kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অল্প সময়ের সুর, গেল বহুদূর

অনেক গান আছে যেগুলোর সুর খুব অল্প সময়ে করা। কিন্তু জনপ্রিয়তা পেয়েছে বেশ। এমনই কিছু গান নিয়ে এ আয়োজন। গানগুলোর গল্প শুনিয়েছেন আলাউদ্দিন আলী, শেখ সাদী খান, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ও শওকত আলী ইমন। লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



অল্প সময়ের সুর, গেল বহুদূর

গান : এই দুনিয়া এখন তো আর সেই দুনিয়া নাই

কথা ও সুর : আলাউদ্দিন আলী

কণ্ঠ : মিতালী মুখার্জি

সময় : প্রায় ১৫ মিনিট

আলাউদ্দিন আলী

বিটিভির একটি অনুষ্ঠানের জন্য গান তৈরি করছিলাম। মিতালী মুখার্জির জন্যও একটি গান করতে হবে।

রাত তখন প্রায় ১টা। খাওয়াদাওয়া শেষ করে ঠাণ্ডা মাথায় বসলাম গানটি নিয়ে। হারমোনিয়াম ধরতেই সুরটি মাথায় আসে। যেহেতু নিজেই গীতিকার, কথাও আসতে থাকে সঙ্গে সঙ্গে। ১৫ মিনিটের মধ্যে গানটির মুখ হয়ে যায়। শুরু থেকেই গানটি সবাই পছন্দ করতে থাকে। আমজাদ হোসেন তাঁর ‘দুই পয়সার আলতা’ ছবিতে গানটি ব্যবহার করেন। ঠোঁট মেলান শাবানা। এরপর গানটি আরো জনপ্রিয়তা পায়। মানুষের মুখে মুখে পৌঁছে যায়। এটা আমার নিজেরও অনেক প্রিয় গান। এমন একটি গান এত কম সময়ে করতে পেরেছি, ভাবতেই ভালো লাগে।

 

গান : ডাকে পাখি খোলো আঁখি

কথা : নজরুল ইসলাম বাবু

সুর : শেখ সাদী খান

কণ্ঠ : হৈমন্তী শুক্লা

সময় : প্রায় ১০ মিনিট

 

শেখ সাদী খান

১৯৮৪ সালের কথা। পরিচালক বেনজীর আহমেদ ‘প্রতিরোধ’ ছবির জন্য গান করতে বললেন। গানটি ব্যবহৃত হবে সকালের একটি দৃশ্যে। একদিন সকালে আমি আর নজরুল ইসলাম বাবু রিকশায় করে বাংলাদেশ বেতারে যাচ্ছিলাম। রমনা পার্কের কাছে আসতেই বাবু বললেন, ‘গানটির মুখ লেখা হয়ে গেছে। ’ শুনে আমারও মনে ধরে গেল। প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যে আমরা গানটির কথা-সুর তৈরি করে ফেলি। শোনানোর পর পরিচালক খুব একটা পছন্দ করলেন না। ভারতের ভাইব্রেশন স্টুডিওতে গানটিতে কণ্ঠ দেন হৈমন্তী শুক্লা। ভয়েস শেষ হতেই সেখানে প্রবেশ করেন গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার। গানটি শুনে তিনি বলেন, ‘বাহ! কথা ও সুরের দারুণ সমন্বয় হয়েছে। খুব ভালো লাগল। ’ রেকর্ডিংয়ের পর পরিচালকসহ সবাই গানটির প্রশংসা করেন।

 

গান : তোমায় দেখলে মনে হয়

কথা ও সুর : আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল

কণ্ঠ : এন্ড্রু কিশোর ও কনকচাঁপা 

সময় : সাত-আট মিনিট

 

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল

২০০০ সালের আগের ঘটনা। ‘বিয়ের ফুল’ ছবির গান করতে বাসায় এলেন পরিচালক মতিন রহমান। আমি ঘরের মধ্যে হাঁটাহাঁটি করছিলাম। অনেকক্ষণ পর তিনি আমার স্ত্রীর কাছে অভিযোগ করলেন, ‘দেখেছেন, আপনার স্বামী আমার গান নিয়ে বসছে না, অবহেলা করছে। হারমোনিয়াম ধরার কোনো খবর  নেই। ’ আমি তাঁকে বললাম, ‘তোমায় দেখলে মনে হয়, হাজার বছর তোমার সাথে ছিল পরিচয়। ’ তিনি বললেন, ‘এটা কী?’ বললাম, ‘এটাই গান। ’ বললেন, ‘এত ছোট?’ বললাম, ‘হ্যাঁ। এটাই মুখ। এটুকুতেই চলবে। ’ এরপর মাত্র সাত-আট মিনিটে পুরো গানটির কথা-সুর রেডি করি। গানটি নিয়ে তিনি একটু দ্বিধার মধ্যে ছিলেন। শুটিংয়ের আগে আমাকে বললেন, গানটি নিয়ে আরেকটু ভাবতে। বিট ও তাল ঠিক আছে কি না আবার চেক করতে। বললাম, সব ঠিক আছে। গানটিতে পর্দায় ঠোঁট মেলান শাবনূর ও শাকিল খান। ছবি মুক্তির পর খুব দ্রুতই গানটি চারদিকে ছড়িয়ে যায়, জনপ্রিয়তা পায়।

 

গান : মা

কথা : আসিফ ইকবাল

সুর : শওকত আলী ইমন

কণ্ঠ : রাশেদ 

সময় : প্রায় পাঁচ মিনিট

 

শওকত আলী ইমন

২০০৫ সালের কথা। রোজার মাস। সাহরি খেতে উঠেছি। নামাজের আগে আসিফ ইকবাল ফোন দিয়ে বললেন, ‘মনটা খুব খারাপ। ১৪ বছর পর মাকে স্বপ্নে দেখেছি। মাকে নিয়ে চারটি লাইন লিখেছি। ’

আমি লাইনগুলো শুনি এবং কাগজে টুকে রাখি। বললাম, ক্লোজআপ ওয়ানের মৌলিক রাউন্ডের জন্য এটাকে গান করা যেতে পারে। সন্ধ্যায় ফোন দিয়ে বললেন, ‘ইমন গানটার কী অবস্থা? সুর হলো কিছু?’ তিনি তখন সোনারগাঁও হোটেলে।

সুরটি নিয়ে না বসলেও তাঁকে বললাম, হয়ে গেছে! তিনি বললেন, ‘আমি তোমার বাসায় আসছি শোনার জন্য। ’

এটা শুনে দ্রুত গানটি নিয়ে বসি। মাত্র পাঁচ মিনিটে সুরটি দাঁড়িয়ে যায়। এরপর তিনি বাসায় এলে সুরটি শোনাই। শুনেই তিনি পছন্দ করেন। গানটির জন্য মানুষের অনেক ভালোবাসা পেয়েছি।


মন্তব্য