kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আড্ডায় আয়নাবাজি

কাল মুক্তি পাবে অমিতাভ রেজা চৌধুরীর প্রথম চলচ্চিত্র ‘আয়নাবাজি’। রঙের মেলার সঙ্গে আড্ডায় বসেছিল আয়নাবাজি টিম—পরিচালক অমিতাভ রেজা, অভিনয়শিল্পী চঞ্চল চৌধুরী, মাসুমা রহমান নাবিলা, বৃন্দাবন দাশ ও চিত্রনাট্যকার অনম বিশ্বাস। তাঁরা বলেছেন এই ছবির নেপথ্যের কথা, বর্তমান প্রেক্ষাপট ও প্রত্যাশার কথা। সঙ্গে ছিলেন পার্থ সরকার

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আড্ডায় আয়নাবাজি

ছবির গল্প কী নিয়ে?

অমিতাভ রেজা : একজন অভিনেতার গল্প। অভিনয়কে ভালোবেসে একজন অভিনেতা কত দূর পর্যন্ত যেতে পারেন সেটা নিয়েই গল্প।

অনেক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল আপনি ছবি বানাবেন। এত দেরি হলো কেন?

অমিতাভ : মানসিকভাবে তৈরি থাকলেও পারিপার্শ্বিক কারণে পারিনি। সিনেমা বানাতে গেলে একজন শক্ত প্রযোজক লাগে, পরিচালনা পর্ষদ লাগে, ভালো ডিস্ট্রিবিউশন লাগে। সেগুলো তৈরি করতেই এত সময় নিয়েছি। ঠিকঠাক প্রযোজক পাচ্ছিলাম না। যাঁর সঙ্গে প্রথম ছবিটা আমার মতো করে তৈরি করতে পারব। সেই সুযোগটা এই প্রযোজকরা করে দিয়েছেন। ‘ঢাকা মেট্রো’, ‘মিতা এখন ঢাকায়’—এ রকম কয়েকটা গল্প নিয়ে ছবি বানানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু হচ্ছিল না।

‘আয়নাবাজি’র গল্পটা নিয়েই কেন কাজ করা?

অমিতাভ : গল্পটা পড়ে মনে হয়েছে এটা আমার প্রথম ছবি হতে পারে। একটা সহজ গল্প বলতে চেয়েছিলাম। যার মাধ্যমে অধিকাংশ দর্শকের সঙ্গে কানেক্ট করতে পারব। সেই জায়গা থেকে ‘আয়নাবাজি’ পারফেক্ট। ‘ঢাকা মেট্রো’ সব দর্শক ডিকোড করতে পারত না। তাই ‘আয়নাবাজি’।

চঞ্চল, এটা তো আপনার পাঁচ নম্বর চলচ্চিত্র। কেমন হয়েছে কাজ?

চঞ্চল চৌধুরী : কাজ করে অনেক আনন্দ পেয়েছি। তিনটা মাস বাইরের কোনো কাজ পারতপক্ষে করিনি। ওজন কমিয়েছি। ওয়ার্কশপ করেছি। একটানা ডাবিং করেছি। চরিত্র বা চরিত্রগুলোতে ঢুকতে অনেক কষ্ট করেছি। সব মিলিয়ে কেমন হয়েছে জানি না। চার-ছক্কা হোক বা না হোক, এ যাত্রায় ক্রিজে টিকে যাব বলে বিশ্বাস।

অমিতাভ রেজার কাছে প্রশ্ন, চঞ্চল চৌধুরীই কেন?

অমিতাভ : এই চরিত্র করার মতো আশপাশে আর কাউকে পাইনি। চঞ্চলও কিন্তু স্ক্রিন টেস্ট দিয়ে সিলেক্ট হয়েছেন।

নাবিলা : আমাদের সবাইকেই স্ক্রিন টেস্ট দিতে হয়েছে।

নাবিলা, আপনি তো উপস্থাপনায় একটা জায়গা করে নিয়েছেন। অভিনয় করবেন না বলেও বিভিন্ন সাক্ষাত্কারে বলেছিলেন।  

নাবিলা : কারণ, অভিনয় আমি পারি না। কঠিন লাগে। তবে অমিতাভ রেজার কাছে এলে নাকি পাথরও ভালো শট দেয়। তাই ভাবলাম চেষ্টা করে দেখি। তা ছাড়া ছবিতে আমার চরিত্রটি অনেকটা বাস্তবের আমার মতোই। তাই সমস্যা কম হয়েছে।

‘মনপুরা’ আর ‘আয়নাবাজি’র চঞ্চলের মধ্যে কেমন পার্থক্য?

চঞ্চল : গল্প থেকে শুরু করে চরিত্র সব কিছুই আলাদা। মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ বললেও কম বলা হয়। আয়নাবাজিতে আমি আয়না। পুরো গল্পটা আয়নার চারপাশের মানুষ, শহর, প্রতিবিম্ব ঘিরে। এক জীবনে এ রকম চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ খুব বেশি আসে না। সুযোগটা কাজে লাগানোর জন্য আমি আমার সবটুকু শ্রম ও মেধা দিয়ে চেষ্টা করেছি।

আয়না চরিত্রটি সৃষ্টি হলো কিভাবে?

