kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এপারের শাহেদ ওপারে

রিংগো ব্যানার্জির ছবি ‘সেনাপতি’র শুটিংয়ে এই মুহূর্তে কলকাতায় শাহেদ শরিফ খান। ছবিতে তাঁর নায়িকা রিয়া সেন। শাহেদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন সুদীপ কুমার দীপ, ছবি : মোহসীন আহমেদ কাওছার

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



এপারের শাহেদ ওপারে

দুই মাস আগের কথা। হঠাৎ কলকাতা থেকে ফোন।

শাহেদ তখন নাটকের শুটিংয়ে ব্যস্ত। ফোন ধরার সময় নেই। ঘণ্টা দুই পরে কল ব্যাক করলেন। ওপাশ থেকে রিসিভ করলেন রিংগো। কুশলাদি বিনিময় হলো। একপর্যায়ে রিংগো জানালেন, নতুন ছবি তৈরি করবেন। এখন পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের কাজ চলছে। একটা চরিত্রের জন্য শাহেদকে তিনি পছন্দ করেছেন। প্রযোজককে কিছু ফুটেজও দেখিয়েছেন তাঁর। সবাই রাজি বাকি শুধু শাহেদের ‘হ্যাঁ’।

বরাবরই কলকাতার ছবিতে অভিনয়ের আগ্রহ শাহেদের। জয়া আহসান, সোহানা সাবাসহ অনেকেই সেখানে কাজ করছেন। রিংগোকে স্ক্রিপ্ট পাঠাতে বললেন। পছন্দ হলেই কাজ করবেন। পরদিন সন্ধ্যায় মেইলে স্ক্রিপ্ট পাঠালেন। সঙ্গে শাহেদের জন্য বাছাইকৃত চরিত্রটিও নোট করে দিলেন। রাতে বাসায় ফিরে স্ক্রিপ্ট নিয়ে বসলেন শাহেদ আর তাঁর স্ত্রী নাতাশা। লাইনআপটি বেশ কয়েকবার পড়লেন। কিন্তু রিংগোর দেওয়া চরিত্রটি কোনোভাবেই পছন্দ হলো না। মন খারাপ হলো। পরদিন রিংগোকে জানালেন। শাহেদের মুখে ‘না’ শুনে রিংগোরও খারাপ লাগল। বললেন, ‘আচ্ছা, তুমি বলো কোন চরিত্রে কাজ করতে চাও? স্ক্রিপ্ট তো তোমার কাছেই আছে। ’

রাতেই অপশন ভেবে রেখেছিলেন শাহেদ। সঙ্গে সঙ্গে বললেন ‘বিষ্ণু’, গল্পের এই চরিত্রটা হলে করব। রিংগো রাজি হলেন। বললেন, ‘দুই মাস পর শুটিং। তুমি প্রস্তুতি নাও। ’

অবশেষে গত সপ্তাহে ওপারের ডাক এলো। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ‘সেনাপতি’ নামের এই ছবির শুটিং করছেন শাহেদ। চলবে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত। তাঁর সহশিল্পীর তালিকায় আছেন পশ্চিমবঙ্গের অনেকেই। তাঁদের মধ্যে দুই পরিচিত মুখ পরমব্রত ও রিয়া সেন। দুজনই নাকি শাহেদকে বেশ পচাচ্ছেন। মজা করে বলেন, ‘এই যে শুটিং রেখে আপনার সঙ্গে (প্রতিবেদককে) কথা বলছি, এর খেসারত দিতে হবে এখনই। জানেন না, আমাকে একা পেয়ে পুরা নাকানি-চুবানি খাওয়াচ্ছে এরা। এ কারণে নাতাশাকে এখানে আসতে বলেছি। আজই [২৯ সেপ্টেম্বর] পৌঁছাবে। এরপর দেখি, দল ভারী করে প্রতিশোধ নেওয়া যায় কি না! হা হা হা। ’

 

আন্ডারওয়ার্ল্ডের গল্প নিয়ে ‘সেনাপতি’। একটি ডন পরিবার। পরিবারের চার ভাইয়ের এক ভাই বিষ্ণু। যে আদর্শবান। ডন হলেও অসৎ কাজে কখনো সায় দেন না। একসময় ভাইদের মধ্যে ক্ষমতা নিয়ে বাঁধে দ্বন্দ্ব। জন্ম হয় নতুন ঘটনার। শাহেদ বলেন, “আমি প্রথম থেকেই রিংগো ও তাঁর কাজের ভক্ত। তাঁর ক্যামেরার কাজ অন্যদের চেয়ে আলাদা। বাংলাদেশে আমার ক্যারিয়ার শুরু হয় তাঁর হাত ধরে। সেই ১৯৯৭ সালে শমী কায়সারের বিপরীতে টেলিছবি ‘স্বপ্ন’তে সুযোগ করে দিয়েছিলেন। এখন ২০১৬। দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে আমরা ভালো বন্ধু, ভাই। জানি, ছবিটি মুক্তি পেলে দারুণ কিছু ঘটে যাবে। ”

দেশে ফিরবেন ৭ অক্টোবর। দু-এক দিন বিশ্রাম নিয়েই শুটিং করবেন এসএ টেলিভিশনের নতুন একটি ধারাবাহিকের। তবে এই মুহূর্তে নতুন আর কোনো ছবি নেবেন না। কিছুদিন আগে দেশে মুক্তি পেয়েছে ‘অজ্ঞাতনামা’। বিশ্বের নানা চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি পুরস্কার অর্জন করছে। এ ছাড়া এবারের অস্কারে বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে ছবিটি। আপাতত ‘অজ্ঞাতনামা’ নিয়েই থাকতে চান। বলেন, “আমি সব সময় কম ছবিতে অভিনয় করি। তবে যে ছবিগুলোতে অভিনয় করেছি তার সবই মনে রাখার মতো—‘প্রিয় সাথী’, ‘ হৃদয়  শুধু তোমার জন্য’, ‘জয়যাত্রা’, ‘ছেলেটি আবোল তাবোল মেয়েটি পাগল পাগল’, ‘টক ঝাল মিষ্টি’। ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই। ”


মন্তব্য