kalerkantho


অ-বাক শিল্পী

মূকাভিনয়শিল্পী পার্থপ্রতিম মজুমদারের শিষ্য তিনি। প্রতিষ্ঠা করেছেন মূকাভিনয়ের দল ‘মাইম আর্ট’। মঞ্চে তাঁর ‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’ বেশ প্রশংসিত। মূকাভিনয়শিল্পী নিথর মাহবুবকে নিয়ে লিখেছেন সাইমুম সাদ

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০




অ-বাক শিল্পী

নির্বাক অভিনয়ের সঙ্গে নিথরের পরিচয়টা সেই ছোটবেলায়। প্রায় প্রতিবছরই স্কুলে ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’ প্রতিযোগিতায় নির্বাক অভিনয় করে পুরস্কার পেয়েছেন।

একসময় নরসিংদীতে বন্ধুদের নিয়ে তৈরি করেছেন নাটকের দল ‘নাট্যশীলন’। প্রথম কর্মশালায় প্রশিক্ষণ দিতে ঢাকা থেকে গিয়েছিলেন ‘স্বপ্নদল’ প্রধান জাহিদ রিপন। মূকাভিনয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। মূকাভিনয়ের প্রতি আগ্রহ আরো বেড়ে যায় নিথরের। ‘আরো কারণ ছিল। ছোটবেলা থেকেই এক্সারসাইজ করতাম। অ্যাক্রোবেটরা যা করে, তা করার চেষ্টা করতাম। এতে আমার শরীর অনেক ফ্লেক্সিবল হয়ে যায়। মাথা পেছন নিয়ে ঘুরিয়ে পায়ের সঙ্গে মেলাতে পারতাম। দুই পা দুই দিকে নিয়ে মাটিতে বসে যেতে পারতাম, দুই হাতে ভর করে দুই পা ওপরের দিকে দিয়ে সোজা হয়ে থাকতে পারতাম। এসব কারণে মূকাভিনয়ের অঙ্গভঙ্গিগুলো আমার শরীর সহজেই ধারণ করতে পারে’, বললেন নিথর।

নরসিংদী থেকে ঢাকায় এসে জাহিদ রিপনের ‘স্বপ্নদল’-এ যোগ দিলেন। ঢাকায় তখন মূকাভিনয়ের চর্চা ছিল না বললেই চলে। তারও অনেক দিন পর মূকাভিনয়শিল্পী জিল্লুর রহমান জনের ক্লাস করার সুযোগ হয় নিথরের। ৫০-৬০ জন শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে নিথরকে ডাকলেন জন। বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন, ‘আই অ্যাম প্রাউড অব ইউ’। ‘কী বলব ভেবে পাচ্ছিলাম না। ওই মুহূর্তের কথা মনে হলে এখনো চোখে পানি চলে আসে। জন ভাইয়ের কাছে প্রেরণা পেয়ে আর থামিনি। মূকাভিনয়ে মনোনিবেশ করলাম। পাশাপাশি নাটকের দল নাটুকের সঙ্গেও কাজ করতাম’, বললেন নিথর।

নাটুকের প্রধান নোমানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মূকাভিনয়শিল্পী পার্থপ্রতিম মজুমদারের ভালো পরিচয় ছিল। নোমানের মাধ্যমেই পার্থপ্রতিমের সঙ্গে পরিচয় হয় নিথরের এবং আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে মূকাভিনয়ের দল ‘মাইম আর্ট’ প্রতিষ্ঠা করেন। তরুণদের মূকাভিনয়ে উদ্বুদ্ধ করা, নতুন নতুন মূকাভিনয়শিল্পী তৈরি করা এবং দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা শিল্পীদের সঙ্গে নিয়ে দেশে শিল্পটিকে উজ্জীবিত করতে নানা কর্মসূচির আয়োজন করে দলটি। নিথর বলেন, ‘ঢাকা ও ঢাকার বাইরে পার্থপ্রতিম মজুমদার ও কাজী মশহুরুল হুদার মতো গুণী শিল্পীদের নিয়ে একের পর এক কর্মশালার আয়োজন করি। তিন-চার বছরের মধ্যেই দেশে মূকাভিনয় শিল্পটির প্রতি সংস্কৃতিকর্মীদের আগ্রহ বাড়তে থাকে। ’

নিথরের বেশ কিছু পারফরম্যান্স প্রশংসিত হয়েছে। বিশেষ করে বলা যায়, পার্থপ্রতিম মজুমদারের সংবধর্না অনুষ্ঠানের কথা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজনীতিবিদ ও বিখ্যাত শিল্পীরা। আমেরিকা থেকেও এক শিল্পী এসে পারফরম্যান্স করেছেন। ছিলেন নিথরও। অনুষ্ঠান শেষে রাতে তাঁর মোবাইলে পার্থপ্রতিমের মেসেজ, ‘এক্সিলেন্ট পারফরম্যান্স, আমি খুবই খুশি হয়েছি। ’ সোয়া এক ঘণ্টার একক মূকাভিনয় প্রযোজনা ‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’ দিয়েও প্রশংসিত নিথর। ‘এটা আমার জীবনেরই গল্প। প্রতিটি বেকার ও হতাশাগ্রস্ত যুবকের জন্য শিক্ষনীয় একটি মাইমোড্রামা’, বললেন নিথর।

মূকাভিনয়ের পাশাপশি মঞ্চনাটকও করছেন। শূন্যন থিয়েটারের ‘লালজমিন’-এর নেপথ্য কর্মী। নরসিংদী জেলা শিল্পকলা একাডেমি থেকে চার বছর মেয়াদি রবীন্দ্রসংগীত কোর্সও করেছেন। ‘এখনো গানের চর্চা করি। আবৃত্তি করি, মঞ্চের জন্য নাটক লিখছি, নির্দেশনাও দিচ্ছি। কেউ ডাকলে টিভি নাটকেও অভিনয় করি। সবচেয়ে বড় যে কাজটা করি সেটা হলো লেখালিখি। কী লিখছি, সেটা এখনই জানাব না’, বললেন নিথর।

এ মাসে তিনটি শো আছে নিথরের। ১৩ ফেব্রুয়ারি বইমেলায় মুক্তমঞ্চে, ১৪ ফেব্রুয়ারি রবীন্দ্রসরোবরে এবং ১৮ তারিখ সাভারে। এর মধ্যে ‘লালজমিন’ নাটক নিয়ে কিশোরগঞ্জ ও বগুড়া যাওয়ারও কথা রয়েছে তাঁর।

 

 


মন্তব্য