kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সিয়ামের কাম ব্যাক

হঠাৎ করেই গত বছর আইন পড়তে চলে গেলেন যুক্তরাজ্যে। ফিরলেন ঈদের ঠিক আগে আগে। এসেই ব্যস্ত হয়ে পড়লেন ঈদের নাটকের শুটিংয়ে। সিয়াম আহমেদের কাম ব্যাকের গল্প বলছেন মীর রাকিব হাসান

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সিয়ামের কাম ব্যাক

পুরো এক বছরের বিরতি। অনেকেরই শঙ্কা ছিল, যুক্তরাজ্য থেকে ফিরে অভিনয়ে আবার কি নিয়মিত হতে পারবেন সিয়াম? কিন্তু না, আসার আগেই ইমরাউল রাফাতের ধারাবাহিক ‘তরুণ-তুর্কি’তে অভিনয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এসেই করলেন দুটি প্রশংসনীয় ঈদের নাটক—রুবাইয়াত মাহমুদের ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি’ এবং শিহাব শাহীনের ‘মন শুধু মন ছুঁয়েছে’। প্রথমটিতে সিয়ামের সহশিল্পী মুমতাহিনা টয়া আর দ্বিতীয়টিতে সাবিলা নূর। নাটক দুটির জন্য অনলাইনে প্রশংসা তো পাচ্ছেনই, সিনিয়র অভিনয়শিল্পীরাও ফোন করে প্রশংসা করছেন। ‘রীতিমতো ভয়েই ছিলাম। কাম ব্যাকটা সবাই কিভাবে গ্রহণ করবে, সেটাই ছিল চিন্তার কারণ। এ দুই পরিচালকের প্রতি কৃতজ্ঞ, কারণ তাঁরা আমার ওপর আস্থা রেখেছেন। নাটক দুটি প্রশংসিত হওয়ায় আরেকটা বিষয় প্রমাণিত, আমাদের মতো তরুণদের প্রধান চরিত্র করে গল্প সাজাতে পারলে লোকে দেখবে’—বললেন সিয়াম।

দেশে এসেই মজার কাণ্ড ঘটিয়েছেন। মা-বাবাকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য জানিয়েছিলেন ঈদের পরে আসবেন। তাঁদের মন খারাপ হলো ভীষণ, এবারও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে ঈদ করতে পারবেন না। কাছের কিছু বন্ধুকে জানিয়েছিলেন আসল ঘটনা। ঈদের আগেই দেশে আসবেন সিয়াম। মা-বাবাকে সারপ্রাইজ দিতে চাচ্ছেন। ৩১ আগস্ট দেশে ফিরলেন। মা-বাবা সত্যিই সারপ্রাইজড! রীতিমতো কান্নাকাটি। সেই মুহৃর্তটা ভিডিও করে ফেসবুকে শেয়ার করেছেন সিয়াম।

ঈদের আগে যতটুকু সময় পেয়েছেন, শুটিং নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। নাটক ছাড়াও একটি মোবাইল ফোন কম্পানির বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছেন। ঈদের পরদিন থেকে দম ফেলার একটু সুযোগ পেলেন। সময়টা কাটাচ্ছেন পরিবারের সঙ্গে, ঘুরে বেড়িয়ে।

ঈদের আমেজটা কাটলেই ল প্র্যাকটিস শুরু করবেন। অভিনয়টাও নিয়মিত করবেন। দুটি কি একসঙ্গে সম্ভব? ‘অভিনয়টা আমি করবই। পাশাপাশি পড়াশোনাটাও কাজে লাগাতে চাই। কারণ আইন আমার স্বপ্নের পেশা আর অভিনয়টা নেশা। একটা দিক দিয়ে ভালোই হয়েছে। যাচাই-বাছাই করে কাজ করতে পারব। অভিনয়টা মূল পেশা হলে হয়তো বেছে কাজ করতে পারতাম না’—বললেন সিয়াম।

প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা কেমন? ‘সত্যি বলতে কষ্টের। মা-বাবাকে ছেড়ে আগে কখনো কোথাও থাকিনি। পড়াশোনার চাপও ছিল। নিজে রান্না করে খেতে হতো। অনেক সময় রাঁধতে ইচ্ছা করত না। বিস্কুট খেয়ে রাতে ঘুমিয়ে থাকতাম। কিছু নেই, শুকনো নুডলস খেয়ে থেকেছি। সারা জীবন মা-বাবার আদরে বড় হয়েছি, এই এক বছরে বুঝেছি কষ্ট কী জিনিস! কোর্সটা শেষ করতে পেরেছি, এটাই বড় তৃপ্তি। বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতে পারিনি বলে অনেকে অভিমান করেছে। দেশে আসার পর তারাই  আমাকে কাছে টেনে নিয়েছে। ’


মন্তব্য