kalerkantho


আমার প্রিয় ভালোবাসার গান

ভালোবাসার গানের শেষ নেই। একেক গান একেকজনের কাছে প্রিয়। ১৪ ফেব্রুয়ারি সামনে রেখে নিজেদের প্রিয় ভালোবাসার গানের কথা জানিয়েছেন কয়েকজন সংগীতশিল্পী। সাজিয়েছেন রবিউল ইসলাম জীবন

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আমার প্রিয় ভালোবাসার গান

তুমি যে আমার

সাবিনা ইয়াসমিন

ভালোবাসার গানের মধ্যে আমার প্রথম পছন্দ ‘হারানো প্রেম’ ছবিতে গীতা দত্তের গাওয়া ‘তুমি যে আমার’। গানটির মুখ—‘তুমি যে আমার, ওগো তুমি যে আমার/তুমি যে আমার, ওগো তুমি যে আমার/কানে কানে শুধু একবার বলো তুমি যে আমার’।

খুব অল্প কথায় সাজানো। অথচ কী চমত্কার লাগে শুনতে। জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই শুনছি। কথা, সুর, সংগীত সবই অসাধারণ। একা থাকলে প্রায় সময়ই গুনগুন করি। মনের অজান্তেই গানটি হূদয়ে দোলা দেয়। যখন হারমোনিয়াম নিয়ে বসি, প্র্যাকটিস করি কিংবা আড্ডা দিই তখনো গাই। গৌরীপ্র্রসন্ন মজুমদারের লেখা এ গানের সুরকার হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। পর্দায় গানটির সঙ্গে ঠোঁট মেলান সুচিত্রা সেন।

 

আমার একদিকে শুধু তুমি

কুমার বিশ্বজিৎ

ভালোবাসার এত এত প্রিয় গান আছে সেখান থেকে একটা বাছাই করা খুব কঠিন। তার পরও এ মুহূর্তে যেটির কথা বেশি মনে পড়ছে সেটি হলো মান্না দের গাওয়া ‘আমার একদিকে শুধু তুমি’। যতদূর মনে পড়ে আশির দশকে পূজায় গানটি প্রকাশ পায়। প্রথম শুনেই গানটির প্রেমে পড়ে যাই। কথা, সুর, সংগীত সবই অতুলনীয়। তবে কথাটা আমাকে বেশি টাচ করে। ‘আমার একদিকে শুধু তুমি, শুধু তুমি/আমার একদিকে শুধু তুমি, পৃথিবী অন্যদিকে/এদিকে একটি প্রদীপ সূর্যটা ওদিকে/আমি তোমারই দিকটা নিলাম/আমি তোমারই দিকটা নিলাম’।

বলা যায়, এসব গান শুনেই আমার বড় হওয়া। একাকিত্বে, ঘরোয়া অনুষ্ঠানে, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় বহুবার গানটি করেছি। যতবারই শুনি মুগ্ধতার রেশ কাটে না। প্রতিবারই নতুন মনে হয়। আমার মতে, ভালোবাসার গান এমনই হওয়া উচিত।

 

আমি আকাশ হব

ফাহমিদা নবী

ভালোবাসার অসংখ্য গান শুনেছি। নিজেও অনেক গানে কণ্ঠ দিয়েছি। এর মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় নিজেরই গাওয়া ২০০৭ সালে প্রকাশিত ‘আমি আকাশ হব’। কথা ও সুর ‘অবসকিওর’ ব্যান্ডের ভোকাল সাঈদ হাসান টিপুর। গানটির কথায় আকাশ, নদী, জোছনা, বিষাদসহ ভালোবাসার অনেক শব্দ আছে, যা সুরের সঙ্গে শুনতে অদ্ভুত লাগে। শোনার সময় মনে হয় কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছি। এতে কণ্ঠ দেওয়ার অভিজ্ঞতাও দারুণ। একদিন বিকেলে বাজার করতে বেরিয়েছি। হঠাৎ টিপুর কল। কই আপনি? আমি বললাম বাজারে! বলল, ‘এসব বাজার বাদ দিয়ে তাড়াতাড়ি স্টুডিওতে আসেন। নতুন একটি গান বানিয়েছি। কণ্ঠ দিয়ে যান। ’ আমি বললাম, ‘শুনতে তো হবে। না শুনে কিভাবে কণ্ঠ দেব?’ তার পীড়াপীড়িতে সেখান থেকেই চলে যাই স্টুডিওতে। এক লাইন এক লাইন করে ভয়েস রেকর্ড করা হয়। পরদিন স্টুডিওর সবাইকে গানটি শেনাতে শোনাতে টিপুর ফোন, ‘কী গাইলেন! এই গান শুনতে শুনতে তো আমরা পাগল হয়ে যাচ্ছি!’ প্রকাশের পর গানটি শ্রোতারা বেশ পছন্দ করে।

