kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দ্য গার্ল অন দ্য ট্রেন

আগামীকাল মুক্তি পাবে একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে ছবি ‘দ্য গার্ল অন দ্য ট্রেন’। মিস্ট্রি-থ্রিলার ঘরানার ছবিটি নিয়ে লিখেছেন নাবীল অনুসূর্য

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



দ্য গার্ল অন দ্য ট্রেন

ব্রিটিশ লেখিকা পলা হকিন্সের ‘দ্য গার্ল অন দ্য ট্রেন’ প্রকাশিত হয় গত বছরের জানুয়ারিতে। উপন্যাসটি পলা হকিন্সের প্রথম বই না হলেও স্বনামে প্রথম বই।

এর আগে পলা আরো চারটি বই বের করেছিলেন বটে, তবে অ্যামি সিলভার নামে। সেই বইগুলো খুব একটা সাড়া ফেলতে পারেনি। তার ওপর লেখালেখি করার জন্য সাংবাদিকতাও ছেড়ে দিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে রীতিমতো দৈন্যদশায় পড়ে গিয়েছিলেন পলা, ‘আমার অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছিল, কোনো না কোনোভাবে টাকার সংস্থান হওয়াটা ভীষণ জরুরি হয়ে পড়েছিল। এই বইটিও ব্যর্থ হলে আমার হয়তো আর ফিকশন লেখাই হতো না। ’ পলাকে অবশ্য থামতে হয়নি। স্বনামে প্রথম উপন্যাসেই বাজিমাত করেছেন তিনি। সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ঘরানার এই উপন্যাসটির কাহিনী এগিয়েছে তিন নারীকে কেন্দ্র  করে—র‍্যাচেল, অ্যানা আর মেগান। তাদের মধ্যে র‍্যাচেলকেই কেন্দ্রীয় চরিত্র বলা যেতে পারে, কেননা ট্রেনের সেই মেয়েটি এই র‍্যাচেলই। উপন্যাসটি প্রকাশের পরপরই নিউ ইয়র্ক টাইমসের ফিকশন বেস্ট সেলার্সের তালিকার শীর্ষে উঠে আসে। এক নম্বরে থাকে টানা ১৩ সপ্তাহ। সব মিলিয়ে শীর্ষে ছিল মোট ১৫ সপ্তাহ। মজার ব্যাপার হলো, উপন্যাসটি প্রকাশের অনেক আগেই, ২০১৪ সালের মার্চে উপন্যাসটি থেকে সিনেমা বানানোর জন্য চুক্তি সেরে ফেলেছিল ড্রিমওয়ার্কস পিকচার্স।

উপন্যাসটি যখন যুক্তরাজ্যের বাজারে মারমার-কাটকাট ব্যবসা করছে, তখন হলিউডে উপন্যাসটি থেকে সিনেমা বানানোর তোড়জোড় শুরু হয়। ড্রিমওয়ার্কসের তো উপন্যাসটির স্বত্ব কেনাই ছিল। উপন্যাসটি থেকে চিত্রনাট্য বানানোর কাজ দেওয়া হলো এরিন ক্রেসিডা উইলসনকে। তিনি কাজে নেমে প্রথমেই ব্রিটেনের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাসটিকে আমেরিকায় নিয়ে এলেন। লন্ডনের ট্রেন হয়ে গেল নিউ ইয়র্কের ট্রেন। ওদিকে সিনেমাটি পরিচালনার ভার দেওয়া হলো টেট টেইলরের কাঁধে। তারপর একে একে অন্য কলাকুশলীরাও নিয়োগ পেতে লাগলেন।

সিনেমাটির প্রধান চরিত্র পাঁচটি—র‍্যাচেল, র‍্যাচেলের সাবেক স্বামী স্কট, স্কটের বর্তমান স্ত্রী অ্যানা, আর স্কটের বাসার কাছেই বাস করা দম্পতি টম-মেগান। তাদের মধ্যে সবচেয়ে কম ঝামেলা হয়েছে র‍্যাচেলকে ঠিক করতেই। সবার প্রথমেই র‍্যাচেল চরিত্রের জন্য মনোনীত হন এমিলি ব্লান্ট। স্কট চরিত্রের জন্য প্রথমে জারেড লেটোর কথা ভাবা হলেও শিডিউল জটিলতায় না করে দেন তিনি। তাঁর বদলে চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন লুক ইভান্স। একই ঘটনা ঘটেছে আরেক প্রধান পুরুষ চরিত্রটিতেও। টম চরিত্রের জন্য ক্রিস ইভান্সকে ভাবা হলেও একই সমস্যার কারণে তিনিও অপারগতা জানান। তাঁর বদলে নেওয়া হয়েছে জাস্টিন থেরক্সকে। অ্যানার চরিত্রে অভিনয় করছেন রেবেকা ফার্গুসন। আরেকটি চরিত্র পেয়েছেন লিসা কুড্রো। তাঁর চরিত্রটির নাম মনিকা। মজার বিষয় হলো, মূল উপন্যাসে এই চরিত্রটির কোনো নামগন্ধই নেই।

তবে সবচেয়ে বেশি বদল ঘটেছে মেগান চরিত্রটিতে। আকর্ষণীয় ও বৈচিত্র্যময় এই চরিত্রের জন্য প্রথমে ভাবা হয়েছিল মার্গোট রোবির কথা। পরে ঠিক করা হয় কেট মারাকে। শেষ পর্যন্ত শিকে ছিঁড়েছে হ্যালি বেনেটের ভাগ্যে। সিনেমাটির টিজার-ট্রেইলার প্রকাশের পর থেকেই এই হ্যালি বেনেটকে নিয়ে হলিউডে ঝড় বয়ে যাচ্ছে। সিনেমাটির কলাকুশলীদের আর সবাই-ই কমবেশি পরিচিত মুখ। কিন্তু চোখে পড়ার মতো চরিত্রে হ্যালি বেনেট সম্ভবত এবারই প্রথম অভিনয় করতে যাচ্ছেন। অনেকে তো তাঁকে নবাগতাই ভেবে নিয়েছে। আসলে কিন্তু ওহাইওর এই মেয়ে এর আগে ১৫টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি নাচতে ও গাইতেও সমান পারদর্শী। তাঁর প্রথম সিনেমা ‘মিউজিক অ্যান্ড লিরিকস’-এর অডিশনে তাঁর এই দুই গুণ বেশ কাজে লেগেছিল। অডিশনে তাঁর পারফরম্যান্স তাঁকে শুধু সিনেমাটিতে রোলই পাইয়ে দেয়নি, তা দিয়ে তিনি পরের বছর একটি কনসার্টে পারফর্ম করার টিকিটও পেয়ে যান।

অবশ্য ‘দ্য গার্ল অন দ্য ট্রেন’ পড়ে কারো যদি নামটা শোনা শোনা মনে হয়, সেটি নেহায়েত অমূলক নয়। এর আগেও এই নামে দুটি সিনেমা হয়েছে। একটি আমেরিকান ডকুমেন্টারি, মুক্তি পায় ২০১৩ সালে। অন্যটি ফ্রেঞ্চ। ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া সেই সিনেমাটি অবশ্য বক্স অফিসে হালে পানি পায়নি। বাজেটের ছয় ভাগের এক ভাগ টাকা তুলেছে কোনো মতে। নতুনটি কেমন করে, সেটাই দেখার অপেক্ষা।

 


মন্তব্য