kalerkantho


ইমুর দুনিয়া

তিন দশক ধরে চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন তিনি। ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের ব্যবহার থেকে গল্প উপস্থাপনা—চীনা চলচ্চিত্রকে নতুন মাত্রা দিয়েছেন। ‘দ্য গ্রেট ওয়াল’ মুক্তির আগে ঝ্যং ইমুকে নিয়ে লিখেছেন হাসনাইন মাহমুদ

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ইমুর দুনিয়া

চীনের সবচেয়ে বিখ্যাত পরিচালক তিনি। তিন দশকে বানিয়েছেন ২০টিরও বেশি চলচ্চিত্র, যার প্রায় সবই বিষয়বৈচিত্র্যে আলাদা।

১৯৮৭ সালে ‘রেড সরঘাম’ মুক্তি পায়। নোবেলজয়ী ঔপন্যাসিক মো ইয়ানের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রটি মুক্তির পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রথম ছবিই ঘরে তোলে ‘বার্লিন চলচ্চিত্র উত্সব’-এর সেরা চলচ্চিত্রের তকমা, পাঠানো হয় অস্কারে। ছবির প্রেক্ষাপট ত্রিশের দশকের চীন। টাকার বিনিময়ে বিয়ে হওয়া এক তরুণীর গল্প। ইমুর সবচেয়ে বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘রেইজ দ্য রেড ল্যাটার্ন’-এর গল্পও এক তরুণীকে কেন্দ্র করে। ১৯২০ দশকের চীনের এক সভ্রান্ত পরিবারের চতুর্থ স্ত্রী হিসেবে যার যাত্রা শুরু। সেন্সর পাওয়ার পরও ছবিটি চীনে নিষিদ্ধ ছিল বেশ কিছুদিন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৩—বেশির ভাগ গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উত্সবেই সেরা ছবির পুরস্কার জেতে ছবিটি।

এ ছাড়া ‘জু ডউ’, ‘দ্য স্টোরি অব কিউ জু’, ‘হিরো’, ‘হাউস অব ফ্লাইং ড্যাগারস’, ‘কার্স অব দ্য গোল্ডেন ফ্লাওয়ারস’, ‘ফ্লাওয়ারস অব দ্য ওয়ার’ ইত্যাদি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন তিনি।

ইমুকে নিয়ে আলোচনায় গং লির নাম আসবেই। ১৯৮৭ সালে ‘রেড সরঘাম’ দিয়ে ইমুর সঙ্গেই অভিষেক হয় এই অভিনেত্রীর। এর পরের আট বছর ইমুর সঙ্গে আটটি ছবি করেন লি। ১০ বছরের ছাড়াছাড়ি শেষে ২০০৫ সালে ‘কার্স অব দ্য গোল্ডেন ফ্লাওয়ার’ দিয়ে আবার ইমুর ছবিতে ফেরেন লি। বিশ্ব চলচ্চিত্রে এমন যুগলবন্দি কমই দেখা যায়।

২০০৮ সালে পেইচিং অলিম্পিকের উদ্বোধনী এবং সমাপনী অনুষ্ঠানের পেছনের ব্যক্তিত্বটিও ছিলেন ইমু। অনুষ্ঠান দুটি অলিম্পিক গেমসের ইতিহাসে সেরার তকমা পায়। স্টিভেন স্পিলবার্গ একে ‘এক শ বছরের শ্রেষ্ঠ প্রদর্শনী’ বলে আখ্যায়িত করেন।

বারবার অস্কারে চীনকে প্রতিনিধিত্ব করা, অলিম্পিকে অনুষ্ঠান পরিচালনা করা এবং সমাজতান্ত্রিক চীনের ব্যক্তি স্বাধীনতার অভাবের সমালোচনা থেকে বিরত থাকায় পাশ্চাত্যের অনেক সমালোচক তাঁকে ‘চীন সরকারের প্রতিনিধি’ বলে প্রচার করে। ইমু অবশ্য যার সঙ্গে একমত নন, ‘আমি কারো প্রতিনিধি না। অস্কারে লড়াইয়ের সুযোগ দেওয়ায় সব সময়ই সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ। কিন্তু এর মানে এই নয়, শুধু আমার নামেই সরকার আমার চলচ্চিত্রগুলোকে অস্কারে পাঠাচ্ছে। চলচ্চিত্র বাছাইয়ের জন্য শিল্পবোদ্ধাদের নিয়ে একটি কমিটি রয়েছে। সেরাটাই তারা বাছাই করে। ’

