kalerkantho

মানবিক পলক

বলিউডের জনপ্রিয় গায়িকা পলক মুচ্ছাল। ঈদে বাংলাদেশ থেকে বেরিয়েছে তাঁর দ্বৈত অ্যালবাম ‘আমার ইচ্ছে কোথায়’। অ্যালবামের ‘সবাই চলে যাবে’ গানটির ভিডিও এখন বেশ আলোচিত। লিখেছেন নিভৃত রহমান

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



মানবিক পলক

‘সবাই চলে যাবে, একজনই পারবে না/একজন কেউ থাকুক যে তোমাকে ছাড়বে না’—এ গান দিয়েই বাংলাদেশি শ্রোতাদের মনে নাড়া দিয়েছেন পলক মুচ্ছাল। ভিডিওটি ফেসবুকে শেয়ার করে নিজেদের ভালোলাগার কথা জানিয়েছেন বিদ্যা সিনহা মিম, কণা, কোনাল, ফারহানা নিশো, কিশোর, পিয়া বিপাশা, জয় শাহিরয়ার প্রমুখ।

ঈদে সাউন্ডটেক থেকে প্রকাশিত পলক মুচ্ছাল ও ইমরানের দ্বৈত অ্যালবাম ‘আমার ইচ্ছে কোথায়’-এর গান এটি। গীতিকার জুলফিকার রাসেল, সুর ও সংগীতায়োজনে ইমরান।

পলক মুচ্ছাল বলিউডে পরিচিত নাম। ২০১২ সালে ‘এক থা টাইগার’ ছবির ‘ম্যায় লাপাতা’ গানটি দিয়ে অভিষেক। এরপর ‘আশিকি টু’তে গেয়েছেন ‘মেরি আশিকি’ ও ‘চাহু ম্যায় ইয়া না’। তারপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক দিয়ে যাচ্ছেন হিট সব গান। তাঁর সর্বশেষ সংযোজন ‘রুস্তম’ ছবির ‘দেখা হাজার দফা’। ১১ সপ্তাহ ধরে গানটি মির্চি টপ চার্টে, বর্তমান অবস্থান ৭-এ। গানটি পলক গেয়েছেন অরিজিৎ সিংয়ের সঙ্গে। ইউটিউবে এটি দেখা হয়েছে ৫৩ লাখেরও বেশিবার। মনোজ মুনতাসীরের কথায় এটির সংগীত পরিচালনায় জিৎ গাঙ্গুলী।

প্রথম চার বছরে বলিউডে এক শর বেশি গানে কণ্ঠ দেওয়া এই গায়িকার গল্পটা একটু ভিন্ন। শুরুটা আড়াই বছর বয়সে পারিবারিক অনুষ্ঠানে গাওয়ার মধ্য দিয়ে। সেদিন পলক গেয়েছিলেন সুচিত্রা সেন ও দেব আনন্দ অভিনীত ‘বুম্বাই কা বাবু’ ছবির ‘চাল রে সাজনী আব কা সোচে’ গানটি। শচীন দেব বর্মনের সুর করা, মুকেশের গাওয়া এ গান দিয়েই পরিবারের নজর কাড়েন পলক। যে পরিবারের কারোই সংগীতের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল না, সেই পরিবার নিমেষেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল, পলক গানই গাইবে। এরপর ভারতীয় ক্লাসিক্যাল শেখা শুরু। বোনের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তিন বছরের ছোট ভাই পলাশ মুচ্ছালও চলে এলেন গানের জগতে। গানের প্রতি দুজনের ঝোঁক দেখে ইন্দোরের মুচ্ছাল পরিবার সব ছেড়ে চলে আসে মুম্বাইয়ে।

পলকের গানের সংখ্যা আরো বেশি হতে পারত। তবে আপত্তিজনক কথার গান গাইতে সরাসরি ‘না’ তাঁর। কোনো গান গাওয়ার প্রস্তাব এলে সেটির কথা আগে পড়েন পলকের মা, তিনি অনুমতি দিলে তবেই পলক কণ্ঠ দেন। যেসব জায়গায় মাদক, এমনকি মাছ-মাংস খাওয়া হয়, সেখানে পলক গান করেন না। বলেন, ‘আমি নিজে এগুলো পছন্দ করি না। তাই এগুলোকে উৎসাহও দিই না। এর ফলে কোনো সংগীত পরিচালক মনে কষ্ট পেলেও কিছু করার নেই। ’ সাজিদ-ওয়াজিদ, প্রীতম, হিমেশসহ হালের সব হিট সংগীত পরিচালকের সঙ্গেই কাজ করেছেন। স্বীকৃতিও পেয়েছেন অনেক। তাঁর মতে, মূল্যবান স্বীকৃতি সেইগুলো, যেগুলো আসে মানবিক কারণে। পলক ও পলাশ হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের অপারেশনের জন্য অর্থ সাহায্য দিয়ে থাকেন। তাঁদের খরচে এখন পর্যন্ত ৮২৩টি শিশুর অপারেশন হয়েছে।

পলকের মানবিক দিকটি প্রকাশ পায় ছোটবেলায়ই। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে কারগিল যুদ্ধ শুরু হলে অসুস্থ সেনাদের চিকিৎসার জন্য পলক দোকানে দোকানে ঘুরে গান গেয়ে টাকা জোগাড় করেন। ওই সময়ে এভাবেই পলক ২৫ হাজার রুপি জোগাড় করতে সক্ষম হন। এরপর উড়িষ্যার ঘূর্ণিঝড়ের সময়ও একই কাজ করেন। নিজ শহর ইন্দোরে লোকেশ নামের এক ছেলের খোঁজ পান পলক, যার হৃপিণ্ডে একটি ছিদ্র ধরা পড়ে। চিকিৎসার টাকা ছিল না লোকেশের পরিবারের। পলক ও পলাশ মিলে রাস্তায় একটি অস্থায়ী স্টেজ তৈরি করে গান গেয়ে লোকেশের চিকিৎসার জন্য ৫৫ হাজার রুপি সংগ্রহ করেন। খবরটি মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে এক ডাক্তার বিনা মূল্যে লোকেশের অপারেশন করে দেন।

পরে ওই অর্থকে প্রথম তহবিল করে পলক ও পলাশ অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসার কাজ শুরু করেন। এখনো পলকের কনসার্টের সব টাকাই চলে যায় গরিব রোগীদের অপারেশনের খরচ বাবদ। পলক বলেন, ‘শুরুতে কনসার্ট করে ওদের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করা কষ্টসাধ্য ছিল। বলিউডে গাওয়ার পর এখন এক কনসার্টের আয় দিয়েই ৮-১০টি শিশুর অপারেশন করানো যায়। ’

 


মন্তব্য