kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

পাগলা ভক্ত

তারকাদের ভক্ত থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে সব ভক্ত এক রকম নয়, কেউ কেউ ‘ক্রেজি ফ্যান’। তাহসান, আরিফিন শুভ ও বিদ্যা সিনহা মিম বলেছেন তাঁদের ক্রেজি ফ্যানের কথা...

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



পাগলা ভক্ত

ক্রেজি ফ্যানের সঙ্গে তাহসান

চাকরি ছেড়ে দিয়ে আমার সঙ্গে দেখা করতে এলো

তাহসান রহমান খান

‘ইউনিক্লো’ নামের একটা ফ্যাশন হাউসের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর আমি। ওরা একটা অফার দেয়, নির্দিষ্ট পরিমাণ পোশাক কিনলে আমার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ করে দেবে।

এমন ২০ জনের সঙ্গে আমি দেখা করি। তাদের সবাই আমার ফ্যান। বিশেষ যে ভক্ত তাঁর নাম এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। আড্ডায় সবার সঙ্গে কথা বলছিলাম। সবার গল্পই শুনছিলাম। তাঁকে অনেকক্ষণ ধরে দেখছি অন্যমনস্ক। জিজ্ঞেস করি, আপনার কি কোনো সমস্যা? বলেন, ‘না তেমন কোনো সমস্যা নয়। আমি গাজীপুরে একটা কম্পানিতে চাকরি করি। আপনার সঙ্গে দেখা করব বলে ছুটি চেয়েছিলাম, কিন্তু পাইনি। চাকরিটা ছেড়ে দিয়ে আপনার সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। ’ কথায় কথায় বুঝলাম চাকরিটা তাঁর জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। শুধু আমার প্রতি ভালোবাসার জন্য, আমাকে একবার দেখার জন্য চাকরি ছেড়ে চলে এসেছেন। আমি তাঁর দিকে থ হয়ে তাকিয়ে থাকলাম। ভাবলাম, আমি কে? আমার জন্য একটা মানুষ কেন এতটা ত্যাগ করবেন! সেদিনের পর থেকে সবাইকে বলি, ফ্যান, ফলোয়ার যা-ই হোন না কেন নিজের পরিবার, নিজের জীবন আগে।

আরেকটা ছেলের কথাও মনে পড়ছে। সিলেটে একটা কনসার্টে গাইতে গিয়েছিলাম। নোয়াখালী থেকে ছেলেটা আমার সঙ্গে দেখা করতে আসে। আমার ম্যানেজার প্রথমে দেখা করতে দেয়নি। পরে শুনি ওই ছেলে সাত ঘণ্টা হোটেলের সামনে আমার জন্য অপেক্ষা করেছিল। শোনার পর আমি নিজেই ওর সঙ্গে দেখা করলাম। ছেলেটি এতটাই আনন্দিত হলো পা ছুঁয়ে সালাম করতে গেল। ধমক দিয়ে তাকে থামালাম। তারপর তাকে স্নেহ করে ছবি তুললাম ওর সঙ্গে।

 

মেয়েটা সুস্থ হয়ে উঠল

আরিফিন শুভ

গত বছরের একটা ঘটনা। ক্লাস সেভেনে পড়ে একটা মেয়ে, আমার ভীষণ ফ্যান। কী রোগে যেন ও অসুস্থ হয়ে পড়ে। খাওয়া-দাওয়া সব বন্ধ। ডাক্তার জানায় এ রকম চললে অবস্থা ক্রমেই খারাপ হয়ে যাবে। যেভাবেই হোক ওকে খাওয়াতেই হবে। ওর পরিবার জানে যে সে আমার ফ্যান। তারা অনেক কষ্টে নম্বর জোগাড় করে আমাকে ফোন দেয়। মেয়ের অবস্থা বুঝিয়ে বলে। পরে আমি ওই মেয়েকে ফোন দিয়ে কথা বলি। খাওয়ার জন্য অনুরোধ করি। আমার অনুরোধ রাখার জন্য অনিচ্ছা সত্ত্বেও খায়। মেয়েটা এভাবে সুস্থ হয়ে ওঠে। আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা, আমাকে এটুকু ক্ষমতা দেওয়ার জন্য। মানুষের এত ভালোবাসা পাওয়ার জন্য।

 

হাত কেটে ভালোবাসা

বিদ্যা সিনহা মিম

সাধারণত মেয়ে তারকাদের ফ্যান হয় ছেলেরাই। অথচ আমার বেলায় উল্টো। যত ক্রেজি ফ্যান আছে তার শতকরা ৯০ ভাগই মেয়ে। এবারের জন্মদিনে এক মেয়ে ইয়া বড় এক কেক পাঠিয়েছে। নাম লেখেনি। কেকের ওপর লেখা ‘হ্যাপি বার্থ ডে, তোমার ছোট বোন’। কিছুদিন ধরে দেখছি এক মেয়ে তার ফেসবুকে যত স্ট্যাটাস দিচ্ছে তার সবই আমাকে নিয়ে। কিছুই মাথায় ঢোকে না। তবে এদের চেয়েও অনেক বেশি ক্রেজি অন্বেষা নামের এক মেয়ে। সে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য হাত কেটে আমার নাম লিখেছে। এরপর সেই ছবি তাঁর টুইটারে পোস্ট করেছে। দুই দিন পর খবরটি কানে এলো। আমি ছবিটি দেখলাম। কাটা জায়গাটা হাঁ হয়ে আছে। রক্ত ঝরছে। অনেক বড় ক্ষত। আমি তাঁকে নক করলাম। সঙ্গে সঙ্গে উত্তর। জানতে চাইলাম, ‘এমন কেন করলে?’ সে হাসির একটি ইমো দিল। পরে জানাল, আমার জন্য নাকি সব করতে পারে। হাত কাটা তো সামান্য ব্যাপার। আমি অবাক হয়ে গেলাম। ওকে জিজ্ঞেস করলাম, এতে লাভ কী? বলল, আমার প্রতি তার আলাদা ভালোবাসা জন্মেছে। কখনো নাকি বড় বোন, আবার কখনো অভিভাবক ভাবতে ভালোবাসে। আমার কাছে কিছুই চায় না। শুধু মাঝে মধ্যে ছোট বোনের মতো একটু টেক কেয়ার করতে হবে। পাগলিটার এমন আবদারে সেদিন চোখে জল এসে গিয়েছিল। এমন ভক্ত কেউ পেয়েছে কি না জানি না। তবে আমি গর্বিত। অন্বেষার মতো ছোট বোন পেয়ে খুব ভালো লাগছে। আমি এখন অস্ট্রেলিয়ায়, এখানে এসেও তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। এতে ও ভীষণ আনন্দ পায়। তাকে আনন্দ দিতে আমারও ভালো লাগে।


মন্তব্য