kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

গুরু-শিষ্য

আদনান আল-রাজীবের হাত ধরেই অভিনয়ে এলেন তৌসিফ মাহবুব। এই গুরু-শিষ্যের গল্প শোনাচ্ছেন ইসমাত মুমু

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



গুরু-শিষ্য

‘তিনি আমার গুরু, মেন্টর, বড় ভাই, বন্ধু এবং মিডিয়ার বাপ-মা। পরিবারের বাইরে তিনিই আমার সবচেয়ে বড় শুভাকাঙ্ক্ষী’—আদনান সম্পর্কে বললেন তৌসিফ।

“ওকে প্রথম দেখি ২০১০ সালের দিকে, আমার এক বিজ্ঞাপনের অডিশনে। তখন ইয়াং ট্যালেন্ট খুব কম ছিল। আমরা এই জেনারেশনের একটা ছেলে চাচ্ছিলাম। ওর কথাবার্তা, চালচলনে সেটা পেয়েছি। ওকে নিয়ে টেলিফিল্ম ‘অ্যাট এইটিন—অলটাইম দৌড়ের ওপর’ বানাই, ভীষণ জনপ্রিয় হয়। টেলিফিল্মটির অডিশনে ওকে একটা দৃশ্যে অভিনয় করতে বলি। ও এত বেশি চরিত্রের ভেতর ঢুকে পড়ে যে চোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকে। মুগ্ধ হয়ে যাই। এক চান্সেই বলে দিলাম, হ্যাঁ ও করবে এই চরিত্রটা”—বললেন আদনান।

তৌসিফের প্রথম দিকের প্রায় সব নাটক-বিজ্ঞাপনই আদনানের। ভুলত্রুটির জন্য যেমন বকা খেয়েছেন, তেমনি ভালো কাজের প্রশংসাও পেয়েছেন। ‘বকা খেতে হয় এখনো। ভুলত্রুটি চোখে পড়লেই ফোন দিয়ে সমলোচনা করেন। অবশ্য তাতে আমার উপকারই হয়’—বললেন তৌসিফ।

একসঙ্গে আড্ডাবাজি, ঘোরাঘুরিও করেছেন প্রচুর। তবে এখন কম হয়। দুজনেরই ব্যস্ততা বেড়েছে। অবশ্য অনলাইনে নিয়মিতই যোগাযোগ হয়। আদনান বলেন, ‘শুধু যে কাজের জন্য যোগাযোগ, তা কিন্তু না। ব্যক্তিগত অনেক কথা শেয়ার করে ও। এমনকি প্রেমঘটিত সমস্যাও। কিছুদিন আগে ওর রিলেশনে অনেক বড় একটা সমস্যা হয়েছিল। তখন যতটা পেরেছি ওর পাশে থেকেছি। ’

মজার ব্যাপার হলো, আদনান, তৌসিফ ও তাঁদের আরো কিছু বন্ধু মিলে একটা ব্যান্ড গঠন করেছেন, নাম ‘পিসলা’। এখানে কোনো ভালো গান গাওয়া যাবে না। যে যার মতো করে সব খারাপ গান গাইবে। যখন সময়টা একঘেয়ে লাগে, তখন সদস্যরা একত্র হয়ে গানের আয়োজন করে থাকেন।

কিছুদিন আগে তাঁদের এক কমন বন্ধু ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে যাওয়ার পর জানানো হয়, লিভার ওয়াশ করাতে হবে। অন্য বন্ধুদের কেউই তাঁর পাশে থাকতে রাজি হলেন না। বন্ধুর মুখে পাইপ দিয়ে ওয়াশ করা হচ্ছে, সবাই ভয় পেয়ে গেলেন। পাশে ছিলেন আদনান-তৌসিফ। যন্ত্রণায় চিত্কার করছিলেন বন্ধুটি। দুই পাশ থেকে দুজন দুই হাত ধরে রেখেছেন। সারা রাত জেগে ছিলেন। যতক্ষণ পর্যন্ত না বন্ধুটি সুস্থ হয়েছেন, তাঁর পাশেই ছিলেন।

শিষ্য সম্পর্কে আদনানের মূল্যায়ন, ‘কঠোর পরিশ্রম করতে পারে ও। সহজে ধৈর্য হারায় না। সব সময় পজিটিভ চিন্তা করে, এটা ওর সবচেয়ে ভালো গুণ। ’

শিষ্যের জন্য কোনো পরামর্শ? ‘গুরু বা ভাই-বন্ধু হিসেবে একটা কথা ওকে বলতে চাই, মিডিয়ায় এরই মধ্যে সুনাম কুড়িয়েছ। তারকা তকমা গায়ে লেগেছে। স্টারের অনেক ভার, যা সবাই বইতে পারে না। সেটা বহন করে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে হবে। যারা নিজেকে টিকিয়ে রাখতে পারে, তাদেরই মানুষ মনে রাখে। আমার প্রত্যাশা, তুমি তেমনই হও। ’


মন্তব্য