kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গানেই সজীব স্বপ্নীল

পূজা উপলক্ষে এসেছে রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী স্বপ্নীল সজীবের এক গানের অ্যালবাম ‘একটুকু ছোঁয়া লাগে’। এতে তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন কলকাতার জয়তী চক্রবর্তী। কলকাতার আরেক গায়িকা ইমন চক্রবর্তীর সঙ্গে তাঁর গাওয়া ‘কোন কাননের ফুল’ এখন প্রশংসিত। লিখেছেন মোহসেনা জয়া

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



গানেই সজীব স্বপ্নীল

‘রবীন্দ্রসংগীতেই আমার বেড়ে ওঠা। তাই এই সংগীতের বাইরে আর কিছু শেখা হয়নি’, বলছিলেন স্বপ্নীল সজীব।

জন্ম ফরিদপুরের লক্ষ্মীপুরে। খালা লুত্ফর নাহার লতা উচ্চাঙ্গসংগীত শিল্পী। ছয়-সাত বছর বয়সে খালার কাছেই সংগীতে হাতেখড়ি। একটু বড় হতেই খালা ভর্তি করিয়ে দেন ফরিদপুর শিল্পকলা একাডেমিতে। ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ছায়ানটে পাঁচ বছরের কোর্স করেন রবীন্দ্রসংগীতের ওপর। তারপর কিছুদিন তালিম নেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার কাছে। এর ভেতর ২০০০ সালেই বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে কাজ শুরু করেন। স্বপ্নীলের মতে, ‘রবীন্দ্রসংগীত আমার কাছে প্রার্থনার মতো।   যতই শিখছি ততই এই সংগীতের মায়ায় জড়িয়ে পড়ছি। ’ সংগীতের নেশায় বুঁদ হওয়া এই গায়কের প্রথম একক অ্যালবাম ‘টেগোর ট্রেজারি’ প্রকাশ পায় ২০১২ সালে, জি সিরিজের ব্যানারে। সেই অ্যালবাম দিয়েই আলোচনায় আসেন। যার ধারাবাহিকতায় একই বছর কলকাতার কোয়েস্ট ওয়ার্ল্ড থেকে আসে দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ‘ভাঙ্গাগড়ায় রবীন্দ্রনাথ’। পরের বছর জি সিরিজের ব্যানারে আসে তৃতীয় একক ‘নীল অতল’। আর ২০১৫ সালে চতুর্থ একক ‘মুক্তি’ প্রকাশ করে ডেলভেস্টা ফাউন্ডেশন। দুটি মিক্সড অ্যালবামেও গেয়েছেন।

সমান তালে চালিয়ে যাচ্ছেন স্টেজ পারফর্ম। ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্টিভাল, আমেরিকায় বঙ্গ সম্মেলন, লস অ্যাঞ্জেলেস সম্মেলন, দিল্লির কামানি অডিটরিয়াম, ওয়ার্ল্ড মিউজিক ডে কলকাতা ও রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলনসহ অনেক অনুষ্ঠানে গান গেয়েছেন। পেয়েছেন শ্রোতার প্রশংসাও। দেশের বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের পাশাপাশি কলকাতার তারা, আকাশ বাংলা, দিল্লির ডিডি, ত্রিপুরার আকাশ বাংলা, আমেরিকায় বাংলা টিভি প্রভৃতি চ্যানেলে গান পরিবেশন করেছেন। তাঁর কথায়, ‘সংগীতের ভাষা আন্তর্জাতিক, যার কারণে সব সংগীতই মানুষ মুগ্ধ হয়ে শোনে। আর এমন কোনো বাঙালি আমার চোখে পড়েনি; যারা রবীন্দ্রসংগীত পছন্দ করে না। মানুষের এই মুগ্ধতা এবং ভালোবাসাই আমার অনুপ্রেরণা। ’

