kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নায়িকাদের প্রিয় ক্রিকেটার

ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল এখন বাংলাদেশে। আজ চট্টগ্রামে শুরু হচ্ছে দুই দলের প্রথম টেস্ট ম্যাচ। সারাদেশের মানুষের দৃষ্টি এখন ক্রিকেট মাঠে। তালিকায় আছেন শোবিজের তারকারাও। বাংলাদেশ দলে নিজেদের প্রিয় ক্রিকেটার নিয়ে বলেছেন নায়িকারা। লিখেছেন সাইমুম সাদ

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



নায়িকাদের প্রিয় ক্রিকেটার

সাকিব আল হাসানের সঙ্গে বিদ্যা সিনহা মিম

সাকিবের ব্যাটিং দেখেই ক্রিকেটের প্রেমে পড়ি

বিদ্যা সিনহা মীম

ক্রিকেট নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাতাম না। বুঝতেও চাইতাম না।

শোবিজে কাজের সুবাদে ক্রিকেট দলের সাবেক কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে টুকটাক যোগাযোগ ছিল। তা-ও আবার ক্রিকেটের বাইরে, একসঙ্গে কাজের সুবাদে। কে বোলার কে ব্যাটসম্যান সেটা জানতাম না, শুধু জানতাম তিনি ক্রিকেটার। বর্তমান বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদস্যদের সঙ্গে আমার পরিচয় হয় বছর দুয়েক আগে। শুরুতে একজন মাত্র ক্রিকেটারকেই চিনতাম, তিনি সাকিব আল হাসান। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। সাকিবের ব্যাটিং দেখতে গিয়েই ক্রিকেটের প্রেমে পড়ি। আস্তে আস্তে জেঁকে বসে। দিনে দিনে সাকিবের খেলার প্রতি ভালোলাগাটা জমে ওঠে। বলতে পারেন আমি তাঁর খেলার ভক্ত। বেশ কয়েকটি প্রোগ্রামে সাকিবের সঙ্গে দেখা হলেও ‘হাই-হ্যালো’র বেশি কথা হতো না। ঘটনাক্রমে একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে তাঁর সঙ্গে মডেল হই। বিজ্ঞাপনের সেটে আমাদের আলাপ করিয়ে দেন বিজ্ঞাপনটির নির্মাতা মাহফুজ আহমেদ। পরিচয়ের শুরুতেই সাকিব জানালো, ও আমাকে চেনে। আমার অভিনয়ের প্রশংসা করলো। আমি বললাম, ‘তুমি নাটক দেখো?’ বললো, ‘দেশের বাইরে গেলে ইন্টারনেটে নাটক দেখি। ’

তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞাতাটাও স্মরণীয়। ব্যক্তি হিসেবে খুব ফ্রেন্ডলি, হেল্পফুল। আমাদের বোঝাপড়াটা চমত্কার ছিলো। ওর সঙ্গে কাজটা করে খুব ভালো লেগেছে।

 

মাশরাফিই আমাদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করেন

আশনা হাবিব ভাবনা

আমার প্রিয় ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজা। তাঁর সঙ্গে বেশ কবার দেখা হয়েছে আমার। আমার ভালো লাগার কথা তাঁকে জানিয়েছিও। বিশেষ করে সেলিব্রিটি ক্রিকেট লীগে খেলার সময় তাঁর সঙ্গে টুকটাক কথাও হয়েছে।

চেহারার পাশাপাশি আমি আমার পছন্দের হিরোদের আরও কয়েকটি বিষয়কে গুরত্ব দেই। যেমন তাঁর ব্যক্তিত্ব, হাঁটা চলা। সত্যি বলতে মাশরাফি মানুষটাকেই আমার পছন্দ। আমরা অনেকেই আসলে খুব বেশি দেশপ্রেমিক না। মাশরাফিই আমাদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করেন। মাশরাফিকে দেখলেই বোঝা যায় তিনি ‘বাঘের বাচ্চা’। মাঠে এগারজন প্লেয়ারকে ঠিকঠাক আগলে রাখে।

 

মুস্তাফিজ থাকলে উইকেট পড়তোই

নুসরাত ফারিয়া

‘কাটার মাস্টার’ মুস্তাফিজুর রহমানের বোলিং দেখে আমি অবাক হয়ে যাই। একটা মানুষ এত নিখুঁত লাইন ও লেন্থে বল করে কিভাবে! অন্য বোলাররা যখন বোলিংয়ে আসে যখন উইকেট পড়বে কি পড়বে না সেটা বলা যায় না, আনপ্রেডিকটেবল। কিন্তু মুস্তাফিজ পুরোটাই প্রেডিকটেবল। তিনি বোলিংয়ে এলে একটা কিছু হবেই। তার এই জাদুকরি বোলিংয়ের ভক্ত বনে গেছি। কখনো তাঁর সঙ্গে দেখা হয়নি আমার। কখনো দেখা হলে জিজ্ঞেস করব, কিভাবে বল করে মিডল স্ট্যাম্প ভাঙেন? আমাকে একটু শেখান।

