kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চারদিকে ন্যান্সি

ঈদে এসেছে ন্যান্সির দ্বৈত মিক্সড অ্যালবাম ‘ন্যান্সি উইথ স্টারস’। কয়েকটি মিক্সড অ্যালবামে শোনা গেছে তাঁর কণ্ঠ। এসেছে নতুন মিউজিক ভিডিও। গেয়েছেন ‘বসগিরি’ ছবিতেও। লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন। ছবি তুলেছেন শামসুল হক রিপন

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



চারদিকে ন্যান্সি

ময়মনসিংহে ন্যান্সি যে বাড়িটি করেছেন, তার নাম দিয়েছেন ‘দরবারি’। নামটি নিয়ে এক ধরনের কৌতূহল তৈরি হয়েছে আশপাশের মানুষের মধ্যে।

তাহলে কি ন্যান্সির বাড়িতে এখন থেকে নিয়মিত দরবার বসবে? ব্যাপারটা আসলে সে রকম নয়। শোনা যাক ন্যান্সির মুখেই, “ছোটবেলা থেকে ক্লাসিক্যালের ওপর তালিম নিয়েছি। সংগীতের এই ধারাটি আমার খুব পছন্দ। ক্লাসিক্যাল মিউজিকে একটা রাগ আছে ‘দরবারি’ নামে। একজন শিল্পী হিসেবে এই নামটিই বেছে নিয়েছি নিজের বাড়ির নাম হিসেবে। এটা আমার জন্য অনেক ভালোলাগার একটা ব্যাপার। ” ঢাকায় কাজ না থাকলে ‘দরবারি’তে ছুটে যান এই গায়িকা। সেখানে বসেই পরিকল্পনা সাজান আগামী দিনের। এবার ঈদে বেশ কিছু কাজ এসেছে। ‘দরবারি’তে বসেই সেই কাজগুলো নিয়ে কথা বললেন মুঠোফোনে।

সিডি চয়েসের ব্যানারে এসেছে দ্বৈত মিক্সড অ্যালবাম ‘ন্যান্সি উইথ স্টারস’, যাতে গান রয়েছে চারটি। ইমরানের সুর ও সংগীতে সব গানের কথা লিখেছেন স্নেহাশীষ ঘোষ। এতে ন্যান্সির সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন কুমার বিশ্বজিৎ [স্বপ্নগুলো সেদিন], বাপ্পা মজুমদার [মনটা আমার বাঁচে না], ইমরান [ভালো আছি ভালোবেসে] ও মিনার [অকারণে ভালোবাসি]। এই অ্যালবামে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন? ন্যান্সি বলেন, ‘নরমালি কোথাও গাইতে গেলে সবাই আমার কথা মাথায় রেখে গান বানায়। এই অ্যালবামে উল্টোটি ঘটেছে। এখানে আমি যাঁদের সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছি, তাঁদের কথা মাথায় রেখে গানগুলো করা হয়েছে। নিজস্ব ঢং থেকে বেরিয়ে তাঁদের মতো করে গাওয়ার চেষ্টা করেছি। এতে নতুন একটা ফরম্যাট দাঁড়িয়েছে। এভাবে নিজের বাইরে গিয়ে গান করা যেকোনো শিল্পীর জন্যই প্লাস পয়েন্ট। কাজটি খুব এনজয় করেছি। ’ কেমন রেসপন্স পাচ্ছেন? ‘শুধু জিপি মিউজিকে প্রকাশ পেয়েছে গানগুলো। মাত্র তো কয়েক দিন হলো। তার পরও যাঁরা শুনছেন, ভালোলাগার কথা জানাচ্ছেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রেসপন্সও বাড়বে আশা করি। ’ সিডি চয়েসের প্রযোজনায় রবি ইয়ন্ডার থেকে এসেছে ন্যান্সি ও ইমরানের সিঙ্গল ‘তোমাকেই ভালোবাসি’। একই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত শাফায়েতের ‘ভালো থাকার উপায়’ গানটির টাইটেল গানেও রয়েছে ন্যান্সির কণ্ঠ। সাউন্ডটেক থেকে এসেছে ন্যান্সি ও এফ এ সুমনের সিঙ্গল ‘অনুভব’। এই প্রতিষ্ঠান ভিডিওতে প্রকাশ করেছে ন্যান্সির ‘ভালোবাসো বলেই’ গানটি। আহমেদ রিজভীর কথায় এটির সুর করেছেন নাজির মাহমুদ, সংগীত মুশফিক লিটুর। ভিডিও পরিচালনায় চন্দন রায়চৌধুরী।

