kalerkantho


সুফি কি সুলতানা

‘রইস’ ছবিতে হর্ষদ্বীপ করের গাওয়া ‘জালিমা’ এখন মির্চি টপ চার্টের এক নম্বরে। অমিতাভ বচ্চন তাঁকে দিয়েছেন ‘সুফি কি সুলতানা’ উপাধি। তবে শুধু সুফি গানেই থেমে থাকতে চান না এই গায়িকা। তাঁর স্বপ্ন সংগীত পরিচালক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা। লিখেছেন সাজ্জাদ হোসাইন

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সুফি কি সুলতানা

৫ জানুয়ারি ইউটিউবে ছাড়া হয় ‘রইস’ ছবির ‘জালিমা’। তিন দিনেই গানটির ভিউয়ার হয়েছিল প্রায় ২০ লাখ। রীতিমতো রেকর্ড! আর এখন পর্যন্ত দেখা হয়েছে প্রায় ৬৩ কোটি বার। বর্তমানে মির্চি টপচার্টের ১ নম্বর গান এটি। অরিজিত সিংয়ের সঙ্গে গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন হর্ষদ্বীপ কর। দুজন একসঙ্গে অনেক কনসার্ট করলেও ছবিতে একসঙ্গে গাননি কখনো। এবারও হলো না! দ্বৈত গান হলেও যে ‘জালিমা’র রেকর্ডিং হয়েছে আলাদাভাবে। সে যাই হোক। গান তো সুপারহিট। বছরের শুরুটা এমনভাবে করতে পারায় দারুণ খুশি হর্ষদ্বীপ।

দিল্লির এক পাঞ্জাবি পরিবারে জন্ম এই গায়িকার।

বড় হয়েছেন গানের পরিবেশেই। বাবা সাবিন্দর সিংয়ের বাদ্যযন্ত্রের দোকান ছিল দিল্লিতেই। সেই সুবাদে বাড়িতে প্রায় সব ধরনের বাদ্যযন্ত্রই থাকত। হাতেখড়ি সেখান থেকে। প্রথম সা রে গা মা শিখিয়েছিলেন বাবাই। হর্ষদ্বীপকে প্রশ্ন করা হয়েছিল গানের জগতে রোল মডেল মানেন কাকে? বলেছিলেন, ‘বাবাই আমার রোল মডেল। কারণ আমার গানের শুরুটা তাঁর হাত ধরেই। ’

নিজের ইচ্ছাটাও ছিল প্রবল। ২০০১ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে ‘এমটিভি ভিডিও গাগা’ প্রতিযোগিতায় নাম লেখিয়ে সবাইকে অবাক করে প্রথম হয়েছিলেন। পেছনে ফেলেছিলেন ১০ হাজার প্রতিযোগীকে। প্রতিযোগিতার ফাইনালে রিচা শর্মার গাওয়া ‘লাম্বি জুদাই’ গেয়ে দর্শক-শ্রোতাদের আবেগের বন্যায় ভাসিয়েছিলেন। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।

সে বছরই পাঞ্জাবের জনপ্রিয় গায়ক পাম্মি ভাইয়ের সঙ্গে বের করেন দ্বৈত অ্যালবাম। পরের বছর রুপালি পর্দায় অভিষেক। ছবির নাম ‘আপকো পেহলা ভি কাহি দেখা হ্যায়’। সংগীত পরিচালক নিখিল-বিনয়। ছবিতে প্রথম গান গাওয়া প্রসঙ্গে শিল্পীর ভাষ্য ছিল, ‘জাগজিৎ সিং, আশা ভোঁসলে, অলকা ইয়াগনিক, সনু নিগমদের মতো কিংবদন্তির সঙ্গে পর্দায় নিজের নাম দেখাটা ছিল অসাধারণ এক ব্যাপার। ’ প্রথম বড় পর্দায় নিজের কণ্ঠ শোনার প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘এটা জীবনেও ভোলার মতো নয়। আমার সঙ্গে বসে হাজার হাজার মানুষ আমার গান শুনছে। তার আগ পর্যন্ত আমার গান শুধু পরিবারের লোকরাই শুনত, এবার বাইরের লোকরাও শুনছে। আর মা-বাবা তখন আমার পাশে বসে খুশিতে কাঁদছেন। ’