১৯৯৮ সালে জাতীয় শিশু কিশোর পুরস্কার এবং ২০০০ সালে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ পুরস্কার পেয়েছেন ফোক সংগীত গেয়ে। ২০১১ ও ২০১৩ সালে রবীন্দ্র সম্মেলনে প্রথম মান অর্জন করেন। ২০১২ সালে ‘চ্যানেল আই নব গান নব প্রাণ’ প্রতিযোগিতায় টপ ফাইনালিস্ট হন। ২০১৫ সালে সাঁকো টেলিফিল্ম অ্যাওয়ার্ড এবং ২০১৬ সালে পান বাবিসাস অ্যাওয়ার্ড।

পূজা উপলক্ষ্যে গানচিলের ব্যানারে এসেছে স্বপ্নীলের এক গানের অ্যালবাম ‘একটুকু ছোঁয়া লাগে’। যাতে তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন কলকাতার রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী জয়তী চক্রবর্তী। গানটির মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করেছেন স্বপ্নীল ও বাংলাদেশী বংশদ্ভুত সুইডিশ মডেল কারিন। কারিনের মামা আবৃত্তি শিল্পী শিমুল মুস্তাফা। তিনিই তাকে নিয়ে আসেন এই অ্যালবামের জন্য। গানটির সংগীতায়োজন করেছেন কলকাতার তমাল চক্রবর্তী। কোরিওগ্রাফি, পোশাক পরিকল্পনা এবং ভিডিও পরিচালনায় ইভান শাহরিয়ার সোহাগ, বিপ্লব সাহা ও রম্য খান। ‘অনেক যত্ন নিয়ে গানটি করেছি। এ জন্য দুই বাংলায় দৌড়াদৌড়ি করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ভালো একটি গান দাঁড়িয়েছে। আমার বিশ্বাস এটি শ্রোতাদের মুগ্ধ করবে’—বলছিলেন স্বপ্নীল।

কলকাতার শিল্পীর সঙ্গে এটিই স্বপ্নীলের প্রথম কাজ নয়। কিছুদিন আগেই ঈগল মিউজিক থেকে প্রকাশিত হয় স্বপ্নীল ও কলকাতার ইমন চক্রবর্তীর দ্বৈত গান ‘কোন কাননের ফুল’। যেটির জন্য দুই বাংলার শিল্পীসহ অনেকের প্রশংসা পেয়েছেন।

স্বপ্নীল এখন ব্যাস্ত দুটি অ্যালবাম নিয়ে। একটি রবীন্দ্রনাথের গান নিয়ে, অন্যটি মৌলিক। দুটিই মিক্সড। রবীন্দ্রসংগীতের অ্যালবামটি নিয়ে আসছে কলকাতার আশা অডিও। এতে গান থাকছে ৬টি। গানগুলোতে স্বপ্নীল যাদের সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন তাঁরা হলেন— ওস্তাদ রশিদ খান, শ্রাবণী সেন, ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায়, পন্ডিত তেজেন্দ্র নারায়ন, জয়তী চক্রবর্তী ও ফরিদা পারভীন। মৌলিক গানের অ্যালবামটির নাম এখনও ঠিক হয়নি। এই অ্যালবামেও থাকছে ৬টি গান। এতে ন্যানিস ও কনার সঙ্গে গাইবেন স্বপ্নীল।

স্বপ্নীল এই সপ্তাহে উড়াল দিচ্ছেন দিল্লি। নবমী ও দশমীতে গান করবেন দিল্লীর জি.কে (গ্রেটার কেলাশ-২) ও সি.আর পার্কে।

বছর শেষে ইংল্যান্ডে বাংলাদেশ হাইকমিশনের আমন্তণে গাইতে যাবেন। আগামী বছরের শুরুতে ওয়াশিংটন ডিসিতে আমেরিকান উৎসবে বাংলাদেশের বরেণ্য শিল্পীদের সঙ্গেও গাইবেন।


মন্তব্য