kalerkantho


মৌসুমীর গানের গল্প

আয়েশা মৌসুমীর গানে হাতেখড়ি ছোটবেলায়। তবে পরিচিতি পেয়েছেন ‘পাওয়ার ভয়েজ’-এ অংশ নিয়ে। নিয়মিত স্টেজ শো করছেন। কয়েকটি মিক্সড অ্যালবামে গেয়েছেন। শুরু করেছেন নিজের প্রথম এককের কাজ। লিখেছেন সাইমুম সাদ

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



মৌসুমীর গানের গল্প

সহপাঠীরা যখন পুতুলের বিয়ে ভাঙার ছলে কেঁদেকেটে বুক ভাসাত, আয়েশা মৌসুমী তখন আপন মনে হারমোনিয়ামে আঙুল বুলাতেন। পড়াশোনা আর হারমোনিয়ামটায় কেটেছে তাঁর সাদামাটা শৈশব।

তখন থাকতেন নারায়ণগঞ্জে। নিজের বাড়িতে গানবাজনা খুব একটা হতো না। কিন্তু পাশের বিল্ডিংয়ে প্রায়ই ঘটা করে গানের আসর বসত। একপায়ে, চুপিচুপি জানালায় উঁকি মারতেন মৌসুমী। বারকয়েক তাঁর মুখের ওপর জানালার কপাটও বন্ধ করে দিয়েছিল বেরসিক বাড়িওয়ালা। একদিন বকাঝকাও করলেন। সেদিনই জেদ চেপেছিল মনে। নিজেই গাওয়া শিখবেন। মা ভর্তি করে দিলেন শিশু একাডেমিতে। ছয় বছর বয়সে শুরু প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা। শিশু একাডেমিতে দুই বছরের কোর্স করার পর সেখানে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন। এরপর শিল্পকলা একাডেমিতে নজরুলগীতি ও পল্লীগীতির ওপর কোর্স করেন। এখানেও দ্বিতীয় স্থান লাভ। সপ্তম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় উচ্চাঙ্গসংগীতের তালিম নেন ওস্তাদ সুবীর চক্রবর্তীর কাছে। মৌসুমী বলেন, ‘শিক্ষক আমাকে অনেক উৎসাহ দিয়েছেন। আর গানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা পেয়েছি মায়ের কাছ থেকে। ’

মায়ের উৎসাহেই ২০১২ সালে নাম লেখান ‘পাওয়ার ভয়েজ’ প্রতিযোগিতায়। ‘তবে রাতারাতি খ্যাতির আশায় নয়, এত দিন যা শিখেছি তা পরীক্ষা করার জন্য’, বলছিলেন মৌসুমী।

‘পাওয়ার ভয়েজ’ই তাঁর জীবনের নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। প্রশংসিত হয়েছে তাঁর গান। দর্শক মহলেও কদর বেড়েছে। এখন তো প্রায়ই ডাক পড়ে কনসার্টের। আগে গান করতেন মহল্লায়, আর এখন সারা দেশে। তাঁর কণ্ঠে ‘পাগল ছাড়া দুনিয়া চলে না’ গানটি শ্রোতারা মনে রেখেছে। কোনো কনসার্টে গেলেই গানটির অনুরোধ পান। আয়েশা মৌসুমী এখন স্টেজ শো নিয়ে খুব ব্যস্ত। চলতি সপ্তাহে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার বসুন্ধরায় আয়োজিত ‘নেহা কক্কর লাইভ ইন ঢাকা’ অনুষ্ঠানেও গাওয়ার সুযোগ পান।  

নাটকের গানে আগেই কণ্ঠ দিয়েছেন। কথা হচ্ছে প্রথম প্লেব্যাক নিয়ে। ব্যাটে-বলে মিলে গেলে বড় পর্দায় তাঁর কণ্ঠ শোনা যাবে শিগগিরই।

প্রথম একক অ্যালবামের কাজেও হাত দিয়েছেন এই গায়িকা। এরই মধ্যে তিনটি গানের কাজ শেষ। এগুলোর সংগীতায়োজনে রয়েছেন শওকত আলী ইমন, শফিক তুহিন ও ডিজে রাহাত। কথা লিখেছেন কবির বকুল ও শফিক তুহিন। মোট সাতটি গান নিয়ে অ্যালবামটি সাজানোর কথা জানান শিল্পী। বেশির ভাগই হবে ফোক। আগামী বছরের শুরুতেই অ্যালবামটি প্রকাশ করতে চান। প্রথম অ্যালবাম নিয়ে স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত আয়েশা মৌসুমী, ‘প্রথম অ্যালবাম হলো একজন শিল্পীর প্রোফাইল। এটি দেখেই অনেকে শিল্পীকে বিচার করে। আর তাই এই অ্যালবামের ক্ষেত্রে আমি কোনো ছাড় দিতে রাজি নই। নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজটি করব। ’

কোন ধরনের গান গেয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান? মৌসুমী বলেন, ‘আপাতত ফোক গান নিয়েই এগোনোর পরিকল্পনা। আমি ফোক-ফিউশন ধারার গান করতেই বেশি পছন্দ করি। আমাদের ফোক গানের ভাণ্ডারও খুব রিচ। অনেক ফোক গানই আছে যেগুলো মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। সেগুলো শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরতে চাই। পাশাপাশি মৌলিক গানও করব নিয়মিত। ’

আয়েশা সম্প্রতি শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি থেকে গ্রাফিক্স ডিজাইনে অনার্স শেষ করেছেন। পার্টটাইম চাকরি করছেন একটি প্রতিষ্ঠানে। তবে তাঁর সব স্বপ্ন গানকে ঘিরে। গানের তরীতে ভেসেই এগিয়ে যেতে চান আগামীর পথে।


মন্তব্য