অ্যাডবক্স থেকে প্রকাশিত মিক্সড ‘ডিজে রাহাত উইথ স্টারস’-এ বেরিয়েছে ন্যান্সির গান ‘বন্ধু’। এই প্রতিষ্ঠান থেকে আরো এসেছে ন্যান্সি ও নবীন গায়ক শাহিরদ বেলালের মিউজিক ভিডিও ‘দোজাহান’।

চলচ্চিত্রেও শোনা গেছে ন্যান্সির কণ্ঠ। ‘বসগিরি’ ছবিতে ন্যান্সি ও ইমরানের গাওয়া ‘কোনো মানে নেই তো’ গানের সঙ্গে নেচেছেন শাকিব খান ও বুবলি। আর মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘সুলতানা বিবিয়ানা’য় হাবিব-ন্যান্সির গাওয়া ‘তুমি আমার’-এর অডিও শোনা গেছে জিপি মিউজিকে। ন্যান্সি বলেন, ‘নিজের অ্যালবামের বাইরে বিভিন্ন মিক্সড এবং ছবির গানের জন্য নিয়মিতই ডাক পাই। যেগুলো পছন্দ হয় কণ্ঠ দিই। এবার যে গানগুলো এসেছে, বেশির ভাগই মেলোডি ধাঁচের। একেকজন একেকটি গান গ্রহণ করছেন। শিল্পীর জন্য এটা  অন্য রকম এক আনন্দ!’

ঈদের পঞ্চম দিন দেশ টিভির লাইভে গেয়েছেন ন্যান্সি। চ্যানেল নাইনের ‘মিউজিক লাউঞ্জ’ অনুষ্ঠানেও ছিল তাঁর পরিবেশনা। চাইলে আরো কয়েকটি অনুষ্ঠানে গাইতে পারতেন। তবে সুযোগটি নেননি। ‘কাছাকাছি সময়ে এত চ্যানেলে গাওয়ার পক্ষপাতী নই আমি। একই শিল্পীকে বিভিন্ন চ্যানেলে ঘুরেফিরে দেখলে কিন্তু মানুষ বিরক্ত হয়। সে কারণে টিভিতে আর কোনো অনুষ্ঠানে গান করিনি’—বলছিলেন তিনি।

জীবনে বেশ কয়েকবার রাজশাহীতে ঘুরতে গেছেন নেত্রকোনায় জন্ম নেওয়া এই শিল্পী। তবে গান করার জন্য আমের শহরে কখনো যাওয়া হয়নি। সেই আক্ষেপ এবার ঘুচতে যাচ্ছে। আগামীকাল প্রথমবারের মতো রাজশাহীর কোনো শোতে গাইবেন। কৌশলগত কারণে বিস্তারিত না বললেও শোটি নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাসের কথা জানান।

বাংলাদেশের শিল্পীরা গানের জন্য রয়ালটি পান না। গাওয়ার সময় এককালীন যা পান, সেটা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। এ ক্ষেত্রে একটা ব্যতিক্রমী উদাহরণের কথা খুব আগ্রহ নিয়ে বললেন ন্যান্সি, “৯ মাস আগে গানচিলের ব্যানারে ‘আমি ছুঁয়ে দিলেই’ শিরোনামের একটি গানের ভিডিও আসে আমার। আসিফ ইকবালের কথায় সুর করেন নকীব খান। গানটির জন্য আমরা চুক্তিবদ্ধ হই। প্রায় ১০ লাখবার ইউটিউবে গানটি শোনা হয়েছে। গানটির জন্য আমি এরই মধ্যে প্রায় এক লাখ টাকা পেয়েছি। এই সিস্টেম যদি সবখানে থাকত, আমরা শিল্পীরা আরো লাভবান হতাম। গানের প্রতি সবার ভালোবাসাটাও আরো বাড়ত। ’


মন্তব্য