kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দ্য হেড অ্যান্ড দ্য হার্ট

আমেরিকান ব্যান্ড দ্য হেড অ্যান্ড দ্য হার্ট-এর ‘সাইনস অব আর্ট’ অ্যালবামটি এখন বেশ আলোচিত। ৩ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে অ্যালবামটি নিয়ে তাদের বিশেষ ট্যুর। লিখেছেন আবু সালেহ শফিক

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



দ্য হেড অ্যান্ড দ্য হার্ট

সিয়াটলের কোনোর বায়ার্ন পাব। রাতের বেলা।

যোশিয়া জনসন নামের এক যুবক বসে ছিলেন স্টেজের ধারে। একটা গান গেয়ে ফেলবেন কি না ভাবছেন। তাঁর বাড়ি আসলে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায়। সিয়াটলে এসেছেন গ্র্যাজুয়েশন শেষ করতে। হঠাৎই কাছের চেয়ারটায় একজন এসে বসলেন। নাম বললেন, জোনাথন রাসেল। ভার্জিনিয়া থেকে বেশি দিন হয়নি সিয়াটলে এসেছেন। কথায় কথায় জানা হয়ে গেল, দুজনেই গান পছন্দ করেন। সিয়াটলে এসেছেন কেইনি হানসলেও। তিনি কিবোর্ড বাজান। ওদিকে চ্যারিটি রোজ নামের এক তরুণী পড়ছিলেন প্যারিসে। পড়াশোনা শেষ করে সদ্যই এসেছেন সিয়াটলে। তিনি ভায়োলিন বাজাতে জানেন, গানেও কণ্ঠ দেন। ড্রামার হিসেবে তাঁদের সঙ্গে কিছুদিনের মধ্যেই যোগ দেন টাইলর উইলিয়ামস। আরেক যুবক ক্রিস যশ কোনোর বায়ার্নের বারটেন্ডার। তিনি কাজের ফাঁকে গান করেন। তাঁকেও দলে ভেড়ান যোশিয়া। সব মিলিয়ে তাঁরা ছয়জন হয়ে গেলেন। দলের একটা নাম এখন দরকার। মস্তিষ্ক আর হৃদয়কে একত্রিত করে যোশিয়া নাম পান, ‘দ্য হেড অ্যান্ড দ্য হার্ট’। নামটি শোনার পর সায় দেন বাকিরা।

সময়টি ২০০৯ সাল। তাঁরা গাইতে থাকেন ইন্ডি ফোক, ফোক রক আর ইন্ডি রক। প্রথম কয়েকটি গান নিজেরাই রেকর্ড করেন। বেশ কিছু কপি তৈরি করে বন্ধুদের কাছে বিক্রিও করেন। শুনে সবাই ভালো বলেন। একজন থেকে দুজন, তারপর চার, একসময় চারদিকে ছড়িয়ে যায়। স্থানীয় গানের দোকান ইজি স্ট্রিট আর সনিক বুমে রাখা কপিগুলোও বিক্রি হয়ে যায়। তারপর ২০১০ সালের নভেম্বরে সাব পপ নামের একটি রেকর্ডিং কম্পানির সঙ্গে চুক্তি হয় তাঁদের। কম্পানিটি কিছু গান নতুন করে তৈরি করে। সিডি করে বাজারে ছাড়ে। ওই বছরই তাঁরা আমেরিকার শহরগুলোতে ট্যুর শুরু করেন। ২০১১ সাল নাগাদ যান ইউরোপে। মার্চে সিয়াটলের সিটি আর্টস ম্যাগাজিন তাঁদের সিয়াটলের বেস্ট নিউ ব্যান্ডের তকমা দেয়। এপ্রিলে তাঁরা টিবিএস টিভির কোনান শোতে অংশ নেন। অ্যালবামটি বিলবোর্ড টু হান্ড্রেডেও জায়গা করে নেয়। তাঁদের দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘লেটস বি স্টিল’ প্রকাশিত হয় ২০১৩ সালের অক্টোবরে। যোশিয়া বলেন, ‘এই অ্যালবাম আমাদের সবার অংশগ্রহণেই তৈরি। পুরো দল মিলেই কাজটি করেছি। ’ অলমিউজিক ডট কমের জেমস ক্রিস্টফার মঙ্গার অ্যালবামটি সম্পর্কে বলেছেন, ‘দলটি হৃদয় আর মস্তিষ্কের মধ্যে একটি ভালো সেতু গড়ে দিয়ে নিজেদের নাম সার্থক করেছে। ’

উল্লেখ্য, প্রথম আর দ্বিতীয় অ্যালবাম মিলিয়ে মোট সাড়ে ছয় লাখ কপি বিক্রি হয়েছে দলটির। গেল সেপ্টেম্বরে দলটি প্রকাশ করে নতুন অ্যালবাম ‘সাইনস অব লাইট’। অ্যালবামের গানগুলো এখন বেশ আলোচিত। বিল বোর্ডের সেরা ২০০ অ্যালবামের মধ্যে এটির অবস্থান এখন পাঁচে। ৩ অক্টোবর থেকে অ্যালবামটি নিয়ে বিশেষ ট্যুর শুরু করছেন তাঁরা।

সিয়াটল টাইমসের মিউজিক ক্রিটিক পল ডি বারোস লিখেছেন, ‘দলটি আত্ম-অনুসন্ধানী। তারা নিজেদের খুঁজে ফিরছে। ’       


মন্তব্য