kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রতিশোধ নেব বলেই

৭৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে গোল্ডেন লায়ন [সেরা ছবি] জিতেছে ‘দ্য ওম্যান হু লেফট’। ফিলিপাইনের এই ছবি নিয়ে লিখেছেন নাসরিন হক

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



প্রতিশোধ নেব বলেই

পরিচালক লাভ দিয়াজ ধীরগতির ছবি নির্মাণ আন্দোলনের অন্যতম। সেই নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকেই তিনি ‘ধীর’ ছবি বানিয়ে আসছেন।

এই ‘দ্য ওম্যান হু লেফট’ও পাক্কা চার ঘণ্টার! সাদাকালো এই ছবির চিত্রনাট্য, সহপ্রযোজনা, সিনেমাটোগ্রাফি, সম্পাদনা, পরিচালনা—সবই এক হাতে সামলেছেন দিয়া। কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে ধারাবাহিকভাবে ভালো করছিলেন তিনি। ২০১৩ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবের অফিশিয়াল সিলেকশনে জায়গা পান, গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারের মনোনয়ন পান লোকার্নো আর বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে। সেই হিসাবে ভেনিসে সেরা হওয়াটা তাঁর ধাপে ধাপে উঠে আসার মতোই।

‘দ্য ওম্যান হু লেফট’ দিয়ে ১৭ বছর পর বড় পর্দায় ফিরেছেন ফিলিপাইনের জন্যপ্রিয় অভিনেত্রী চারো সান্তোজ কনসিও। ছবি তৈরি হয়েছে তাঁকে ঘিরেই। খুনের মিথ্যা অভিযোগে এক স্কুল শিক্ষকের ৩০ বছরের জেল হয়। তারই সাবেক প্রেমিক তাকে ফাসিয়ে দেয়। সাজা শেষে সে ফিরে আসে প্রতিশোধ নিতে। এ নিয়ে গল্প। অনেকের মতে, ছবিটি ফিলিপাইনের ঔপনিবেশিক আমলের সাক্ষ্য বহন করে। সেরা ছবির পুরস্কার পেয়ে পরিচালক দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন, ‘আমার দেশের, ফিলিপাইনের মানুষের জন্য এটি। আমাদের সংগ্রাম ও মানবতার সংগ্রামের পুরস্কার এটা। ’

‘দ্য ওম্যান হু লেফট’-এর বেশির ভাগটাই পরিচালক তুলেছেন ক্যানন ডিএসএলআর ক্যামেরায়, বাকিটা প্যানাসনিক এইচডিতে। পরিচালকের মতে, স্বল্প খরচে তৈরি এই ছবির পুরস্কার জেতা স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা, বিশেষত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিচালকদের জন্য একটি বার্তা। উৎসবে ছবিটিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়েছে বিভিন্ন দেশের ২০টি ছবির সঙ্গে। তবে এগুলোর মধ্য থেকে গোল্ডেন লায়নের জন্য যে তাঁরা ঠিক ছবিটিকেই বেছে নিয়েছেন, তা নিয়ে নিঃসন্দেহ উৎসবের প্রধান জুরি ‘স্কাইফল’, ‘স্পেকটর’ খ্যাত ব্রিটিশ পরিচালক স্যাম মেন্ডেস। তিনি বলেন, ‘বৈচিত্র্যের দিক থেকে এবারের ছবিগুলো ছিল অসাধারণ। ’

উৎসবে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার ‘গ্র্যান্ড জুরি’ পেয়েছে টম ফোর্ডের থ্রিলার ‘নকচারনাল এনিম্যালস’। এ ছাড়া যৌথভাবে ‘সিলভার লায়ন’ [সেরা পরিচালক] জিতেছেন আন্দ্রেই কনচালোভস্কি [প্যারাডাইজ ও অ্যামাট এসক্যালান্তে [দ্য আনটেমড]। সেরা অভিনেতা ও অভিনেত্রী হয়েছেন অস্কার মার্টিনেজ [দ্য ডিস্টিংগুইশড সিটিজেন] ও এমা স্টোন [লা লা ল্যান্ড]। উৎসব শুরুর আগে ‘লা লা ল্যান্ড’ নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও একটি পুরস্কার নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় ছবিটিকে।


মন্তব্য