আমার মনে হয় তাঁর প্রতিভা গড গিফটেড। এবারের ইংল্যান্ড সিরিজে তাকে ভীষণ মিস করেছি। যখন উইকেট পড়ছিল না তখন ভাবছিলাম মুস্তাফিজ থাকলে উইকেট পড়তোই। ক্রিকেট নিয়ে ছোটবেলা থেকেই আমার পাগলামি। শৈশবে ক্রিকেটারদের ছবি ও পেপার কাটিং করে দেয়ালে টাঙিয়ে রাখতাম। এখন যদি ছোট থাকতাম তাহলে মুস্তাফিজের ছবি ও পেপার কাটিং করে  আমার ঘরের দেয়ালজুড়ে টানিয়ে রাখতাম।

 

মাশরাফি ভাইয়া খুবই ফ্রেন্ডলি

ঈশিকা খান

আমি এখন লন্ডনে। অনাগত সন্তানের অপেক্ষায় দিন কাটছে। লন্ডনে বসেও টাইগারদের একটা খেলাও মিস করিনি। টাইগারদের সঙ্গে আছি দীর্ঘদিন ধরেই। ‘বাংলাদেশ ক্রিকেটার সাপোর্টার এসোসিয়েশন’-এর সঙ্গেও আছি। সংগঠনটির সঙ্গে ক্রিকেট নিয়ে নানা কাজ করতে গিয়েই বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। অনেকের মতো আমার প্রিয় ক্রিকেটারও কিন্তু মাশরাফি বিন মর্তুজা। মাশরাফিই কেন? বিশ্বের সবচেয়ে বেশিবার ইনজুরিতে পড়ার পরও দেশের হয়ে তিনি মাঠে নামেন। ঘুম থেকে ওঠার পর এমনকি নরমালি হাঁটার সময়ও তার অনেক কষ্ট করতে হয়। সবাই তো ক্রিকেট খেলে কিন্তু দেশের জন্য এভাবে ত্যাগ স্বীকার করে খেলে কয়জন!

সে কারণেই তাঁর প্রতি আমার অপরিসীম শ্রদ্ধাবোধ। পুরো দেশ উনার কাছে কৃতজ্ঞ। নতুন প্রজন্ম উনার কাছ থেকেই শিখছে দেশপ্রেম। আমি নিজেও উনার কাছ থেকেই দেশপ্রেমটা শিখছি।

খুব কাছে থেকে তাঁর সঙ্গে মেশার সুযোগ হয় সেলিব্রিটি ক্রিকেট লিগে খেলতে গিয়ে। দেখা হতেই তিনি জিজ্ঞেস করেন, ‘ঈশিকা কেমন আছো?’ মাশরাফি ভাইয়া খুবই ফ্রেন্ডলি।

আমার বিয়েতে উনাকে দাওয়াত করেছিলাম, আমি নিজে গিয়ে তাঁর হাতে দাওয়াতপত্র দিয়ে এসেছি। বলেছিলেন, আসবেন। কিন্তু পরে কোন এক কারণে আর বিয়েতে থাকতে পারেননি।

 

খবরটা শোনার পর খুব কেঁদেছিলাম

মিষ্টি জান্নাত

আমার প্রিয় ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদ। বছর দুয়েক আগে এক প্রোগ্রামে তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম দেখা। তাসকিন সামনাসামনি আসতেই সেলফির আবদার করলাম। পাশ থেকে নায়ক নীরব টিপ্পনি কেটে বললেন, ‘তাসকিনের সঙ্গে ছবি তোলা যাবে না!’ কথাটা শুনে তাসকিন নিজে থেকেই বললেন, ‘আসো আসো সেলফি তুলি। ’

ছবিটা ফেসবুকে ইনবক্স করেছিলাম তাসকিনকে। ধীরে ধীরে আমাদের বন্ধুত্ব হয়। এক সময় নিয়মিতই তাসকিনের ছবি ফেসবুকে শেয়ার দিয়ে শুভকামনা জানাতাম। এ নিয়ে বেশ বিড়ম্বনায়ও পড়তে হয়েছে।

ওর জন্মদিনে ‘সুইট হার্ট’ লিখে স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। তারপর আর যায় কোথায়! অনলাইন পত্রিকায় নিউজের ছড়াছড়ি, ‘তাসকিনের প্রেম মিষ্টি জান্নাত’। আমি কিন্তু কথাটা মজা করে লিখেছিলাম।

এই খবর তাসকিনের বাবার কানেও গেল। তাসকিনকে বকা দিলেন তাঁর বাবা, ‘কিরে নায়িকার প্রেমে পড়েছিস শুনলাম!’

পরে তাসকিন আমাকে বলেছিল, এত জনের সঙ্গে ছবি তুললাম নিউজ হয় না তোমার সঙ্গে ছবি তুলেই নিউজ হলো!

মানুষ হিসেবে তাসকিন খুবই সিম্পল। কথা কম বলে। মানসিকতা খুবই ভালো। ওর প্রাপ্তি আর ব্যর্থতাগুলো আমাকেও স্পর্শ করে। মাঝে ও যখন আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় খেলা থেকে বাদ পড়ল, খবরটা শোনার পর খুব কেঁদেছিলাম।


মন্তব্য