kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নতুন করে সাত যোদ্ধা

আগামীকাল মুক্তি পাচ্ছে নতুন ‘দ্য ম্যাগনিফিশেন্ট সেভেন’। নতুনটির সঙ্গে পুরনোগুলোর কথাও জানাচ্ছেন নাবীল অনুসূর্য

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



নতুন করে সাত যোদ্ধা

অ্যান্তন ফুকুয়ার সিনেমা ‘দ্য ম্যাগনিফিশেন্ট সেভেন’, যা ১৯৬০ সালে মুক্তি পাওয়া একই নামের ওয়েস্টার্ন মুভির রিমেক, যেটা নিজেই ছিল ক্লাসিক জাপানি ছবি ‘সেভেন সামুরাই’-এর রিমেক। আর এই রিমেকের রিমেক নিয়ে ফুকুয়া বেশ খানিকটা উত্তেজিতও বটে।

এটাই আবার তাঁর পরিচালিত প্রথম ওয়েস্টার্ন মুভি কিনা!

২৬ এপ্রিল ১৯৫৪। মুক্তি পেয়েছিল আকিরা কুরোসাওয়ার মাস্টারপিস ‘সেভেন সামুরাই’। সিনেমাটি আমেরিকায় মুক্তি পায় বছর দুয়েক পরে। অনেকের মতেই সিনেমাটি কিংবদন্তি এই পরিচালকের অন্যতম সেরা কাজ। আর এই এক সিনেমার প্রভাবে এই ঘরানার সিনেমাগুলোতে নায়কের ধারণাই পাল্টে গেল। একক নায়কের পরিবর্তে এলো নায়কদের দলবল পাকিয়ে অভিযানের চল। ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভালের সিলভার লায়ন ঝুলিতে পুরেছিল সিনেমাটি। অস্কারে মনোনয়ন পেয়েছিল দুটি ক্যাটাগরিতে।

মার্কিন মুলুকে মুক্তির চার বছরের মাথায় সিনেমাটি রিমেক করা হলো খোদ হলিউডেই। জাপানি সামুরাই মুভি আমেরিকায় এসে হয়ে গেল ওয়েস্টার্ন মুভি। নায়ক সাত সামুরাই, মানে জাপানি তলোয়ারবাজ বদলে হয়ে গেল সাত বন্দুকবাজ কাউবয়। তবে তাদের দল পাকানোর উদ্দেশ্য একটাই—ডাকাতদের হাত থেকে এক গ্রামের সাধারণ মানুষদের রক্ষা করা। রিমেক পরিচালনা করেছিলেন জন স্টার্জেস, যিনি বছর তিনেক পরই বানান ‘দ্য গ্রেট এস্কেপ’। সিনেমাটি অবশ্য খুব একটা ব্যবসা করতে পারেনি। তবে ক্লাসিক ওয়েস্টার্ন সিনেমার তালিকায় ঠিকই জায়গা করে নেয়। এই ওয়েস্টার্ন সিনেমারই রিমেক অ্যান্তন ফুকুয়ার একই নামের সিনেমাটি। ফুকুয়ার আগের উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘কিং আর্থার’, ‘দ্য ইকুয়ালাইজার’, ‘সাউথপো’র মতো সিনেমা। কিন্তু ওয়েস্টার্ন এটাই প্রথম। হঠাৎ ওয়েস্টার্ন কেন? ফুকুয়া অবশ্য জানিয়েছেন আগ্রহটা হঠাৎ করেই হয়নি, ‘ছোটবেলায় আমি আর দাদিমা প্রচুর ওয়েস্টার্ন সিনেমা দেখতাম। স্টিভ ম্যাককুইন, ইয়ুল ব্রাইনার ছিল দাদির সবচেয়ে প্রিয়। আমার ওয়েস্টার্ন সিনেমার অনুপ্রেরণা বলতে পারেন তিনিই। শুটিংয়ের সময়ও আমার মাথায় কাজ করেছে, শটটা কি এ রকম হলে দাদির পছন্দ হতো?’

সিনেমাটির পরিকল্পনা যখন শুরু হয়, তখন ফুকুয়া তার অংশ ছিলেন না। ২০১২ সালের সেই পরিকল্পনায় মূল চরিত্রটির জন্য ঠিক করা হয়েছিল টম ক্রুজকে। প্রাথমিক কথা হয়েছিল কেভিন কস্টনার, মর্গান ফ্রিম্যান ও ম্যাট ডেমনের সঙ্গেও। ২০১৪ সালে সিনেমাটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এমজিএমের চেয়ারম্যান গ্যারি বারবার অন্য একটি সিনেমার চিত্রনাট্য নিয়ে আলাপ করতে বসেন ফুকুয়ার সঙ্গে। তখনই ‘দ্য ম্যাগনিফিশেন্ট সেভেন’ রিমেক করার আগ্রহের কথা জানান ফুকুয়া। অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনেন। তিনি অবশ্য সিনেমাটিকে আগের সিনেমাটির ‘রিমেক’ বলছেন না। বলছেন ‘রি-ইমাজিনেশন’। পুরনো সিনেমার গল্পের মূল কাঠামো আর চরিত্র ঠিক রেখে কাহিনী নতুন করে কল্পনা করা হয়েছে। চরিত্রগুলোর পরিচয়েও নতুনত্ব আনা হয়েছে। আগেরটিতে সব কাউবয়ই ছিল সাদা চামড়ার। এবার সাদা চামড়ার কাউবয় থাকছে চারজন—ইথেন হক, ক্রিস প্র্যাট, মার্টিন সেন্সমায়ার ও ভিনসেন্ট ডি’ওনোফ্রিও। অন্য তিনজনের একজন আফ্রিকান-আমেরিকান (ডেনজেল ওয়াশিংটন), একজন কোরিয়ান (বিউং-হুন লি) আর একজন মেক্সিকান (ম্যানুয়েল গার্সিয়া-রুলফো)। কারণটাও বলেছেন তিনি, ‘সে সময় কাউবয়দের মধ্যে অনেক কালো চামড়ার মানুষ ছিল। আমেরিকার আদিবাসীদের অনেকেও ছিল। রেললাইনের কাজ করতে তখন অনেক এশিয়ানও আসত। আমরা সিনেমায় যেমনটা দেখাই, তখনকার পশ্চিমের বাস্তবতা তার চেয়েও অনেক আধুনিক ছিল। ’

সিনেমাটির সংগীত পরিচালনার দায়িত্ব বর্তেছিল ‘টাইটানিক’ খ্যাত জেমস হর্নারের কাঁধে। ২০১৫ সালের ২২ জুন যখন তিনি মারা যান, তখনো সিনেমাটির শুটিং চলছে। তবে পরে জানা যায়, তিনি ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছিলেন। তখন হর্নারের বন্ধু সাইমন ফ্র্যাংলেন তাঁর এই অসমাপ্ত কাজ শেষ করেন। আর এই রিমেকের রিমেক সিনেমাটাই হর্নারের মিউজিকে শেষ সিনেমা হিসেবে মুক্তি পেতে যাচ্ছে।


মন্তব্য