kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কণ্ঠ তাঁর জাদু জানে

বলিউডে নিয়মিত গায়ক শহিদ মাল্য। মাত্র ৫ বছরেই গেয়েছেন ২১টি ছবিতে। তাঁর গাওয়া অনেক গানই পেয়েছে শ্রোতাপ্রিয়তা। লিখেছেন মিজানুর রহমান

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



কণ্ঠ তাঁর জাদু জানে

‘কোয়ি দিল মে কাবু কর গায়া’—কথাটি শহিদ মাল্যর জন্যই উপযুক্ত। ‘মওসম’ ছবিতে প্রীতমের সংগীতে এই গানটি দিয়ে বলিউড আর হিন্দি গানের শ্রোতাদের মন জয় করেন তিনি।

অনেক চড়াই-উত্রাইয়ের পর বলিউডে প্রথম প্লেব্যাক করার সুযোগ পান ২০১১ সালে। সেই থেকেই বলিউডে নিয়মিত শহিদ। বলিউড সংগীত পরিচালকদের ‘দিল মে কাবু’ করার মতো গায়ক চলতি সময়ে খুব কমই আছেন। অরিজিৎ সিং, শহিদ মাল্য সেই অল্প কয়েকজনের মধ্যেই। ‘মওসম’ ছবির গানটির পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি, বছরে তিন থেকে ছয়টি বড় ছবিতে গেয়ে যাচ্ছেন। এর বাইরে পাঞ্জাবি, অন্য ভাষার গান তো আছেই। তাঁর গাওয়া ‘উড়তা পাঞ্জাব’ ছবির ‘এক কুড়ি’ এখন বেশ আলোচিত। পাঞ্জাবি ঘরানার গায়ক বলেই কি না ছবির সংগীত পরিচালক অমিত ত্রিবেদী শহিদকে দিয়ে গাওয়ালেন তিনটি গান! কিছুদিন আগে মুক্তি পাওয়া ‘দৃশ্যম’ (ছবির টাইটেল) এবং ‘হ্যাপি ভাগ যায়েগি’ ছবিতেও (হ্যাপি ওয়ে) তাঁর গাওয়া গান জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ‘দৃশ্যম’ ইউ টিউবে দেখা হয়েছে এক কোটি ২৫ লাখেরও বেশিবার। প্রীতমের করা এই গানটি এখন শ্রোতার মুখে মুখে।  

পরিবারের মধ্যেই সংগীতের চর্চা থাকায় শহিদের শুরুটা একেবারে ছোটবেলায়। বাবা কৃষ্ণ কুমার (যিনি সেলিম নামেও পরিচিত ছিলেন) ছিলেন কিংবদন্তি গায়ক মোহাম্মদ রফির সহকারী। শহিদের সংগীতের প্রথম পাঠটা তাই বাবার কাছই। এরপর স্কুল জীবনে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যমণি হয়ে ওঠেন। গান গেয়ে একের পর এক পুরস্কার ঘরে তোলেন। শহিদের ভাষায়, ‘ট্রফি আর পুরস্কারে ঘর ভরে ফেলেছিলাম। ’

এক বন্ধুর আমন্ত্রণে মুম্বাইতে যান ২০০৩ সালে। প্রথম গান গাওয়ার জন্য তাঁকে অপেক্ষা করতে হয় আট বছর। তবে নিজের লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন শহিদ। এরপর এলো ‘মওসম’ ছবিতে গাওয়ার সুযোগ। সব ত্যাগ, পরিশ্রম সার্থক হয়ে ওঠে তখনই। এখন শহিদের কাছে গানের অভাব নেই।

২০০৯ সালে সোহেল খান প্রোডাকশনের ‘কৃষান’ ছবিটির ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর করছিলেন সলিল চৌধুরীর ছেলে সঞ্জয় চৌধুরী। সেখানে একটি জায়গায় বিয়োগাত্মক ‘আলাপ’ গেয়ে দিতে বলা হলো শহিদকে। ওই সময়ে শহিদ টিভি সিরিয়ালের আলাপের ‘কিশোর কুমার’। শহিদ সেটিকে সুযোগ বানিয়ে সঞ্জয়কে অনুরোধ করলেন তাঁকে যেন একটু সময়ে দেন, তিনি চার লাইন লিখতে চান। সঞ্জয় চৌধুরী সুযোগ দিলে চার লাইনের একটি বিরহের গান বানিয়ে ফেলেন। গাওয়ার পর ছবির পরিচালক শহিদকে জড়িয়ে ধরেন। বলেন, ‘আমাদের আশপাশেই এত ভালো গায়ক আছে, আর আমরা জানিই না!’ ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর সংগীত পরিচালক ডাব্বু মালিক অবাক হয়ে বলেন, ‘আরে! আমি এই গান কখন বানিয়েছি। ’ এখন পর্যন্ত ২১টি ছবিতে প্রায় ৩০টি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন শহিদ মাল্য।


মন্তব্য