২০০৫ সালটা ছিল হর্ষদ্বীপের জন্য বিশেষ। এ বছর কিংবদন্তি এ আর রহমানের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। ‘এক ওঙ্কার’ শিরোনামের গানটি ব্যবহূত হয় ২০০৬ সালের জানুয়ারিতে মুক্তি পাওয়া বলিউডের আলোচিত ছবি ‘রং দে বাসন্তী’তে। হর্ষদ্বীপ বলছিলেন, ‘এ আর রহমান একজন কিংবদন্তি। যেদিন স্টুডিওতে গেলাম গানটি রেকর্ড করতে, মনে হচ্ছিল কোনো বোর্ড পরীক্ষা দিতে এসেছি। কিন্তু কিছু সময় পরেই সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে যায়। ’ আরো যোগ করেন, ‘এটা শুধু একটা গানই নয়, শিখ ধর্মাবলম্বীরা সকালের প্রার্থনায় এটি গায়। গানটির রেকর্ডিং হয়েছিল ভোর ৪টার দিকে। বিশ্বাস করা হয় যে ভোরবেলা ঈশ্বরের সময়। যখন গানটি গাইছিলাম তখন অনুভব করছিলাম যে ঈশ্বর পাশেই আছেন। ’

২০০৮ সালে ‘জুনুন : কুছ কার দেখানে কা’ নামের আরেকটি প্রতিযোগিতায় অংশ নেন হর্ষদ্বীপ। সুফি ক্যাটাগরিতে সেখানেও যথারীতি প্রথম স্থানটি লাভ করেন।

গ্র্যান্ড ফিনালের দিন অমিতাভ বচ্চন তো তাঁকে ‘সুফি কি সুলতানা’ উপাধিই দিয়ে দিলেন। এর পর থেকে গানের জগতে নিজের আসনটি আরো পাকা করতে থাকেন। এর মধ্যে ‘এ আর রহমানের সংগীতে আবারও কণ্ঠ দেন ‘রকস্টার’ ছবিতে। নিজেকে শুধু গায়িকা হিসেবে পরিচিত করতে চান না হর্ষদ্বীপ। সংগীতের আরো গভীর সমুদ্রে ডুব দেওয়ার ইচ্ছা তাঁর। তাইতো ঝুঁকছেন কম্পোজিশনের দিকে। কাজে লাগাতে চান নিজের ক্লাসিক্যাল আর পিয়ানোর তালিমও। ‘আমি চাই না মানুষ আমাকে শুধু একজন কণ্ঠশিল্পী হিসেবে চিনুক। পৃথিবীর কাছে আমি পরিচিত হতে চাই পূর্ণাঙ্গ একজন মিউজিশিয়ান হিসেবে। সংগীতের প্রতিটি শাখায় বিচরণ করতে চাই। ’

এত জনপ্রিয়তার পরও সেটা নিয়ে খুব বেশি ভাবতে রাজি নন এই সুফিকন্যা। তার চেয়ে বরং সংগীতজগতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন রাস্তা খোঁজায় উৎসাহী। ‘সব জায়গাতেই ক্যারিয়ার গড়ার জন্য সংগ্রাম করতে হয়। কিন্তু গানের ক্ষেত্রে মনে হয় একটু বেশিই করতে হয়। কিছু শিল্পী আছেন যাঁরা পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়ে আসেন না। তাঁরা মনে করেন, একটি গান হিট হলেই অথবা কোনো রিয়ালিটি শো’তে অংশ নিতে পারলেই ইন্ডাস্ট্রিতে রাস্তা সহজ হয়ে যাবে। ব্যাপারটা আসলে এত সহজ নয়। এখানে নিজের জনপ্রিয়তা অথবা সাফল্য ধরে রাখা খুবই কঠিন। ’


মন্তব্য