kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আবারও উড়োজাহাজে সওয়ার

‘কাস্ট অ্যাওয়ে’র পর আবারও বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে তৈরি ছবিতে টম হ্যাংকস। এবার হাডসন নদীতে জরুরি অবতরণকারী বিমানের পাইলটের সিটে টমকে বসিয়েছেন ক্লিন্ট ইস্টউড। ‘সলি’ মুক্তির আগে টম হ্যাংকসকে নিয়ে লিখেছেন নাবীল অনুসূর্য

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আবারও উড়োজাহাজে সওয়ার

টম হ্যাংকসের অভিনীত অন্যতম সেরা ছবি ‘কাস্ট অ্যাওয়ে’ শুরুই হয় বিমান দুর্ঘটনা দিয়ে। সেবার ফেডেক্সের কর্মী চাক নোলান্ড বিমান দুর্ঘটনায় এক নির্জন দ্বীপে আটকা পড়েছিলেন।

শুধু সেই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি ওজন বাড়িয়েছিলেন ২৫ কেজিরও বেশি। পরে আবার কমিয়েছিলেনও। এ ছাড়া ওজন বাড়াতে হয়েছিল ‘এ লিগ অব দেয়ার ওন’-এর জন্যও। তবে সেটা এতটা নয়, মাত্র ১৫ কেজির মতো। ‘ফিলাডেলফিয়া’য় আবার উল্টো ওজন কমাতে হয় তাঁকে। তবে স্রেফ ওজন বাড়ানো বা কমানো দিয়ে টমকে বোঝানো যায় না। তিনি অভিনয়ের ক্ষেত্রে তার চেয়েও অনেক বেশি আন্তরিক। আর সে জন্যই নির্দ্বিধায় ‘জেরি ম্যাগিউর’ ও ‘দ্য শশাঙ্ক রিডেম্পশন’-এর মতো সিনেমা হাতছাড়া করতে পারেন। কারণ তখন তিনি ‘ফরেস্ট গাম্প’-এ ডুবে আছেন। তারপর হাতে আছে ‘দ্যাট থিং ইউ ডু’। তাতে তাঁর দায়িত্ব শুধু অভিনয় নয়, পরিচালনাও। কাজেই অমন অসাধারণ দুটি সিনেমা ছেড়ে দিতে হয়। অভিনয়ের প্রতি তাঁর এই নিবেদনের প্রতিদান পেয়েছেন। পাঁচবার অস্কারের জন্য মনোনীত হয়ে জিতেছেন দুইবার। তা-ও পর পর। এই কীর্তি আছে আর মাত্র একজনের—স্পেন্সার ট্রেসি। সেও ১৯৩৭-৩৮ সালে। গোল্ডেন গ্লোব জিতেছেন চারবার। সব মিলিয়ে অ্যাওয়ার্ড ও সম্মাননা পেয়েছেন এক শরও বেশি। ২০০২ সালে আমেরিকান ফিল্ম ইনস্টিটিউট তাঁকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করে। তাঁর হাতে স্মারক তুলে দেন স্টিভেন স্পিলবার্গ। এই সম্মাননা তাঁর মতো কম বয়সে পায়নি আর কেউ। অভিনীত সিনেমাগুলোর ব্যবসা করার হিসাবেও কম যান না তিনি, আছেন শীর্ষ দশেই। তার পরও কিন্তু হ্যাংকসের পা মাটিতেই আছে। নিজের ক্যারিয়ারের বর্ণনায় বিনয়ের সঙ্গে বলেন, ‘আমি এই তো, ২০টার বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছি, তার মধ্যে পাঁচটা হয়তো ভালো হয়েছে। ’

টম হ্যাংকস নিজে আমুদে প্রকৃতির। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের সিনেমাগুলোতেও তার স্বাক্ষর পাওয়া যায়। এমনকি ২০০২ সালে ব্রিটেনের কিংবদন্তি কমেডি দল মন্টি পাইথনের একটি কমেডি স্কেচেও অভিনয় করেছিলেন তিনি। জর্জ হ্যারিসনকে ট্রিবিউট করা সেই স্কেচের নাম ছিল ‘কনসার্ট ফর জর্জ’। তবে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় পর্বে এসে তিনি একের পর এক সিরিয়াস সিনেমা করতে থাকেন। ব্যক্তিজীবনেও পালন করতে শুরু করেন নানা গুরুদায়িত্ব। পরিবেশ ও প্রকৃতির নানা ইস্যু নিয়ে কাজ করেন। কথা বলতে শুরু করেন সামাজিক নানা ইস্যু নিয়েও। তাঁর সিনেমাগুলোতেও সেসব চিন্তাভাবনার প্রতিফলন পাওয়া যেতে থাকে। তেমন ভাবনা কাজ করেছে ‘সলি’তেও। সিনেমাটি সম্পর্কে তিনি নিজেই বলেছেন, ‘এখনকার রাজনৈতিক বাস্তবতাটাই এমন যে মানুষ মানুষের ওপর বিশ্বাস রাখতে পারছে না। তারা কেউ কারো জন্য কিছু করছে না। সবাই শুধু নিজেরটাই দেখছে। কিন্তু সেটা একেবারেই ভুল কথা। মানুষ এখনো মানুষই আছে। এখনো মানুষের ওপর বিশ্বাস রাখা যায়। (সলি) সিনেমাটাতে এই কথাগুলোই দৃঢতার সঙ্গে উচ্চারিত হয়েছে। ’

বিমান দুর্ঘটনার সত্যি কাহিনীর ভিত্তিতে নির্মিত ‘সলি’। এই সলি ছিলেন দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটির পাইলট। তাঁর কৃতিত্বেই ২০০৯ সালে বিমানটির শ দেড়েক যাত্রী বেঁচে যায়। উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই তিনি বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটি বুঝতে পারেন। এরপর সোজা হাডসন নদীতে জরুরি অবতরণ করেন। অলৌকিকভাবে সব যাত্রী বেঁচে যায়, জাতীয় বীর হয়ে ওঠেন সলি। পরে এই অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখেন আত্মজীবনী ‘হায়েস্ট ডিউটি’, যেটা অবলম্বনে তৈরি হয়েছে ছবিটি।


মন্তব্য