kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ফিরছেন জ্যাক রিচার

২০১২ সালে রহস্য খুঁজতে গিয়ে হয়রান হয়েছিলেন ‘জ্যাক রিচার’। এবার ছবিটির সিক্যুয়াল ‘জ্যাক রিচার : নেভার গো ব্যাক’-এ আবারও হাজির তিনি। লিখেছেন সাজ্জাদ হোসেন

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ফিরছেন জ্যাক রিচার

‘মিশন ইম্পসিবল’-এর পর ‘জ্যাক রিচার’ দ্বিতীয়বারের মতো সিক্যুয়ালে অভিনয় করছেন টম ক্রুজ। এবারের ছবিটি নিয়ে কথা বলতে উঠলে প্রথমটির কথা উঠবেই।

তাই সংক্ষেপে ‘জ্যাক রিচার’ নিয়ে বলা যাক। পেনসিলভানিয়ায় এক স্নাইপারের গুলিতে পাঁচ ব্যক্তির মৃত্যু হয়। পুলিশ তদন্ত করে প্রমাণসমেত অপরাধীকে গ্রেপ্তারও করে। বিচারে তাঁর ফাঁসি হয়। মৃত্যুর আগে সেই অপরাধী জানিয়ে যায়, ঘটনাটি যেন জ্যাক রিচারকে জানানো হয়। এই রিচার সাবেক মিলিটারি পুলিশের অফিসার। তিনি খুবই বিস্মিত হয়ে পুরো ঘটনার তদন্তে নামেন। মুখোমুখি হন ভয়ংকর অভিজ্ঞতার।

অ্যাকশন-থ্রিলার ধাঁচের প্রথম ছবিটি তৈরি হয়েছিল ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক লি চাইল্ডের লেখা ‘ওয়ান শট’ অবলম্বনে। এবারেরটি মানে ‘জ্যাক রিচার : নেভার গো ব্যাক’ও নির্মিত হয়েছে তাঁরই লেখা জ্যাক রিচার সিরিজের আঠারোতম বই ‘নেভার গো ব্যাক’ থেকে।  

প্রথম সিক্যুয়ালের কাহিনীর সঙ্গে মিলিয়ে যাঁরা এবারেরটি দখতে বসবেন তাঁরা হতাশ হতে পারেন। বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে, আগেরটির সঙ্গে দ্বিতীয় পর্বের কাহিনীর সরাসরি সংযোগ নাও থাকতে পারে।

দ্বিতীয় সিক্যুয়ালের কাহিনী অনেকটা এ রকম—রাষ্ট্রীয় এক ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে রিচারের নাম। এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িতদের মুখোশ উন্মোচন করা ছাড়া নিজেকে বাঁচানোর কোনো উপায় নেই তাঁর। তিনি সে পথই বেছে নেন।

সিরিজের প্রথম ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন ক্রিস্টোফার ম্যাককুয়ারি। ‘এজ অব টুমোরো’ থেকে এই পরিচালকের সঙ্গে গত কয়েক বছর ভালো বোঝাপড়া তৈরি হয়েছিল টম ক্রুজের। তবে এবারের ছবিতে তিনি কেবলই প্রযোজক। সিক্যুয়ালটির পরিচালক ‘ব্লাড ডায়মন্ড’খ্যাত অস্কারজয়ী এডওয়ার্ড জুইক। যিনি টমকে নিয়ে আগে ‘দ্য লাস্ট সামুরাই’ বানিয়েছেন।

ছবির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র মেজর সুজান। যেটি করেছেন ‘হাউ আই মেট ইওর মাদার’ খ্যাত কোবি স্মলডারস। সিনেমায় অভিনয় করে দারুণ খুশি তিনি, ‘এমন একটি চরিত্র করে খুবই রোমাঞ্চিত। বিশেষ করে একজন নারী মিলিটারি অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করাটা আমার ক্যারিয়ারের একটি অন্যতম ঘটনা। ’ অ্যাকশন ঘরানার সিনেমাটিতে অভিনয় করতে নানা রকম প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে এই কানাডিয়ান অভিনেত্রীকে। কারণ তাঁর চরিত্রের স্টান্টগুলো যে সব নিজেই করেছেন কোবি!

জ্যাক রিচারের দ্বিতীয় সিক্যুয়ালটি নিয়ে প্রথমটির মতোই আশাবাদী সিনেমাটির অন্যতম প্রযোজক ও অভিনেতা টম ক্রুজও। কারণ সিনেমায় তাঁর চরিত্রটি আর দশজন সাধারণ মানুষের মতোই। কোনো সুপার পাওয়ার বা প্রযুক্তি কাট ব্যবহার যে রিচার করেন না! এম্পায়ার ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ক্রুজ বলেছেন, ‘রিচার এমন একজন, যাঁর আইফোন বা ব্ল্যাকবেরির মতো স্মার্ট ফোন নেই। নেই ইলেকট্রনিক ডিভাইসও। ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগও পায় না। ’ ছবিতে যাই হোক বইয়ে লেখক অবশ্য রিচারকে শারীরিকভাবে খানিকটা অতিমানব হিসেবেই তুলে ধরেছেন। কারণ সেখানে রিচারের উচ্চতা বলা হয়েছে সাড়ে ছয় ফুট, যেখানে ক্রুজের মাত্র ৫ ফুট ৭।

অনেক সমালোচক টমের এই সিক্যুয়ালকে মেলাতে চাইছেন মিশন ইম্পসিবল সিরিজের সঙ্গে। কিন্তু টম বলছেন, দুটি চরিত্র ও সিনেমার মধ্যে মিল নেই। দুটি চরিত্র একেবারেই আলাদা রকমের।


মন্তব্য