ইমু অবশ্য কিছুদিন আগে চলচ্চিত্রে প্রাচীন চীনা রাজপরিবারের কিছু বিতর্কিত বিষয় ফুটিয়ে তোলায় বর্তমান চীনা রাষ্ট্রপ্রধান শি চিনপিংয়ের প্রবল সমালোচনারও শিকার হন। এ ছাড়া চীনের পরিবার পরিকল্পনা নীতি অমান্য করে তিন সন্তান নেওয়ায় ১২ লাখ ডলার জরিমানাও গুনতে হয়।

ইমু এবার পর্দায় নিয়ে এসেছেন চীনে নির্মিত সবচেয়ে বড় পরিসরের চলচ্চিত্র ‘দ্য গ্রেট ওয়াল’। সম্পূর্ণ ইংরেজি ভাষায় নির্মিত এ চলচ্চিত্রে চমক হিসেবে আছেন হলিউডের প্রথম সারির তারকারা। প্রধান চরিত্রে ম্যাট ডেমন। চীনে রাজপরিবারের শাসনের সময়ে দুই জন বিদেশি যোদ্ধাকে চীনের মহাপ্রাচীরে বন্দি করে রাখা হয়। বন্দি থাকাকালীন এই দুই যোদ্ধা আবিষ্কার করেন এই মহাপ্রাচীর নির্মাণের প্রকৃত উদ্দেশ্য। ভয়ংকর শত্রুর হাত থেকে প্রাচীর রক্ষার লড়াইয়ে দুই বিদেশি যোদ্ধাও যুক্ত হন, যা নিয়েই গল্প। চলচ্চিত্রে ডেমনের পাশাপাশি আরো আছেন জিং টিয়ান, পেদ্রো প্যাসকেল, উইলিয়াম ডিফো, অ্যান্ডি লাউ প্রমুখ। চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্য লেখাতেও আছে চমক। চিত্রনাট্য ও গল্প লেখার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কার্লো বার্নার্ড, টনি গিলরয়সহ প্রমুখ নামি পরিচালক।

প্রায় ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজেটের এ চলচ্চিত্রে মহাপ্রাচীরকে কেন্দ্র করে কাহিনী আবর্তিত হওয়ার বিষয়ে পরিচালক বলেন, ‘মহাপ্রাচীর শুধু আমাদের জাতীয় গর্বই নয়, প্রতিটি মানুষের আত্মার সঙ্গে সংযুক্ত। স্বপ্নের এই চলচ্চিত্র নির্মাণে তাই মহাপ্রাচীরকে কেন্দ্রে নিয়ে আসার সিদ্ধান্তটা নেওয়া অনেক সহজ ছিল। ’

চলচ্চিত্রটি চীনে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর মুক্তি পায়। মুক্তির পর থেকে সিনেমা হলগুলো আয় করেছে ২১৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। চলচ্চিত্রটি নিয়ে এবার ঝ্যং ইমুর দিকে তীর ছোড়া হচ্ছে নিজ দেশ থেকেই। প্রধান চরিত্রে একজন আমেরিকান অভিনেতাকে রাখায় বর্ণবাদের অভিযোগে বিদ্ধ হচ্ছেন তিনি, যা অস্বীকার করে পরিচালক বলেছেন, ‘প্রধান পাঁচ চরিত্রের মধ্যে ম্যাট শুধুই একজন। বাকি চারজনই চীনা তারকা। আর এমনটি নয় যে, তাঁর চরিত্রটি জোর করে প্রবেশ করানো হয়েছে। গল্পের প্রয়োজনেই পশ্চিমা তারকাদের ব্যবহার করেছি। ’


মন্তব্য