kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ভালো লাগা ঈদ নাটক ও টেলিফিল্ম

ঈদে টিভি চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত হয়েছে চার শতাধিক নাটক ও টেলিফিল্ম। কেমন হয়েছে সেগুলো? ঈদ নাটকের পরিচালক ও অভিনয়শিল্পীরা বলেছেন তাঁদের ভালো লাগা একটি নাটক-টেলিফিল্ম নিয়ে। শর্ত ছিল, নিজের কাজ নিয়ে কিছু বলা যাবে না...

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ভালো লাগা ঈদ নাটক ও টেলিফিল্ম

‘ভালবাসার পংক্তিমালা’ নাটকে টয়া ও তাহসান

সৌদের ‘লুকোচুরি গল্প’

 

শিহাব শাহীন, নির্মাতা

খুব কম নাটক-টেলিফিল্ম দেখতে পেরেছি এবার। আমার নিজেরই বেশ কয়েকটি নাটক-টেলিফিল্ম প্রচারিত হয়েছে।

অন্যের ভালো কাজ বেছে নিতে হলে বলব বদরুল আনাম সৌদের ‘লুকোচুরি গল্প’র কথা। এখানে অভিনয় করেছেন সুবর্ণা মুস্তাফা ও সাজু খাদেম। দুজনই আমার ভীষণ পছন্দের। কমেডি নাটক, কিন্তু ভাঁড়ামি নেই। নির্মাতা মুনিশয়ানা দেখিয়েছেন এখানেই। নাটক দেখতে দেখতেই সাজু খাদেমকে ফোন করেছি। বললাম, ‘হঠাৎ করে চোখে পড়ল। দেখতে ভালো লাগল। সময়টা নষ্ট হয়নি। ’

 

নিপুণের ‘কমলা রাঙা রোদ’

আফরান নিশো, অভিনেতা

ইচ্ছা থাকলেও অনেক নাটকই দেখতে পারিনি। যা দেখেছি তার মধ্যে কিছু মোটামুটি, কিছু ভালো, কিছু বেশ ভালো। আশফাক নিপুণের ‘কমলা রাঙা রোদ’ দেখে তৃপ্তি পেয়েছি। পরিচালকের সব কিছুতেই পরিমিতিবোধ, ক্যামেরার কাজ থেকে গল্প বলার ঢং—সব কিছুই ভালো। চোখের ভালো লাগা বলতে যে একটা কথা আছে, এই নাটকে তা পেয়েছি। এখানে রোমান্টিকতা ছিল, কিন্তু ন্যাকামি ছিল না। তিশা ও মাহফুজ আহমেদ ভাই—দুজনই বেশ ভালো অভিনয় করেছেন।

 

শাহীনের ‘মন শুধু মন ছুঁয়েছে’

জাকিয়া বারী মম, অভিনেত্রী

ঈদের নাটক আমি দেখি। এমনকি নাটক দেখার জন্য বাসা থেকেও খুব একটা বের হই না। এবার অনেক জটিল নাটক দেখেছি। শিহাব শাহীনের ‘মন শুধু মন ছুঁয়েছে’ খুবই ভালো লেগেছে। ফেসবুকে পরিচয় সিয়াম ও সাবিলার। ঠিকানা খুঁজে বের করে সাবিলার সঙ্গে দেখা করতে আসে সিয়াম। সাবিলা কথা বলতে রাজি নয়। এ রকম কাহিনী নিয়ে অনেক নাটক হয়েছে, কিন্তু এটার মেকিং এবং সাবিলা-সিয়ামের রসায়ন দেখে মুগ্ধ হয়েছি। সাবিলার কথা আলাদা করে বলতে হয়, ও বেশ সাবলীল অভিনয় করেছে।

 

অনিমেষের ‘দাদার দেশের জামাই’

সারিকা, অভিনেত্রী

নাটকটি দেখে আমি হাসতে হাসতে শেষ। প্রথমত মোশাররফ করিম ভাই, তাঁর কমেডি নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। রওনক হাসান ও ভাবনার অভিনয়ও খুব ভালো লেগেছে। এখানে কলকাতার অভিনয়শিল্পীরাও অভিনয় করেছেন। আর নির্মাণের বিষয়ে কী বলব, অনিমেষদা তো সব সময়ই ভালো কাজ করে থাকেন। এই নাটকের আলাদা বৈশিষ্ট্য ছিল দেশের বাইরে শুটিং। যেসব জায়গায় শুটিং হয়েছে, আমার জানা মতে আগে ওখানে শুটিং হয়নি বা আমি জানি না।

 

নিপুণের ‘তুমি না থাকলে’

শাফায়াত মনসুর রানা, নির্মাতা

নিজের কাজ নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। তবু কিছু নাটক দেখেছি। ভালো নাটকের সংখ্যা খুবই কম, রোজার ঈদের চেয়েও সংখ্যাটা কম। আশফাক নিপুণের নাটক আগে থেকেই দেখি। গল্প বলার আলাদা ভঙ্গি তাঁর। ‘তুমি না থাকলে’ ভালো লেগেছে সে কারণেই। ত্রিভুজ প্রেমের গল্পের মোড়গুলো বেশ সুন্দর। মেহজাবিন দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন। ইরেশ ভাই তাঁর মতো করে চেষ্টা করেছেন। আফরান নিশো এ সময়ের সবচেয়ে ট্যালেন্টেড অভিনেতা। তাঁর কাছে এক্সপেকটেশন অনেক বেশি। এখানে সেটা পাইনি। এলিটার গানগুলো অসাধারণ।

 

রানার ‘এক্সওয়াইজেড রিটার্নস’

মাবরুর রশীদ বান্নাহ, নির্মাতা

এবার ঈদে ৫০টির মতো নাটক দেখেছি। কিন্তু ভালো লাগা নাটকের সংখ্যা খুবই কম। এ নাটকটির কথা আলাদাভাবে বলা যায়। শাফায়াত ভাইয়ের কাজ আমার বরাবরই ভালো লাগে। আর এ কাজটার জন্য ঈদের আগে থেকেই অপেক্ষা করে ছিলাম। প্রথম পার্টটাও ভালো লেগেছিল বলে এবারের পর্বের জন্য অনেক এক্সপেকটেশন ছিল। আমি তার পুরোটা পেয়েছি। থ্রিলার ধাঁচের নাটক। গল্প ও উপস্থাপনায় ভিন্নতা ছিল। আর জন ভাইয়ের অভিনয়েরও আলাদাভাবে প্রশংসা করতে হয়। ঈদ ধারাবাহিক ‘অ্যাভারেজ আসলামের বিবাহ বিভ্রাট’ও বেশ এনজয় করেছি।

 

শাহীনের ‘ভালবাসার পংক্তিমালা’

সাবিলা নূর, অভিনেত্রী

দুর্দান্ত কাস্টিং। ইরেশ যাকের-মিথিলা, তাহসান-টয়া, অপূর্ব-মম। এঁরা সবাই আমার খুব প্রিয়। পরিচালক শিহাব শাহীন ভাইয়াকে বলা যায় কিং অব রোমান্স। তাঁর কাজ বরাবরই আমার পছন্দের। এখানে তিনি ভালোবাসার ভালো-খারাপ বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন। তিনটা কাপলের ভালোবাসার একটা জার্নি দেখানো হয়েছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভালো লেগেছে। এন্ডিংটা একটু বেশিই ভালো। আর তাহসান ভাইয়ের গাওয়া টাইটেল সংটা প্রতিদিন যে কতবার শুনি, তার হিসাব নেই।


মন্তব্য