kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

তারার বন্ধু তারা

দশে দশ

নতুন প্রজন্মের দুই অভিনয়শিল্পী জোভান ও নাদিয়া খানম। পর্দার পেছনে একজন আরেকজনের খুব কাছের বন্ধু। তাঁদের বন্ধুত্বের গল্প শোনাচ্ছেন সাইমুম সাদ

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



দশে দশ

পরিচয়টা খুব বেশি দিনের নয়, বড়জোর দুই বছর। প্রথম দেখা এক নির্মাতার অফিসে।

আর দ্বিতীয়বার ‘উজান গাঙয়ের নাইয়া’ ধারাবাহিকের অডিশনে। অডিশনের আগে-পিছে টুকটাক আলাপ—‘কী অবস্থা?’ ‘কেমন আছো?’

শাওন গানওয়ালার ‘ইচ্ছে মানুষ’ গানের ভিডিওর শুটিং করতে গিয়ে একে অন্যকে ভালো করে জানলেন। ক্যামেরার সামনে তাঁরা নবদম্পতি। বেশ ঘাবড়ে গিয়েছিলেন দুজনই। ‘প্রথম সিনটাই বেডসিন। শুয়ে থাকতে হবে স্বামী-স্ত্রীর মতো। খুব লজ্জা লাগছিল, দুজনই অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিলাম’, বললেন জোভান।

আলোচিত এ গানের ভিডিওতে তাঁদের পর্দা রসায়ন একেবারে জমে ক্ষীর! ‘জুটি’ হিসেবেও আলাদাভাবে নজর কেড়েছেন দর্শকের। বন্ধুত্বটাও জমে উঠল। যদিও মাসে দু-একবারের বেশি একসঙ্গে কাজ করা হয়ে ওঠে না। কাছাকাছি না থাকলে কী, মেসেঞ্জার আর হোয়াটস অ্যাপ তো আছে। শুটিংয়ের মজার ঘটনাগুলো মেসেঞ্জারেই শেয়ার করেন তাঁরা। আর দুজনের কিছু কমন বন্ধু নিয়ে একটি সিক্রেট গ্রুপ আছে ফেসবুকে। সেখানেও চলে আড্ডাবাজি। ‘আড্ডায় আমি, জোভান, তামিম মৃধাসহ অনেকেই থাকে। তখন কে কী বলছি কারো কোনো হুঁশ থাকে না’, বললেন নাদিয়া।

আড্ডা, শুটিংয়ের বাইরের জোভান নাকি একেবারেই আলাদা। নাদিয়ার ভাষ্য মতে, ‘যার সঙ্গে যেভাবে কথা বলতে হয় ও তার সঙ্গে সেভাবেই কথা বলে, অহংকার নেই। আমার কথা শোনে। খুব কেয়ারিং। ’ সঙ্গে আরো বললেন, ‘ও নিয়মিত নামাজ পড়ে। এটি এখনকার ছেলেমেয়েদের মধ্যে খুব কম দেখা যায়। অভিনয়ে অনেক ডেডিকেটেড। ও ভালো একজন অভিনেতা। আমি তো ওর ফ্যান। ও জানেও সেটি। ’

আর জোভানের চোখে নাদিয়ার ভালো দিক? ‘খুব কেয়ারিং এবং লক্ষ্মী একটা মেয়ে। কাজকে ভালোবাসে। ফ্যামিলিকে সাপোর্ট করে। যা-ই করে কনফিডেন্টলি করে। ’

তাহলে বন্ধু হিসেবে নাদিয়া দশে কত পাচ্ছেন? ‘দশে ৯। আর মানুষ হিসেবে দশে দশ। ’ জোভানকে কত দেবেন নাদিয়া? ‘বন্ধু হিসেবে দশে দশ। এর চেয়ে বেশি দেওয়া গেলেও দিতাম। মানুষ হিসেবে দশে দশ। ’

নাদিয়ার চোখে জোভানের খারাপ দিক? ‘মাঝেমধ্যে একটু রাগ করে ফেলে। ও খুবই শর্ট টেম্পার্ড। তবে এটি কিন্তু সবাই জানে না। রাগ করলে সবাইকে বলবে না। আমাদের ফোন দিয়ে বলবে অথবা ফ্যামিলির কাউকে বলবে। অনেক সময় কথা বলতে বলতেও রেগে যায়। একটু পরেই আবার নরমাল। ’

আর জোভানের চোখে নাদিয়ার খারাপ গুণ? ‘মাঝেমধ্যে বেশি কথা বলে ফেলে। খুব সহজ-সরল তো, এমন কিছু বলে বসে যেটি মানুষকে বিব্রত করে ফেলে। ’

একজন আরেকজনকে সারপ্রাইজ দিতে ভালোবাসেন। এই যেমন জোভানের বার্থডের ঘটনাই ধরা যাক। শুটিং শেষ করে বাসায় ফিরলেন রাতে। ফোনটা অফ করে ঘুমিয়ে গেলেন। রাত ১২টায় আবিষ্কার করলেন কে যেন দরজায় কড়া নাড়ছে। ‘দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে মুখে স্প্রে মেরে অবস্থা খারাপ। ড্রয়িংরুমে গিয়ে দেখি সাজানো গোছানো। বেলুন আর আমার ১০০টি ছবি প্রিন্ট করে ঝুলানো হয়েছে। আমার পছন্দের কেক আনা হয়েছিল, আর অনেক গিফট ছিল। চকোলেট আমার খুব পছন্দের। নাদিয়া এটি জানে। প্রচুর চকোলেট দিয়েছে। এখনো শেষ করতে পারিনি’, বললেন জোভান।

এই বন্ধুত্বটা সারা জীবনই রাখতে চান। ‘এ সময়ে বিনা স্বার্থে বন্ধু পাওয়া কঠিন। স্বার্থ ছাড়া এখন কেউ কারো সঙ্গে মেশে না। এমন নিঃস্বার্থ বন্ধুত্ব কেউ হারাতে চাইবে না’, বললেন নাদিয়া।


মন্তব্য