kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নুতনের কেতন

কেলসিয়া বেলেরিনির বাজিমাত

মায়ের জন্য প্রথম যখন গান লিখেছিলেন তখন কেলসিয়া বেলেরিনির বয়স মাত্র ১২ বছর। ১৫ বছর বয়সে নক্সভিল ছেড়ে চলে যান ন্যাশভিলে। উদ্দেশ্য গানে ক্যারিয়ার গড়া। লিখেছেন আবু সালেহ শফিক

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



কেলসিয়া বেলেরিনির বাজিমাত

বাবা রেডিওতে কান্ট্রি মিউজিক প্রোগ্রামার, মা থমাস নেলসন বাইবেল পাবলিশিংয়ের মার্কেটিংয়ে কাজ করেন। কেলসিয়া বেলেরিনি নাচ শিখতে শুরু করেন তিন বছর বয়সে।

১২ বছর বয়সে হঠাৎই নাচ থামিয়ে দেন। মনোনিবেশ করেন গানে। ১৫ বছর বয়সে ন্যাশভিলে চলে যান গানের ক্যারিয়ার গড়ার জন্য। ব্ল্যাক রিভার এন্টারটেনমেন্টের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন ১৯ বছর বয়সে। ২০১৪ সালে প্রকাশ করেন প্রথম একক ‘লাভ মি লাইক ইউ মিন ইট’। ওই বছরের নভেম্বরেই তাঁর এক্সটেন্ডেড প্লে (ইপি) বাজারে আসে। তারপর ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘লাভ মি লাইক ইউ মিন ইট’ গানটি তিনি পরিবেশন করেন গ্র্যান্ড ওলে অপ্রিতে। অপ্রির স্লোগান হলো ‘দ্য শো দ্যাট মেইড কান্ট্রি মিউজিক ফেমাস’। অপ্রিতে গাওয়ার পর বিলবোর্ডের কান্ট্রি এয়ারপ্লে চার্টে এক নম্বরে উঠে আসে গানটি। ‘দ্য ফার্স্ট টাইম’ শিরোনামে একটি স্টুডিও অ্যালবাম প্রকাশ করেন গত বছরের মে মাসে। এরপর কান্ট্রি রেডিওতে তাঁর ‘পিটার প্যান’ প্রকাশ পায় গত মার্সে। সেপ্টেম্বরে গানটি কান্ট্রি এয়ারপ্লে এবং হট কান্ট্রি সংস চার্টে এক নম্বর জায়গা দখল করে নেয়। তাঁর প্রিয় শিল্পী ব্রিটনি স্পিয়ার্স, কেলি ক্লার্কসন, ফ্রাংক সিনাত্রা প্রমুখ।

এএক্সএস ডটকম এবং সিএমটি নিউজ তাঁর সাক্ষাত্কার প্রকাশ করেছিল। সেগুলোর নির্বাচিত অংশ তুলে ধরা হলো :

আপনি নাচ বন্ধ করেছিলেন কেন?

আমার ভেতর তখন গান চলে আসছিল। আমাকে হয় নাচ অথবা গান কোনো একটি  বেছে নিতে হতো। আমি গান বেছে নিলাম।

নক্সভিল থেকে ন্যাশভিলে যাওয়ার পর কেমন লেগেছিল?

নতুন স্কুলে ভর্তি হওয়া, বন্ধু বানানো—ব্যাপারগুলো সোজা ছিল না।

ন্যাশভিলের ভালো বিষয় কী?

সেখানে সব সময়ই কিছু না কিছু হতে থাকে। কেউ হয়তো গান করছে, কেউ বা ছবি আঁকছে। সবাই ওখানে সৃজনশীল।

গান পরিবেশনের সময় আপনাকে বেশ স্বাচ্ছন্দ্য দেখায়। রহস্য কী?

আমি স্কুলের গানের দলে ছিলাম, চার্চের কয়্যার দলে ছিলাম। গান তো অনেক দিন ধরে গাইছি। তাই বেশি ভয় লাগে না।

আপনার অনুপ্রেরণা কে? মানে কে আপনাকে গানে নিয়ে এলো?

সে রকম কেউ নয়। আমার মা-বাবা আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন। আমি গানের ভেতর আশ্রয় নিলাম।

কোন যন্ত্রটি হাতে তুলে নিয়েছিলেন তখন? গিটার না কি-বোর্ড?

গান লিখতে শুরু করেছিলাম প্রথম। দুই বছর গিটার বা কি-বোর্ড ধরিনি। গান লিখতাম আর গুনগুন করতাম। বেথ স্মিথ নামের এক পড়শীর কাছে গলা সাধার তালিম নিয়েছি। তিনি খুব ভালো পিয়ানো বাজাতেন। তাঁর কম্পিউটারে গ্যারেজ ব্যান্ড নামের একটি সফটওয়্যার ছিল। তাতে নিজের কণ্ঠ রেকর্ড করা যায়। একদিন তাঁকে বলেছিলাম, আমার লেখা গানটায় কি আপনি সংগীত সংযোজন করতে পারবেন? তিনি পিয়ানোয় একটা সুর তুলেছিলেন এবং গানটা রেকর্ড করেছিলেন। আমি ব্যাপারটায় দারুণ আনন্দ পেয়েছিলাম। গিটার হাতে নিয়েছি সম্ভবত ১৫ বছর বয়সে।       

আপনার ‘দ্য ফার্স্ট টাইম’ গানটি কিন্তু অদ্ভুত। মনে হয় ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে...

এই গানে একটি মেয়ের কথা বলা হচ্ছে যে কি না দরজার সামনে বসে থাকে। বিশেষ কারোর জন্য সে অপেক্ষা করে। এটি আমার জীবনেরই ঘটনা। আমি অপেক্ষায় থাকতে থাকতে কেঁদে ফেলতাম। এর মধ্যে লেখা হয়ে যায় গানটি।

এখনকার ছেলেমেয়েদের কান্ট্রি মিউজিক শোনানো কি কঠিন?

আমি এটি বেশি ভাবি না। আমি ভাবি—আমি কে? আমি কী বলতে চাই? কিভাবে বলতে চাই। এটুকুই করি আমি। যাদের ভালো লাগে তাদের ধন্যবাদ।


মন্তব্য