kalerkantho


পর্দা ও জীবনের

প্রেম-ভালোবাসা

ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে কাল মুক্তি পাবে জাকির হোসেন রাজুর ‘প্রেমী ও প্রেমী’। রোমান্টিক এই ছবিতে প্রথমবারের মতো জুটি বাঁধলেন আরিফিন শুভ ও নুসরাত ফারিয়া। তাঁদের পর্দার প্রেম আর ব্যক্তিজীবনের প্রেম নিয়ে কথা বলেছেন মীর রাকিব হাসান

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



প্রেম-ভালোবাসা

অন্তর্মুখী স্বভাবের ছেলে শুভ, সাত চড়েও রা নেই। আর ফারিয়া উড়নচণ্ডী।

লন্ডন ফেরত ফারিয়া কলকাতা যাচ্ছে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে। যাত্রাপথে শুভর সঙ্গে পরিচয়। ফারিয়ার সেই প্রেমিককে খুঁজে বের করার দায়িত্ব নেয় শুভ। ঝগড়াঝাঁটি, কান্নাকাটি, হল্লাহাটি শেষে একে অপরের কাছে আসার গল্প ‘প্রেমী ও প্রেমী’। আড্ডার শুরুতে ছবির এইটুকু গল্প বলেই থেমে গেলেন দুজন। জানিয়ে দিলেন ‘বিস্তারিত জানতে আপনাকে যেতে হবে সিনেমা হলে। ’

ভালোবাসা দিবসের ছবি। কথা হচ্ছিল ভালোবাসার নানা দিক নিয়ে। শুরুটা করলেন ফারিয়া, ‘আমার কাছে ভালোবাসার আরেক নাম যত্ন।

মনের মানুষটা কখনো বন্ধু হয়ে যত্ন নেবে, কখনো অভিভাবক হয়ে। মুড বুঝে তাকে চরিত্র বদলাতে হবে। আমার জগত্জুড়ে থাকবে সে আর তার ভাবনাজুড়ে থাকব আমি—এই চাওয়া-পাওয়াটাই হলো প্রেম, এটাই ভালোবাসা। ’

‘ঝগড়াঝাঁটিও কিন্তু ভালোবাসার একটা পার্ট’—পাশ থেকেই যোগ করলেন শুভ। ব্যাখ্যাটাও দিলেন, ‘এই ছবির শুটিং করতে গিয়েই এমন একটা অভিজ্ঞতা হয়েছিল। আমি, ফারিয়া, ফারিয়ার আম্মু আর পরিচালক রাজু স্যার গাড়িতে করে যাচ্ছিলাম। আমি আর রাজু স্যার সিনেমার হালহকিকত নিয়ে আলাপ করছিলাম। ফারিয়া কোনো কথা না বলে মোবাইল টিপছে। আমি মজা করে বললাম, তুমি কি কিছু বলবে? বলবে কিভাবে, তুমি তো সিনেমা সম্পর্কে কিছু জানোই না। শুরু হয়ে গেল তুমুল ঝগড়া, একেবারে তুই-তোকারি লেভেলে। পরিচালককে জানিয়ে দিলাম, একসঙ্গে শুটিংই করব না। কিসের কী! পরের দিনই আবার আমরা ঠিক সময়েই শুটিংয়ে হাজির। হাসাহাসি, খুনসুটি। প্রেমিক-প্রেমিকারা এখান থেকেও শিক্ষা নিতে পারেন। খারাপ সময়টা ভুলে গিয়ে ভালো সময়ে আসতে হবে। দুজনের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে পরিবার-পরিজনও। তাদের কিন্তু আমরা বঞ্চিত করতে পারি না। ’

হঠাৎই শুভর দোষ খুঁজে বের করলেন ফারিয়া—‘ও খুব জ্ঞান দেয়, এটাই ওর সবচেয়ে খারাপ অভ্যাস। এই অভ্যাসের কারণেই আমাদের ঝগড়া হয় বেশি। ’ হেসে হেসেই বললেন ফারিয়া, শুনে হাসলেন শুভও।

