kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চিটাগং টু ঢাকা

চট্টগ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। শোবিজে কাজ করছেন সেখানে থেকেই। বেশ কিছু বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল হয়েছেন। অভিনয়েও নিয়মিত হতে চান। ইমরান কাশিককে নিয়ে লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



চিটাগং টু  ঢাকা

ছোটবেলায় তাঁকে খুঁজে পাওয়া না গেলে খুব একটা ভাবতেন না মা-বাবা। কারণ তাঁরা জানেন, ছেলে সিনেমার পোকা।

সিনেমা হলে খুঁজলে তাঁকে পাওয়া যাবেই। সিনেমা দেখা নিয়ে কম বকা খেতে হয়নি তাঁকে। শৈশবেই চট্টগ্রামের স্থানীয় নানা ব্র্যান্ডের পোশাকের মডেল হয়েছেন। পরে ঢাকায় আসেন, তবে স্থায়ীভাবে নয়। ঢাকায় ‘বাংলার মেলা’র পোশাকের মডেল হয়ে প্রশংসিত হন। লাইমলাইটে আসেন শখ, সারিকার বিপরীতে বাংলালিংক দেশ প্যাকেজের বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হয়ে।

এরপর প্রায় ৫০টির মতো পণ্যের মডেল হয়েছেন। প্রথম নাটক সারিকার বিপরীতে, ‘ইসাবেলা ৭১’। ভালো রেসপন্স পেলেন। তবু অভিনয় থেকে লম্বা বিরতি নিলেন। সম্প্রতি করলেন সাইফ আজাদের টেলিফিল্ম ‘লাভ অ্যান্ড লিরিক’। এখানে পাড়ার দুষ্ট ছেলে ইমরান। সারা দিন ক্রিকেট আর ঘুরে বেড়ানোই তাঁর কাজ। পাড়ায় আসা নতুন মেয়ে নাদিয়া নদীর সঙ্গে প্রেম হয়। শিগগিরই প্রচারিত হবে এটি। ‘বিজ্ঞাপনচিত্রের ব্যস্ততার কারণে নাটকে অভিনয় করতে পারিনি। ইদানীং অভিনয়ে মনোযোগী হয়েছি। কয়েকজন ভালো নির্মাতা আমাকে নিয়ে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছেন। আমার পছন্দ রোমান্টিক চরিত্র, তবে সব ধরনের চরিত্রই করতে চাই। আশা করছি অভিনয়ে আমাকে নিয়মিতই পাওয়া যাবে’, বললেন ইমরান।

এখনো চট্টগ্রামেই থাকেন। সেখানে তাঁর ফ্যাশন হাউস রয়েছে। চট্টগ্রামে থেকে শোবিজে কাজ করতে কোনো সমস্যাই হয় না তাঁর। ‘আজকাল তো আর বাংলাদেশের কোনো জায়গাই দূর নয়। শুট থাকলে হুট করে ঢাকায় যেতে পারি। এভাবেই তো এত দিন কাজ করছি। কখনো ঝামেলায় পড়িনি। কাউকে ঝামেলায়ও ফেলিনি। মেইনটেইন করতে পারলেই হলো’, বললেন ইমরান।

অভিনয়ে নিয়মিত হতে চান শুধু টিভি নাটকেই।

চলচ্চিত্র করবেনই না। পরিবারের সদস্যরা চান না

ইমরান সিনেমার নায়ক হোক। তাঁদের ইচ্ছাই ইমরানের ইচ্ছা।

বাংলাদেশের শোবিজের পুরোটাই ঢাকাকেন্দ্রিক। চট্টগ্রামে বসে ইমরান কিভাবে সুযোগ পেলেন ঢাকার মিডিয়ায়? লম্বা কাহিনী বললেন ইমরান, “আমার বেশ কিছু ছবি ‘বাংলার মেলা’র এমদাদ হকের কাছে ছিল। বিজ্ঞাপন নির্মাতা সানিয়াত হোসেন সেখানেই আমার ছবি দেখেন। এমদাদ ভাইয়ের কাছ থেকে নম্বর নিয়ে ফোন করলেন। আমি প্রথমে বিশ্বাস করিনি। সানিয়াত ভাইকেও চিনতাম না। তবে বাংলালিংকের বিজ্ঞাপনে সুযোগ পাওয়া আমার কাছে স্বপ্নের মতো। অবিশ্বাসের সুরে বললাম, আচ্ছা দেখি। পরে আবার ফোন দিলেন সানিয়াত ভাই। ঠিক বিশ্বাস হচ্ছিল না। সানিয়াত ভাই বুঝতে পেরে ধমকের সুরে বললেন, ‘বেটা চলে এসো। লাইফ চেঞ্জ হয়ে যাবে। ’ এমদাদ ভাইয়ের রেফারেন্স দিলেন। এবার বিশ্বাস হলো। বললেন, তুমি কালকেই চলে এসো ঢাকায়। আসার আগে আবার ফোন দিলেন, পাসপোর্ট নিও সঙ্গে। শুটিংয়ের জন্য বিদেশেও যেতে হতে পারে। ”


মন্তব্য