমার গান করে অন্য রকম মজা। গানের মাধ্যমে পর্দার চরিত্রটাকে তুলে ধরতে হয়। সিনেমায় যিনি ঠোঁট মেলাবেন কণ্ঠটা যেন তাঁর সঙ্গে যায়, তা নিয়েও ভাবতে হয়। এটাই হলো প্লেব্যাকের কারিশমা। যেমন ‘জেদি’ ছবির নায়িকা অনেক জেদি। সূচনা সংগীত গাওয়ার সময় আমার কণ্ঠেও সেই ভাবটা ফুটিয়ে তুলতে হয়েছে। ‘পাষাণ’ ছবিতে প্রথমবারের মতো কলকাতার আকাশ সেনের সুরে গাইলাম ছবির টাইটেল ‘বন্ধু আমার পাষাণ’। গেয়ে তৃপ্তি পেয়েছি”, বললেন ঐশী।


মন্তব্য