ছবিতে তো একের পর এক প্রেম করতে হয় তাঁদের। কিন্তু বাস্তবজীবনে প্রথম প্রেমে পড়ার ঘটনাটা কেমন? ফারিয়াই শুরু করলেন, ‘২০০৭ সালের কথা। ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে থাকি। আমি তখন শহীদ আনোয়ারা গার্লস স্কুলে ক্লাস সিক্সে পড়ি। একটা ছেলের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। ওর নাম বলতে চাইছি না। আমাদের বাসার কাছেই তার বাসা। বারান্দা থেকে তার ঘরের বারান্দা দেখা যেত। চোখাচোখি ওখান থেকেই শুরু, এরপর বারান্দা থেকে বারান্দা, বাসার ছাদে উঠে ইশারায় কথা বলা। সপ্তাহে এক দিন বুধবার রাতে বাসার টিঅ্যান্ডটি ফোনে তার সঙ্গে কথা বলতাম। পরের বছর আমি ক্লাস সেভেনে আর ছেলেটি এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। বাসা থেকে একটি মুঠোফোন কিনে দেওয়া হলো। তখন প্রতিদিন ফোনে কথা হতো। ও আমাকে খুবই ভালোবাসত। দূর থেকে প্রেম-ভালোবাসা অনেক হলো, সিদ্ধান্ত নিলাম দেখা করব। ওই এক দিনই আমাদের দেখা হয়েছিল। মনে আছে ওই দিন আমি সাদা সালোয়ার-কামিজ পরেছিলাম আর ও নীল জিনস আর সাদা শার্ট পরেছিল। লজ্জায় আমি তো ওর দিকে তাকাতেই পারিনি সেদিন। এরই মধ্যে মা জেনে গেল সব। বারান্দা কিংবা ছাদে যাওয়ার ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হলো। আমার ফোনও চেক করা শুরু হলো। কথা না হতে হতেই সম্পর্কটা আর টিকল না। ছেলেটিও হারিয়ে গেল। ’

শুভর গল্পটা অবশ্য ব্যর্থতার—‘আমরা একই পাড়ায় থাকতাম। মেয়েটির সঙ্গে আমার নিয়মিত দেখা হতো। কিন্তু কথা বলতে পারতাম না। সে আমাদের বাসায় আসত। আমার সামনে যখন আসত চোখে তেমন কিছুই দেখতাম না, চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতাম। পাড়ার কিছু ছেলে ওর সঙ্গে বাজে ব্যবহার করত। বিষয়টি আমার খারাপ লাগত। তখন মনে হতো, প্রেমের প্রস্তাব দিলে মেয়েটি যদি আমাকে পাড়ার অন্য ছেলেদের কাতারে ফেলে দেয়! এই ভয়ে তাকে কখনোই ভালো লাগার কথাটা বলার সাহস পাইনি। মেয়েটির পক্ষ থেকেও কোনো ইঙ্গিত পাইনি। দুজনই অল্প বয়সের ছিলাম। এটাকে বালক বয়সের প্রেমই বলা যায়। ’

ব্যক্তিজীবন থেকে আবার সিনেমার গল্পে। ‘প্রেমী ও প্রেমী’র আগে তিনটি ছবি করেছেন ফারিয়া। তিনটিই যৌথ প্রযোজনার। পরিচালক ভারতের, নায়কও ভারতের। এবারই প্রথম দেশীয় পরিচালক ও নায়কের বিপরীতে অভিনয় করলেন। “জাকির হোসেন রাজু স্যার দেশের নামকরা নির্মাতা। তাঁর কাজের স্টাইল আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। ধরে ধরে কাজ করেন। শুভর সঙ্গে আগে একটি বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছি। আমাদের দুজনের রসায়ন দর্শকের ভালো লাগবে। এই ছবি মুক্তি পেতে না পেতেই নতুন আরেকটি ছবি ‘ধ্যাততেরিকি’তে অভিনয় করছি শুভর সঙ্গে”—বললেন ফারিয়া।

‘প্রেমী ও প্রেমী’ নিয়ে শুভ বলেন, ‘মন দিয়ে অভিনয় করেছি। চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখিনি। রাজু স্যার ভীষণ সহযোগিতা করেছেন। এ কারণেই ছবিটি নিয়ে মনে আশা জেগেছে। বাকিটা নির্ভর করছে দর্শকের ওপর। ’


মন্তব্য