অনম বিশ্বাস : গাউসুল আলম শাওন ভাই একদিন এক লাইনের একটা ব্রিফ দিলেন পত্রিকায় আসা একটা সত্য ঘটনা অবলম্বনে। মূল গল্পটা এতটাই সিনেম্যাটিক যে আমাদের কাছে মনে হলো এখান থেকে সিনেমা করলে ভালো হবে। গল্পটা নিয়ে আমি আর শাওন ভাই নিয়মিত বসতে শুরু করলাম। আড্ডাবাজির মধ্যেই আয়নাবাজির জন্ম। পরে গল্পটা নিয়ে অমিতাভের সঙ্গে বসি। ব্যস...।

অমিতাভ : গল্পটা বছরখানেক পড়ে ছিল। পরে সিদ্ধান্ত নিলাম এ গল্পটাই সিনেমা করব। তারপর আমার মতো করে রিরাইট করা শুরু করলাম। অনমের লেখা অনেক ভালো দৃশ্য আমরা শুট করতে পারিনি। তার একটা কারণ সিনেমার দৈর্ঘ্য। আরেকটা কারণ, আমাদের দেশের সাধারণ দর্শক। বিদেশি ছবি দেখে পরিণত হওয়া দর্শক খুবই কম।

তাহলে এটাকে সাধারণের ছবি বলতে পারি?

অমিতাভ : অবশ্যই। চেষ্টা করেছি গণমানুষের উপযোগী করে বানাতে, পাশাপাশি আমাদের কাজের ছোঁয়াটাও রেখেছি। বোদ্ধাদের তাই একটু বিরক্ত লাগতে পারে, তবে অবোদ্ধাদের ভালো লাগবে।

নাবিলা, আপনার চরিত্র নিয়ে কিছু বলেন।

নাবিলা : এ সময়ের খুবই সাধারণ এক মেয়ে হৃদি, স্বাধীনচেতা ও সৃজনশীল। আয়নার জীবনে প্রেম হয়ে আসে হৃদি। চরিত্রটাকে বলতে পারেন ঝড়ের কেন্দ্রবিন্দুর মতো। চারপাশের সব চরিত্র অস্থির, শুধু হৃদি একপশলা প্রশান্তির সুবাতাস।

অমিতাভ : চঞ্চল পেশাদার অভিনেতা। শুরুতেই আয়নার চরিত্রটা ধরে ফেলেছেন। অভিনেতা না হওয়ায় নাবিলা সেটা করতে পারেনি সত্য, তবে শুটিং যত এগিয়েছে নাবিলা তত বেশি হৃদি হয়ে উঠেছে।  

পার্থ বড়ুয়া কেন সাংবাদিক চরিত্রে?

অমিতাভ : পর্দায় ছবিটা দেখলেই বুঝতে পারবেন। ওই বয়সী একজন সাংবাদিক, মনে চাপা কষ্ট—চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণে পার্থদাকে দিয়ে অভিনয় বের করে নেওয়া খুব সহজ ছিল। শুধু পার্থ বড়ুয়া নয়, বাকিদের ক্ষেত্রেও একই ফর্মুলা অনুসরণ করেছি। লুত্ফর রহমান জর্জ ভাইয়ের যেমন গোপন একটা অতীত আছে, যেটা উনি সবাইকে বলতে চান না। হাসিখুশি কিন্তু যেকোনো কিছু ঘটিয়ে ফেলতে পারেন। সিনেমার চরিত্রটাও একই রকম।

আর বৃন্দাবন দাশ?

অমিতাভ : দাদার সবচেয়ে বড় যোগ্যতা উনি বাস্তবেও চঞ্চলের বন্ধু। দুুজনের কেমিস্ট্রিটা আমি ধরতে চেয়েছি। সেটা বেশ ভালোভাবেই পেরেছি বলে আমার বিশ্বাস।

বৃন্দাবন দাশ : আমি তো আর অভিনেতা নই। তার ওপর একজনকে বাদ দিয়ে তার জায়গায় আমাকে নেওয়া হচ্ছে শুনে নার্ভাস হয়ে গিয়েছিলাম। চঞ্চল, আমার স্ত্রী শাহনেওয়াজ খুশী দুজনই তখন দেশের বাইরে। একটু পরামর্শ করার অবস্থাও নেই। কী আর করা, অমিতাভের কথা শুনে চোখ বন্ধ করে রাজি হয়ে গেলাম। কাজ করতে গিয়ে আমি অবাক। এই লেভেলের প্রফেশনালিজম বাংলাদেশের আর কোনো শুটিং ইউনিটে আছে, এটা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। এখানে কাজ করার পর মনে হচ্ছে নাটকে আমাদের ইউনিটগুলো কী পরিমাণ দায়সারাভাবে কাজ করে। অমিতাভের মতো গুণী পরিচালক এবং আমার একই সঙ্গে চলচ্চিত্রে অভিষেক হচ্ছে, আমি এতেই খুশি। হা হা হা...। সঙ্গে চঞ্চল থাকায় আনন্দ বহুগুণ বেড়ে গেছে।

অমিতাভ রেজা : ভাবছি, আমাদের এক্সপেকটেশন কি বেশি হয়ে যাচ্ছে কি না এই সিনেমা ঘিরে। ঢাকার অনেকে আমার বা আমাদের সিনেমা বলে দেখতে যাবে হয়তো। কিন্তু সিনেমার টাকা আসার মূল জায়গা ঢাকার বাইরের পুরো দেশ—সেখানে কেউ আমাকে চেনে না। চঞ্চল ছাড়া অন্য কারো নামে তাদেরকে হলে টানতে পারব কি না জানি না। তবে ছবি ভালো হয়েছে বলে আমার বিশ্বাস।


মন্তব্য