 

ভালোবাসো বলে

 

এস ডি রুবেল

নিজেরই গাওয়া ‘ভালোবাসো বলে’ গানটি আমার সবচেয়ে প্রিয়। ২০১১ সালে প্রকাশিত আমার ‘এক চাঁদনী রাতে’ অ্যালবামের গান এটি। গীতিকার কাজী বিভাস। সুর ও সংগীত আমারই। ভালোবাসার অসংখ্য গান শুনেছি, গেয়েছি; তবে এই গানের মতো এত ভালো লাগা কোনোটির প্রতি তৈরি হয়নি। ‘ভালোবাসো বলে আমার আকাশ জুড়ে জোছনা হাসে/ভালোবাসো বলে কষ্ট পাওয়া এই মন স্বপ্ন দেখে’—গানটির কথায় ভালোবাসার দুই পিঠ কষ্ট ও সুখ দুটিই আছে, যা আমাকে বেশি আকৃষ্ট করে।

 

বেপরোয়া মন

হাবিব ওয়াহিদ

ভালোবাসার গান হিসেবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে পছন্দ আমারই গাওয়া ‘বেপরোয়া মন’। ছয় মাস ধরে গানটি মাথার ভেতর ঢুকে আছে। নিজের গাওয়া গানের মধ্যে ‘কেন বা এলে’ গানটির পর এটিই সবচেয়ে বেশি আবেগ দিয়ে গাইতে পেরেছি। সুরটি অনেক বেশি টাচি। সুরের ওপর কথাগুলো লিখেছেন কলকাতার গীতিকার ঋদ্ধি। ‘ওরে মন, বেপরোয়া কেন আজ/এতবার শোন মুছে দি প্রেমেরই লাজ’—সুরের সঙ্গে কথাগুলো শুনতেই অন্য রকম এক শিহরণ জাগে। প্রায়ই গানটি শুনি। চলতে ফিরতে গুনগুন করি। শ্রোতাদের কাছ থেকেও অনেক রেসপন্স পেয়েছি। বলা যায়, গত দুই-তিন বছরের মধ্যে আমার সেরা গান এটি। আর তাই নিজেই নিজের গানের ভক্ত  বনে গেছি।

 

ভালোবাসি ভালোবাসি

পড়শী

ভালোবাসার গান বলতে যেটি আমার মাথায় সবচেয়ে আগে আসে সেটি হলো রবীন্দ্রনাথের ‘ভালোবাসি ভালোবাসি’। যখন খুব ছোট ছিলাম তখন থেকেই শুনছি। হাতেখড়ির সময় থেকে গাইতেও শুরু করি। বড় হওয়ার পর গানটিকে আরো গভীরভাবে উপলব্ধি করি। কথাগুলো একদম মিষ্টি। বিশ্লেষণটা অসাধারণ! সুরটা শান্ত মেজাজের। শুনলেই যেন মন ভালো হয়ে যায়। বলা হয়, ভালোবাসার অনুভূতিটাকে সত্যিকার অর্থেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এ গানে। যখন হারমোনিয়াম নিয়ে বসি, একা থাকি গাই। অনেক সময় মা আমাকে অনুরোধ করেন গানটি শোনাতে।

তবে শ্রোতাদের জন্য কখনো গাওয়া হয়নি। সময় সুযোগ বুঝে নতুন সংগীতায়োজনে গানটিতে কণ্ঠ দেব। তবে প্রকাশ করব ভিডিও আকারে।


মন্তব্য