kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রাস্তা কিন্তু একটাই

আনিসুর রহমান মিলন, ইয়ামিন হক ববি ও বাপ্পী চৌধুরী—তিনজনই আলাদাভাবে দুটি করে ছবিতে অভিনয় করেছেন। এবার তিনজনকে নিয়ে ‘ওয়ানওয়ে—এক রাস্তা’ বানিয়েছেন ইফতেখার চৌধুরী। আগামীকাল মুক্তি পাবে ছবিটি। লিখেছেন সুদীপ কুমার দীপ

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



রাস্তা কিন্তু একটাই

এর আগে মিলনের সঙ্গে ববি অভিনয় করেছেন ‘দেহরক্ষী’ ও ‘ব্ল্যাক মেইল’ ছবিতে। অন্যদিকে বাপ্পীর সঙ্গে করেছেন ‘ইঞ্চি ইঞ্চি প্রেম’ ও ‘আই ডোন্ট কেয়ার’-এ।

এদিকে ববিকে ছাড়াই মিলন আর বাপ্পী অভিনয় করেছেন ‘অনেক সাধের ময়না’ ও ‘সাদাকালো প্রেম’ ছবিতে।

তিনজন একসঙ্গে করলেন ‘ওয়ানওয়ে—এক রাস্তা’। অবশ্য তিনজনের এক হওয়ার পেছনে পরিচালক-প্রযোজক নন, কলকাঠি নেড়েছেন নায়িকা ববিই। “ছবিটিতে প্রথম চুক্তিবদ্ধ হই আমি। এরপর পরিচালক মিলন ভাইকে চূড়ান্ত করেন। কিন্তু আরেকজন নায়ককে চূড়ান্ত করতে পারছিলেন না তিনি। সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিলেন। একদিন ফোনে ঘটনাটা বললেন, জানতে চাইলেন কাকে নেওয়া যায়! অনেক ভেবেচিন্তেই বাপ্পীর কথা বললাম। এর পেছনে বাণিজ্যিক যুক্তিটাও তুলে ধরলাম। কারণ আগে মিলন ভাইয়ের সঙ্গে ‘দেহরক্ষী’ এবং বাপ্পীর সঙ্গে ‘আই ডোন্ট কেয়ার’ হিট হয়েছিল। তাই এ দুজন কোনো ছবিতে যদি আমার নায়ক হন, তাহলে নিশ্চিত আরেকটা হিট ছবি আশা করা যায়। পরিচালক আমার যুক্তিটা মেনে নিলেন। ”

বাপ্পী বলেন, “ইফতেখার চৌধুরীর সঙ্গে এটিই আমার প্রথম ছবি। আমি তাঁর ভক্ত। ‘দেহরক্ষী’, ‘অগ্নি’, ‘রাজত্ব’ দেখে মনে হয়েছিল তাঁর সঙ্গে কাজ করা উচিত। এই ছবির মাধ্যমে সেই সুযোগ পেয়ে গেলাম। এটি ব্যয়বহুল একটি ছবি, গল্পটাও মৌলিক। ডাবিংয়ের সময় ছবিটি দেখেছি। আমার কাছে দারুণ লেগেছে। আশা করছি, দর্শকদেরও ভালো লাগবে। ”

‘ওয়ানওয়ে—এক রাস্তা’ ছবির পর এই তিন তারকা এখনো নতুন আর কোনো ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হননি। কয়েকটি প্রস্তাব পেলেও শিডিউল মেলাতে পারেননি কেউই। তা ছাড়া এই ছবির ব্যবসায়িক ফলও দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন মিলন। তিনি বলেন, “আগে মাল্টিকাস্টিংয়ে অনেক ছবি হতো। দেখা যেত এক ছবিতে সোহেল রানা, রাজ্জাক কিংবা জসীম, ওয়াসিম ভাইয়েরা অভিনয় করতেন। ভালো ব্যবসাও করত। কিন্তু এখন কোনো নায়কই চান না মাল্টিকাস্টিংয়ের ছবি হোক। ব্যতিক্রম শুধু সাইমন আর বাপ্পী। তাঁদের সঙ্গে ‘পোড়ামন’ ও ‘অনেক সাধের ময়না’ ছবি দুটি ভালো ব্যবসাও করেছে। এখন আগামীকালের অপেক্ষায় আছি। যদি এই ছবিও ভালো যায়, তাহলে শিগগিরই বাপ্পী আর ববির সঙ্গে আবারও দর্শক আমাকে পাবে। ”

কিছুদিন আগে প্রযোজকের খাতায় নাম লেখালেন ববি। তাঁর প্রযোজনায় ‘বিজলি’র শুটিং শেষ হয়েছে ৮০ শতাংশ। এখন বাকি দুটি গান আর কয়েকটি মারপিট দৃশ্যের। এই ছবির পরপরই শুরু করবেন ‘মালটা’ ও ‘বৃদ্ধাশ্রম’-এর শুটিং। ‘বৃদ্ধাশ্রম’ ছবিটি আবার সরকারি অনুদানে নির্মিত হবে। গল্পটি ববির খুব পছন্দের। এটি নিয়ে দারুণ আশাবাদী তিনি। বলেন, ‘এত দিন দর্শক আমাকে গান, নাচ আর মারপিটে দেখতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। এখানে দেখবে নতুন এক ববিকে। ’

এই মুহূর্তে বাপ্পীর হাতে আছে ১০টি ছবি। ‘ওয়ানওয়ে’র পরপরই মুক্তি পাবে ‘সুলতানা বিবিয়ানা’, ‘আমি তোমার হতে চাই’, ‘কত স্বপ্ন কত আশা’, ‘আসমানী’। শিগগিরই শুটিং করবেন ‘পাগলামী’, ‘এক মিনিট’সহ আরো কয়েকটি ছবির। বলেন, ‘নতুনদের মধ্যে হয়তো আমিই ভাগ্যবান। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ছবি আসছে হাতে। তবে মাঝখানে না বুঝে বেশ কয়েকটি ছবিতে কাজ করেছি। এখন ভালো গল্প ও পরিচালক দেখেই ছবি হাতে নিচ্ছি। ’

অবশ্য বাপ্পী আর ববির তুলনায় মিলন ধীরে চলো নীতিতে বিশ্বাসী। নিজের পছন্দের মতো গল্প, চরিত্র ও বাজেট না হলে ‘হ্যাঁ’ করেন না কাউকে। এখন তাঁর হাতে আছে ‘রাত্রির যাত্রী’, ‘টার্গেট’, ‘স্বপ্নবাড়ি’, ‘রাজনীতি’ ও ‘ক্রাইমরোড’। এগুলোর শুটিং শেষ হলেই শুরু করবেন নতুন ছবির কাজ।

মিলন বলেন, “দর্শকের কাছে আমার একটা দায়বদ্ধতা আছে। চাইলেই সেই দায় এড়াতে পারি না। ‘ওয়ানওয়ে—এক রাস্তা’র মতো এখানেও রাস্তা কিন্তু একটাই—ভালো ছবি হতে হবে, তাহলেই দর্শক হলমুখী হবে। সংখ্যায় নয়, মানের দিক দিয়ে এগিয়ে গেলেই সেটা সম্ভব। ”


মন্তব্য