kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘আইপডে নিজের গাওয়া দুটি গান রাখি’

এক দশক ধরে বলিউডে রাজত্ব করেছেন সুনিধি চৌহান। অভিনয়ের খাতায়ও নাম লিখিয়েছেন। তাঁর গাওয়া ‘বাদল’ এখন মির্চি টপচার্টের ১৫ নম্বরে। গেয়েছেন বাংলাদেশের ছবি ‘বিজলী’তে। ভারতীয় একটি পত্রিকাকে দেওয়া তাঁর সাক্ষাত্কার তুলে ধরেছেন মিজানুর রহমান

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



‘আইপডে নিজের গাওয়া দুটি গান রাখি’

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আপনি কি গান পছন্দে একটু ‘চুজি’ হয়ে গেছেন?

কিছুটা। আসলে যা করে ফেলেছি তার পুনরাবৃত্তি করতে চাই না।

যে ধরনের গান ভালো গাই সে ধরনের গানের জন্যই মানুষ আমার কাছে আসে। আমি আমার শতভাগ ঢেলে দিই যাতে গানটি ভালো শোনায়। সমপ্রতি কিছু গান পেয়েছি যেগুলো শুনে মনে হয়েছে, আমার চেয়ে অন্য কেউ ভালো গাইতে পারবে। সেগুলো গাইনি। এমন নয় যে গানের প্রতি অশ্রদ্ধা থেকে এমনটি করেছি।

সোনাক্ষী সিনহার ‘আকিরা’ ছবির ‘বাদল’ গাওয়ার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

প্রথমবার যখন গানটি শুনি তখনই পছন্দ হয়ে যায়। আমি গানটি নেওয়ার পর শেখর রাভজিয়ানি জানত না গানটি ঠিক কোন দিকে যাচ্ছে। তবু আমরা রেকর্ড করেছি। সেদিন অসুস্থ ছিলাম। মনে হচ্ছিল, ঠিকভাবে গাইতে পারিনি। এর পর থেকে শেখরের কোনো কল পাইনি। ভেবেছিলাম, গানটি হয়তো বাতিল হয়ে গেছে বা অন্য কোনো ছবির জন্য তুলে রেখেছে। পরে যখন টিভিতে গানটি শুনি কিছুটা অবাক হয়েছি। আমি খুবই খুশি যে গানটি সবার ভালো লাগছে। এটা প্রায় ১০ লাখ বার ইউটিউবে শোনা হয়েছে। কনসার্টে গানটি করার অপেক্ষায় আছি।

আপনাকে শর্ট ফিল্ম ‘প্রিয়া’য় অভিনয় করতে দেখা গেছে। অভিনয়ে কি নিয়মিত হবেন? 

আমি অভিনয়ে আগ্রহী। তবে যখন অভিনয় করব তখন চাইব না মানুষ আমাকে গায়িকা হিসেবে চিনুক। অভিনয় করলে অভিনেত্রী হিসেবেই নিজের পরিচিতি বাড়াতে চেষ্টা করব। ‘প্রিয়া’ করার পর অভিনয়শিল্পীদের প্রতি শ্রদ্ধা বেড়ে গেছে। পাঁচ মিনিটের শুটিং করতে আমাদের লেগেছে ২৩ ঘণ্টা। ‘প্রিয়া’র পর অনেক অফার আসছে, এখনো কাউকে কথা দিইনি।

বিয়ের পর আপনার জীবনে কতটা পরিবর্তন এসেছে?

একটুও পরিবর্তন আসেনি। আমরা দুজনই নিজ নিজ ক্ষেত্রে ব্যস্ত। পরিবর্তন হচ্ছে এটাই যে আগে একা থাকতাম এখন একজন বন্ধুর সঙ্গে থাকা হয়। এখন আর আগের মতো ছুটি মেলে না। যাই হোক, এটা এখন জীবনের অংশ।

আপনার স্বামী হিতেশ সোনিক আপনার কাজ সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানান?

সময় পেলেই জানান। সাধারণত আমার একটি গান শেষ হয় দু-তিন ঘণ্টায়। কিন্তু হিতেশের ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর শেষ হতে সময় লাগে তিন-চার মাস। আমরা সময় পেলেই একে অপরের কাজ নিয়ে কথা বলি, আলোচনা করি।

বলিউডে ছবির গানের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, এ নিয়ে আপনার মধ্যে চিন্তা কাজ করে না?

একেবারেই না। ছবি বানানোর পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসছে। ১৯৯৫ সাল থেকে গানের জগতে আছি। এখন ২০১৬। এর মধ্যে অনেক পরিবর্তন দেখেছি। এসব পরিবর্তনের অংশ হতে পেরে নিজেকে নিয়ে আনন্দিত। আমি সময়ের সঙ্গে চলতে পছন্দ করি। কারো প্রতি কেনো অনুযোগ নেই।

আমরা জানতে পেরেছি আপনি জাসপিন্দর নারুলার পা ছুঁতে গেলে তিনি পা সরিয়ে ফেলেন। এটা কি সত্যি?

প্রথমত, আমি জাসপিন্দরকে অনেক সম্মান করি। দ্বিতীয়ত, জাসপিন্দরের পা ছুঁতে যাইনি কখনো। জীবনে আমি খুব কম মানুষের পা ছুঁয়েছি। জানি না এসব কথা কোথা থেকে আসে। জাসপিন্দরজি আমার অনেক আগে থেকেই গানের জগতে আছেন। আমি নিশ্চিত তিনি যদি আবারও গানে কণ্ঠ দেন ভালো করবেন।

আপনার সবচেয়ে কাছাকাছি কণ্ঠ কার?

এটা বলতে চাই না, সবাই নিজের কণ্ঠে ইউনিক। কারো কণ্ঠ থেকে অনুপ্রাণিত হওয়া কোনো সমস্যা নয়।

মাল্টি-কম্পোজারের বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখেন?

এটা একদিক থেকে ভালো, কারণ এখন অনেকেই সুযোগ পাচ্ছে নিজের মেধা প্রকাশ করার। অন্যদিকে একটি প্রজেক্টে তিন-চারজন কম্পোজার নেওয়া হচ্ছে। একজন পরিচালকের ছবি নিয়ে যেমন ভাবনা থাকে তেমনি থাকে একজন কম্পোজারেরও। আমার মতে কম্পোজার একজনই ভালো। তবে সময়ের পরিবর্তনটাও মানতে হবে।

একটি গানের কথা বলুন যেটি আপনি আবারও গাইতে চান।

আমি আমার প্রতিটি গানই আবার গাইতে চাই। কারণ নিজের গান নিয়ে কখনোই সন্তুষ্ট ছিলাম না। তবে আইপডে নিজের গাওয়া দুটি গান রাখি—‘জারা’  (মার্ডার-টু) ও ‘বেহতা হ্যায় ’ (চামেলি)। এমন নয় যে অন্য গানগুলো পছন্দ করি না। আসলে আপনি তো  আপনার সব কাজ নিয়ে গর্ব করতে পারেন না।

 এমন কোনো গান কি আছে যেটি আপনার গাওয়া উচিত হয়নি বলে মনে করেন।

যত কঠিনই হোক না কেন, কোনো গানের ক্ষেত্রেই মনে হয়নি যে আমার এটি গাওয়া উচিত হয়নি।


মন্তব্য