kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


তাঁরা কিন্তু ভেগান

ভেজিটারিয়ান নন, তাঁরা ভেগান। দুনিয়াজুড়েই সেলিব্রিটিদের মধ্যে ভেগান হওয়ার চল বাড়ছে। তৈরি হয়েছে ভেগান মতাদর্শ, যা ছড়িয়ে দিতে অনেক তারকাই জড়িত ভেগান আন্দোলনের সঙ্গে। ভেগান তারকাদের কথা জানাচ্ছেন লতিফুল হক

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



তাঁরা কিন্তু ভেগান

ভেগান মতাদর্শে বিশ্বাসীরা সব ধরনের প্রাণিজাত খাবারের বিপক্ষে। ভেজিটারিয়ানদের সঙ্গে এঁদের পার্থক্য হলো, ভেগানরা মাছ-মাংস বর্জনের সঙ্গে ডিম, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারও বর্জন করেন; এমনকি মধুও বাদ।

ভেগানদের খাদ্যতালিকায় শুধু ফল, শাকসবজিই থাকে। কঠোর ভেগান মতাদর্শের ব্যক্তিরা চামড়ার ব্যাগ, পশুলোম থেকে তৈরি পোশাক, সিল্ক—সবই বর্জন করেন। পুষ্টিবিদদের একাংশ মনে করে, মাছ বা মাংসের সঙ্গে যে পরিমাণ বিষাক্ত জীবাণু শরীরে ঢোকে, ভেগানরা তা থেকে রক্ষা পান। অনেকে আবার এই ডায়েটে বিশ্বাস করেন না। তাঁদের ধারণা, এতে শরীরে প্রোটিনের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ে।

আমির খান

গত বছর নিজের ৫০তম জন্মদিনের পর থেকেই ভেগান হয়ে যান আমির খান। এর পেছনে অবশ্য তাঁর স্ত্রী কিরণ খান। মাছ-মাংস খুবই পছন্দ করতেন আমির। কিন্তু এসব খাওয়ার অপকারিতা নিয়ে এক ঘণ্টার একটি ভিডিও তথ্যচিত্র স্বামীকে দেখান কিরণ। এর পর থেকেই বদলে যান আমির, ‘মাছ-মাংস না খেয়ে অন্তত ১৫টি সাধারণ অসুখ থেকে দূরে থাকা যায়—ভিডিওর এই বার্তায় আমি অনুপ্রাণিত। একটা সময় মাছ-মাংস খুব ভালোবাসতাম। এগুলো ছেড়ে দেওয়ায় এখন কোনো অসুবিধাই হচ্ছে না। ’ আমিরের স্ত্রী কিরণও যে একই ডায়েট অনুসরণ করেন, সেটা বলাই বাহুল্য।

সোনম কাপুর

নিরামিষভোজী ছিলেন আগে থেকেই। মাস দুয়েক আগে নিজের ৩১তম জন্মদিন থেকে ভেগান হওয়ার ঘোষণা দেন। প্রাণিপ্রেম তো আছেই, সঙ্গে নিজের ফিটনেস নিয়ে আপসহীন মনোভাবই তাঁকে ভেগান করেছে, জানান সোনম। তবে এ সবই সম্ভব হয়েছে তাঁর মায়ের কারণে, ‘মা অনেক আগে থেকেই নিরামিষভোজী। এটা তিনি কঠোরভাবে মেনে চলেন। ছোটবেলা থেকেই এতে অভ্যস্ত আমরা। ’ ভেগান হওয়ার পর অভিনেত্রীর খাবারের তালিকায় থাকে ফল, ওটমিল, সবজি ও নানা রকমের সালাদ। তবে ভারতে ভেগান হওয়ার যে একটা বিপদ আছে, সেটা ভালোই বুঝতে পারছেন সোনম, ‘এখানে খুব কম মানুষই এসব খাবারে অভ্যস্ত। তাই খাবার জোগাড় করা খুব অসুবিধার। কিন্তু লন্ডনের কোনো সুপারমার্কেটে যান, ভেগানদের জন্য আলাদা সেকশনই আছে। ’

কঙ্গনা রানাওয়াত

হিমাচল প্রদেশে বড় হওয়া এই অভিনেত্রী আগে সবজি খুব বেশি খেতেন না। কিন্তু অভিনয়ে আসার পর থেকেই বদলে ফেলেন নিজের খাদ্যাভ্যাস। কয়েক বছর ধরে তিনি ভেগান ডায়েট অনুসরণ করছেন। আর এতে তিনি ভালোই আছেন, সেটাও বলেছেন অকপটে, ‘দুধজাতীয় খাবার আগে থেকেই সহ্য করতে পারতাম না। মাংস অবশ্য ভালো লাগত। কিন্তু সব ছেড়ে দিয়ে ভালো আছি। ভালো লাগা, মন্দ লাগার চেয়েও সুস্থ থাকাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ’

জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ

তিনি অভিনেত্রীদের মধ্যে প্রাণী অধিকার নিয়ে সবচেয়ে বেশি সরব। তাই তিনি যে ভেগান হবেন, তা তো বলাই বাহুল্য। কয়েক বছর ধরেই এ ডায়েট অনুসরণ করছেন। ২০১৪ সালে প্রাণী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন পেটার ‘ওম্যান অব দ্য ইয়ার’ও হয়েছেন। ভেগান হওয়ার উপকারিতাও পেয়েছেন জ্যাকলিন, ‘নিজেকে এখন অনেক বেশি সুস্থ আর সতেজ মনে হয়। সব ধরনের প্রাণী হত্যার বিপক্ষে আমি। এগুলো ছাড়াও খাওয়ার অনেক কিছু আছে। ’

নাটালি পোর্টম্যান

এই হলিউড অভিনেত্রী শুধু ভেগানই নন, এই মতাদর্শের একজন প্রচারকও বটে। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ভেগান ডায়েট করে আসছেন। তাঁর নিজের বিয়ের অনুষ্ঠানেও খাবারের তালিকায় মাছ-মাংস ছিল না। খাওয়ার জন্য প্রাণী হত্যা করা নাটালি পোর্টম্যানের কাছে বোকামি ছাড়া কিছুই না, ‘নিরামিষে তো সমস্যা কিছু নেই, তবে খামাখা প্রাণীদের মারব কেন? এত দিন ধরে মানুষকে শুধু এটাই বোঝাতে চাইছি। ’

ব্র্যাড পিট

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ও ছেলেমেয়েরা মাছ বা মাংস খেলেও কঠোরভাবে ভেগান ব্র্যাড পিট। এই একটা কারণে প্রায়ই জোলি ও ছেলেমেয়েদের সঙ্গে তাঁর ঝগড়া বাধে। তাঁকে এই আন্দোলনের একজন পথিকৃৎ মনে করা হয়। শুধু বাড়িতে নয়, শুটিং চলার সময়, বিদেশে ভ্রমণের সময়ও কঠোরভাবে ভেগান ডায়েট মেনে চলেন এই অভিনেতা।


মন্তব্য