kalerkantho


গানের শহরে হোরান

আয়ারল্যান্ডের গায়ক, গীতিকার নিয়াল হোরান। তাঁর গাওয়া ‘দিস টাউন’ এখন বেশ আলোচিত। ২৩ বছর বয়সী এই তরুণকে নিয়ে লিখেছেন আবু সালেহ শফিক

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



গানের শহরে হোরান

গার্ডিয়ানের হ্যারিয়েট গিবসন লিখেছেন, ‘দিস টাউন গানটি দিয়ে হোরান জানান দিল, সে আসছে। ’ এন্টারটেইনমেন্ট উইকলির সম্পাদক ম্যাডিসন ভেইন বলেছেন বেশ মজার কথা, ‘ছেলেটি  কথাগুলো সম্ভবত অনেক দিন চেপে রেখেছিল। যখন বলেছে মধুর লাগল। ’ আরো বলেন, “বব ডিলানের গান হোরান অনেকবার শুনেছে। ‘দিস টাউন’ সে কথা মনে করিয়ে দেয়। অবশ্য এড শিরানকেও টের পাবেন গানটিতে। ” হোরান বলেন, ‘হ্যাঁ, গানটি শুনলে শ্রোতাদের বব ডিলান এবং দ্য লুমিনিয়ারসের (আমেরিকার ফোক রক ব্যান্ড) কথা মনে পড়বে। ’

গত ২৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশ পায়  নিয়াল হোরানের ‘দিস টাউন’। এটি তাঁর প্রথম একক গান। হোরানের সঙ্গে গানটির লেখক হিসেবে আরো চারজনের নাম পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন জেমি স্কট, মাইক নিডল, ড্যানিয়েল ব্রায়ার ও ওডহান ডোরিয়ান। প্রকাশ করেছে ক্যাপিটাল রেকর্ডস। গানটি ইউকে সিঙ্গলস চার্টে ৯ নম্বর জায়গা দখল করে আর ইউ বিলবোর্ড হট হান্ড্রেডে ২০ নম্বর। গানটির কয়েকটি বাক্য এমন—

‘এখনো এ শহরে তোমার সুগন্ধির গন্ধ ভাসে

বিশ্বাস করো, আমি ঘ্রাণ পাচ্ছি

মনে হলো, তোমার ছায়াও দেখলাম

পুরনো এ শহরটা বুঝি আর বদলাল না...’

‘ওয়ান ডিরেকশন’ ব্যান্ডের সদস্য হোরান। একই সঙ্গে তিনি গান লেখেন, কণ্ঠ দেন, গিটার বাজান। ওয়ান ডিরেকশনের সদস্য হিসেবেই তাঁর বেশি পরিচিতি। ২০১০ সালে ব্রিটিশ রিয়ালিটি শো ‘দ্য এক্স ফ্যাক্টর’-এ একক শিল্পী তালিকায় নাম লেখান হোরান। কিন্তু বেশিদূর যেতে পারেননি। তবে বিচারক নিকোল শেরজিঙ্গারের পরামর্শে হ্যারি স্টাইলস, জায়ান মালিক, লিয়াম পেইন ও লুই টমলিনসনের সঙ্গে জোট বেঁধে ওয়ান ডিরেকশন গড়ে তোলেন। ব্যান্ডটি ব্যাপক সাফল্য পায় এবং ‘এক্স ফ্যাক্টর’ প্রতিযোগিতার ফাইনালেও উঠে আসে। তার পরই ওয়ান ডিরেকশন দুই মিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তি পেয়ে যায়। হোরানের জন্ম ১৯৯৩ সালে, আয়ারল্যান্ডের মুলিঙ্গারে। বয়স যখন পাঁচ, তখন      মা-বাবার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। ভাই গ্রেগ হোরানকে নিয়ে বাবা ও মায়ের কাছে ভাগাভাগি করে থাকেন হোরান। শেষে বাবার সঙ্গেই থিতু হন। গিটারটি ক্রিসমাসে উপহার পেয়েছিলেন গ্রেগই। কিন্তু বাজাতে শুরু করেন হোরান। ইউটিউব দেখে দেখে শিখতে থাকেন বাজানো। ফুফুই প্রথম হোরানের প্রতিভা টের পান। তাঁরা সেদিন গাড়িতে করে কোথাও যাচ্ছিলেন। হোরান হঠাৎই গেয়ে ওঠেন। ফুফুর মনে হয়েছিল, বুঝি রেডিওতে গান বাজছে। কৈশোরে মুলিঙ্গার আর্টস সেন্টার গান গেয়েছেন হোরান। তারপর ‘এক্স ফ্যাক্টর’ হয়ে ওয়ান ডিরেকশন। আর এখন তো ‘দিস টাউন’ দিয়ে নাম করেছেন সারা বিশ্বে। ডিজিটাল স্পাইকে এই গায়ক বলেন, ‘মাইকেল বুবলির বিরাট প্রভাব আছে আমার ওপর। বুবলির জীবনও অনেকটা আমার মতোই। বুবলিকে আবিষ্কার করেছেন তাঁর বাবা, আর আমাকে আবিষ্কার করেছেন ফুফু। ’

হোরান ফ্রাংক সিনাত্রা, ডিন মার্টিনেরও খুব ভক্ত। রক মিউজিক পছন্দ করেন। ‘দ্য ইগলস’, ‘বন জোভি’ ও ‘দ্য স্ক্রিট’ তাঁর ভালো লাগে। ‘দিস টাউন’ গানটি পপ-ফোক ধাঁচের।


মন্তব্য