kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


স্মরণ

তাঁর সঙ্গে যখনই মিশেছি নতুন কিছু একটা শিখেছি

রামেন্দু মজুমদার, নাট্যব্যক্তিত্ব

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



তাঁর সঙ্গে যখনই মিশেছি নতুন কিছু একটা শিখেছি

সৈয়দ শামসুল হক [১৯৩৫-২০১৬]

‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ আমরা মঞ্চে এনেছি ১৯৭৬ সালে। তারও অনেক আগে থেকেই আমি তাঁকে চিনি।

তবে হৃদ্যতা হয় নাটক করতে গিয়েই। আমার হাতে ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’-এর পাণ্ডুলিপি তুলে দিয়ে বলেছিলেন, এটি আপনারা মঞ্চে আনুন। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নাটক—আমরা খুব আগ্রহের সঙ্গে নাটকটা মঞ্চে এনেছি। নাটকটি যে মঞ্চে এত জনপ্রিয় হবে আমরা আগে কল্পনাও করতে পারিনি। সবচেয়ে বড় কথা, এটি একটি কাব্যনাট্য। কাব্যনাট্যও যে সাধারণ দর্শকের মনে এত সাড়া ফেলতে পারে, ভাবিনি।

তাঁর সঙ্গে আমার অনেক সুখস্মৃতিই আছে। তাঁর সঙ্গে যখনই মিশেছি নতুন কিছু একটা শিখেছি। এটা আমার জীবনের বড় একটা সঞ্চয়। দিন দশেক আগে সর্বশেষ তাঁর সঙ্গে দেখা। হাসপাতালে গিয়েছিলাম দেখা করতে। অনেক কথাই হয়েছে সেদিন। অনেক পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন। তার মধ্যে একটি পরিকল্পনা হলো, নতুন চারটি নাটক তিনি লিখছেন। তখন আমি বললাম, নিশ্চয়ই এখান থেকে আমিও একটা পাব? বললেন, “অবশ্যই। আপনি আমার প্রথম নাটক ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ করেছেন। এখান থেকেও একটা পাবেন। ” এ রকম অনেক পরিকল্পনার কথা বলেছেন। অসুস্থ অবস্থায় চার মাস ধরে হাসপাতালে বসেই তিনি শেক্সপিয়ারের ‘হ্যামলেট’ অনুবাদ করেছেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রযোজনায় মঞ্চস্থ হবে এটি। বই আকারেও এটি বের হবে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পর সৈয়দ শামসুল হক ছাড়া আর কেউ বাংলা সাহিত্যের এতগুলো শাখায় বিচরণ করেননি। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লিখেছেন তিনি—গল্প, উপন্যাস, কবিতা, নাটক। তাঁর নাটক নিয়েই বলি, আমাদের কাব্যনাটককে তিনি একটা শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছেন। লেখালেখির বাইরে তিনি আমাদের সাংস্কৃতিক আন্দোলনে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করেছেন। যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কেউ কথা বলত না, সে সময় তিনি ‘নূরলদীনের সারা জীবন’-এর মতো একটি কাব্যনাটক লিখেছেন। সব সময় বুকের ভেতর বাংলাদেশকে লালন করেছেন। তাঁর কবিতা ‘আমার পরিচয়’ যখন পড়ি তখন বাংলাদেশ এবং আমাদের ঐতিহ্য নিয়ে গর্ব অনুভব করি। তাঁর বিপুল রচনাসমগ্র পাঠ করেই   আমরা তাঁর প্রতি সত্যিকারের শ্রদ্ধা জানাতে পারি।


মন্তব্য