kalerkantho


আসছেন আনিকা

‘পাওয়ার ভয়েস’ খ্যাত গায়িকা তাসনিম তামান্না আনিকা। ২০১৫ সালে আসে তাঁর প্রথম সিঙ্গল ‘ইচ্ছে ঘুড়ি’। এ বছর আসবে প্রথম একক। লিখেছেন আতিফ আতাউর

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আসছেন আনিকা

আনিকা এখন স্টেজ শো নিয়ে এত ব্যস্ত যে শিডিউল মেলানোই মুশকিল। পুরো জানুয়ারি মাস গান করেছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

ফেব্রুয়ারির সব তারিখেও শিডিউল দিয়ে রেখেছেন। অথচ অবাক ব্যাপার হচ্ছে, আনিকার গানই মাত্র দুটি। ২০১৫ সালের পহেলা বৈশাখে আসে তাঁর প্রথম গান ‘ইচ্ছে ঘুড়ি’। ইফতেখার সুজনের লেখা আর মীর মাসুমের সুর করা সে গানটির জন্য অনেকের কাছ থেকেই ইতিবাচক সাড়া পান। অডিওর পর ভিডিওতে নিজেই মডেল হন গায়িকা। প্রথম গানেই মেলে ভালো সাড়া। এরপর গত বছর আসে  দ্বিতীয় গান ‘পারি না’। মীর মাসুমের সুরে এ গানটির সংগীত করেন ডিজে রাহাত।

আনিকা বলেন, “পাওয়ার ভয়েসের পর থেকেই স্টেজ পারফরম করি।

স্টেজে গাইতে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি। রক গাইতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। যে কারণে স্টেজে আমার গায়কি শ্রোতারা খুব পছন্দ করে। আগে অন্য শিল্পীদের গান করতাম। এখন শ্রোতাদের অনুরোধে নিজের গানও গাই। আমার দুটি গানই শ্রোতাদের কাছে ভালোভাবে পৌঁছেছে। স্টেজে অনেক সময়ই ‘ইচ্ছে ঘুড়ি’ গানটির অনুরোধ পাই। ”

এ বছরই নিজের প্রথম একক বের করবেন এই গায়িকা। সেই প্রস্তুতিই নিচ্ছেন এখন। বলেন, ‘নিজের প্রথম একক অ্যালবামের কাজ করছি। একটি গান তৈরিও হয়ে গেছে। তবে তথ্যগুলো এখনই জানাতে চাই না। এটা চমক হিসেবেই থাক। সব কাজ শেষ হওয়ার পর ধুমধাম করে সবাইকে জানাব। ’

নিজের ইউটিউব চ্যানেল ‘তাসনিম আনিকা’য় সময় দিচ্ছেন। চ্যানেলটিকে ঘিরে বেশ কিছু পরিকল্পনাও করেছেন। এই চ্যানেল দিয়েই শ্রোতাদের সঙ্গে বন্ধন গড়ে তুলতে চান তিনি। স্টেজ আর অডিওর পাশাপাশি কয়েকটি চলচ্চিত্রেও শোনা গেছে আনিকার কণ্ঠ। এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘চলচ্চিত্রে গাওয়ার স্বপ্ন ছিল অনেক আগে থেকেই। এই মাধ্যমে গাইতে গেলে অনেক কিছু চিন্তা করতে হয়। দিন শেষে গানটি ভালো গাইতে পারলে আনন্দ লাগে। এটা আমি খুব এনজয় করছি। ’

ছোটবেলা থেকেই টিফিনের টাকা জমিয়ে সিডি কিনতেন। সিডিতে গান শুনে নিজেই গুনগুন করে গাইতেন। আনিকা বলেন, ‘রকগান ভালো গাইতে পারায় মনে হতো—ইস্, আমি যদি রকস্টার হতে পারতাম!’

একবার চট্টগ্রামে ‘মিস চিটাগং’ প্রতিযোগিতা হবে। দেখতে সুন্দরী! তাই শখে নাম লেখান আনিকা। সবাইকে চমকে দিয়ে মুকুটটিও ছিনিয়ে নেন। এরপর মডেলিং ও অভিনয়ের অনেক প্রস্তাব পেয়েছেন। তবে আনিকার মন ছিল গানে। ‘পাওয়ার ভয়েস’-এ নাম লেখান হঠাৎ করেই। জায়গা করে নেন সেরা দশেও। এত দূর এসে বিদায় নেওয়ায় একটু আক্ষেপই চেপে বসে আনিকার মনে। তবে থেমে থাকেননি। নিজের মতো করে কাজ করে যাচ্ছেন। বাড়ছে পরিচিতিও। আনিকার জন্ম ও বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামে। বাবা মঈনুদ্দিন আহমেদ ব্যবসা করেন। একসময় তিনি ছিলেন চট্টগ্রামের ‘জেমিং’ ব্যান্ডের ভোকাল। তাঁর কাছেই প্রথম তালিম নিয়েছেন। মা নাসরিন আকতার সাউথ পয়েন্ট স্কুলের শিক্ষক। আনিকা বিবিএ করেছেন চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি থেকে। এখন ঢাকায় এমবিএ করার চিন্তা-ভাবনা। ফ্যাশন ডিজাইনিংয়েও কম যান না এই গায়িকা। পোশাক ডিজাইন করে পুরস্কারও পেয়েছেন। তবে এখন সব ভালোলাগা এসে মিলেছে গানে। রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন, কানিজ সুবর্ণা, মেহরীনের গান শুনতে পছন্দ করেন। হতে চান তাঁদের মতোই শ্রোতাপ্রিয় একজন।


মন্তব্য