kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গাইতে গাইতে গায়েন

একাধারে গীতিকার, সুরকার ও গায়ক। প্রথম অ্যালবাম দিয়েই প্রশংসা কুড়িয়েছেন আহমেদ হাসান সানি। লিখেছেন ইসমাত মুমু, ছবি তুলেছেন সুমন ইসলাম আকাশ

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



গাইতে গাইতে গায়েন

গানের সঙ্গে প্রথম পরিচয়টা কবে, মনে নেই সানির। নিজের সম্পর্কে বলেন, ‘গাইতে গাইতে গায়েন।

’ ভালো লাগা থেকে জনপ্রিয় সব গান গাওয়ার চেষ্টা করতেন। গিটার শিখেছেন নিজে নিজেই। রবীন্দ্রসংগীত থেকে হার্ড রক—সবই গাওয়ার চেষ্টা করতেন। এরই মধ্যে গান লিখতে শুরু করলেন। অবশ্য কবিতা লেখার অভ্যাস ছোটবেলা থেকেই। নিজের গান আর কবিতায় নিজেই সুর দেন। এভাবেই অনেক সুর জমে যায়। বন্ধু ও কাছের মানুষদের শোনাতে থাকেন। উৎসাহ দেন অনেকেই। ইউটিউবেও আপলোড করেন কিছু গান। অ্যালবাম করার কোনো প্ল্যান ছিল না। বন্ধু আরাফাত মহসিনের কম্পোজিশনে নিজের জন্য একটি, দুটি গান রেকর্ড করা শুরু করলেন। মুঠোফোন কম্পানি এয়ারটেল উৎসাহ দেয় পুরো একটা অ্যালবাম করার। যা তাদের সাইট থেকে প্রকাশ করবে। অনেক গানের মধ্যে ১০টি গান নিয়ে সাজিয়ে ফেলেন অ্যালবাম—‘মুক্তাঞ্চল’। গানগুলোর কথা লিখেছেন শক্তি চট্টোপাধ্যয়, জীবনানন্দ দাশ ও আহমদ ছফার কবিতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে। রেখেছেন একটি ইংরেজি গান, এটি লিখেছেন ওয়াহিদ ইবনে রেজা।

কিছু গানের ভিডিও প্রকাশ করেছেন। সামনেই সিডি আকারে প্রকাশ করবেন অ্যালবামটি। ‘অ্যালবাম করেছি কোনো রকম প্ল্যানিং ছাড়াই। বলতে গেলে এটি আমাদের বন্ধুত্বের গান। এই অ্যালবামের কারণে আরাফাত মহসিনের সঙ্গে আমার বন্ডিংটা অনেক মজবুত হয়েছে। অনেক রাত একসঙ্গে জেগেছি। আমাদের সঙ্গে আরাফাত কীর্তিও অনেক কষ্ট করেছেন। তিনজনের কষ্টের ফসল এবা অ্যালবাম। একটি ঘটনা মনে পড়ছে, রাত ৩টায় হঠাৎ ভূমিকম্প টের পাই। আমরা দৌড় দিলাম স্টুডিও ছেড়ে। তখন গান রেকর্ডিং করছিলাম। কিছু দূর দৌড়ে গিয়ে আবার ফিরে এলাম গানটা সেভ করার জন্য। মানে সব ভেঙেচুরে যাক তবু গানটা থাকুক’, বললেন সানি।

এরই মধ্যে প্রশংসায় ভাসছেন। নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী তাঁর গান শুনে ফেসবুকে লিখেছেন—“গাইতে পারি না, এই একটা বড় অনুতাপ আমার। এটা ভুলতে শিল্পীদের সঙ্গে দোস্তি করি, গানের সঙ্গে দোস্তি করি। তোমার গান ‘কে আর বাজাতে পারে’ আমার কলিজা জুড়ায়েছে। বাংলা গানের জগতে তোমাকে স্বাগত, সানি। ”

অ্যালবামের অন্য গানগুলোর রেসপন্সও বেশ। ‘ভবিনি সবার কাছ থেকে এত বেশি রেসপন্স পাব। মনে করেছি একটি শ্রেণির শ্রোতা হয়তো আমার গান শুনবে। কিন্তু সব শ্রেণির মানুষের কাছ থেকেই ভালো রেসপন্স পাচ্ছি। ঢাকার বাইরে থেকেও ফোন পাই’, বললেন সানি।

বেশ কিছু জিঙ্গেলেও কণ্ঠ দিয়েছেন। কণ্ঠ ও সুর দিয়েছেন চলচ্চিত্রের গানেও। গিয়াসউদ্দীন সেলিমের ‘স্বপ্নজাল’ চলচ্চিত্রে গেয়েছেন ‘পালের বাতাস’। সানির সুরে ‘বোঝো কি গাছের ভাষা’ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন মমতাজ। দুটি গানই লিখেছেন সানি। বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণও করেন সানি। তবে নিজেকে গায়ক ভাবতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।


মন্তব্য